মোবাইল স্লো হওয়ার কারণ – মোবাইল হ্যাং হলে কি করতে হবে

মোবাইল স্লো হলে কি করব? এই প্রশ্নটিই প্রায় বেশিরভাগ মোবাইল ব্যবহারকারী করে থাকে। যদি আপনার মোবাইলে স্লো হয় এবং ফোন স্লো কাজ করে, তাহলে আজকেই আর্টিকেলে মোবাইল হ্যাং হলে কি করতে হবে এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

এর সাথে সাথে এন্ড্রয়েড মোবাইল স্লো হওয়ার কারণগুলিও আমরা জেনে নেব। যার মাধ্যমে মোবাইল স্লো হওয়ার কারণগুলি জেনে নিয়ে, আপনি খুব সহজেই আপনার মোবাইল হ্যাং হওয়া থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

সব এন্ড্রয়েড মোবাইল এর মধ্যেই limited ram এবং processing power থাকে। কিন্তু যদি আপনি আপনার ডিভাইসের capacity এর বাইরে যদি আপনার মোবাইলকে প্রেসার দেন তাহলে সেটি অবশ্যই হ্যাং করবে।

সূচিপত্র

মোবাইল স্লো হওয়ার কারণ

আজকাল বেশিরভাগ মানুষই এন্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহার করে থাকে। এবং প্রত্যেকটি মানুষের মোবাইল বিভিন্ন কারণের জন্য স্লো এবং হ্যাং হয়ে থাকে।

মোবাইল স্লো হওয়ার কারণ গুলি হল –

  1. মোবাইলের মেমোরি ভর্তি হয়ে যাওয়ার পর গেম ইন্সটল করা
  2. মোবাইলের Ram ভর্তি হয়ে যাওয়ার পর গেম খেলা।
  3. মেমোরি কার্ডের হিসাবে অ্যাপ্লিকেশন এবং গেম ডাউনলোড না করা।
  4. পাওয়ারফুল অ্যাপ্লিকেশন মোবাইলে ইন্সটল করে রাখা।
  5. Log file, cookies, cache মোবাইল থেকে ডিলিট না করা।
  6. Third party launcher, live wallpaper install করে রাখা।

এই সকল জিনিসগুলো যদি আপনার মোবাইলে করা হয় তাহলে আপনার মোবাইলটা স্লো হয়ে যাবে।

মোবাইল হ্যাং হলে কি করতে হবে – মোবাইল হ্যাং হলে করণীয় কাজ

১. Check Device RAM & Stop Multitasking – একসাথে অনেক কাজ করা বন্ধ রাখুন

কোন এপ্লিকেশন ডিভাইসের মধ্যে চালু করার জন্য সবথেকে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো মোবাইলের RAM। যদি নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন চালানোর জন্য আপনার মোবাইলে Ram না থাকে তাহলে, আপনার মোবাইলটি হ্যাং হয়ে যাবে এবং পরবর্তীকালে স্লো হবে।

এইজন্য আপনি আপনার মোবাইলের সেটিং এ গিয়ে multitasking (একসাথে অনেক অ্যাপ্লিকেশন চলা) বন্ধ করুন। যার ফলে মোবাইলের Ram সঞ্চয় হবে এবং নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনটি প্রসেস করার জন্য Ram এর ঘাটতি হবে না।

২. Stop Live Wallpaper – লাইভ ওয়ালপেপার বন্ধ করুন

এডাল মোবাইলে লাইভ ওয়ালপেপার, CPU এর উপর অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করে। কারণ লাইভ ওয়ালপেপার কে সর্বদা চালু রাখার জন্য ডিভাইসের প্রসেসর সর্বদা ব্যস্ত থাকে। যার ফলে অন্যান্য কাজ করবার সময় প্রসেসরের ওপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি হয়।

এ জন্য যদি মোবাইল হ্যাং সমস্যা দূর করতে চান, তাহলে মোবাইল থেকে অবশ্যই Live Wallpaper সরিয়ে, simple wallpaper ব্যাবহার করুন।

মোবাইল ওয়ালপেপার ডাউনলোড করবার কিছু সাইটের তালিকা এখানে পেয়ে যাবেন। আপনি চাইলে কোয়ালিটি পূর্ণ ওয়ালপেপার এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

৩. Delete Apps Cache – অ্যাপস cache মুছুন

কোন Application মোবাইলে চালু থাকার সময়, junk file তৈরি করে। যার কারণে পরবর্তীকালে ফোন মেমোরির ওপর চাপ পড়ে।

কারণ এটি ফোন মেমোরির ওপর জমা হয়ে storage space কমিয়ে দেয়। যার কারণে অনেক অ্যাপ্লিকেশন সঠিকভাবে মোবাইল Run হয়না।

এইজন্য ডিভাইসের স্টোরেজ কে ফ্রী করবার জন্য মোবাইলের সেটিং এ গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনের junk file/cache গুলিকে remove করুন।

৪. Remove History & Cookie’s from Browser – ব্রাউজার ডাটা মুক্ত রাখুন

যদি আপনি বেশিরভাগ সময় মোবাইলের ওয়েব ব্রাউজার এর সাহায্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে, ব্রাউজার এর মধ্যে অনেক সার্চ হিস্টোরি এবং cache জমা হতে থাকে। যার কারণে আমার মোবাইল খুব slow কাজ করে।

কারণ রেজাউল এর সাহায্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করার ফলে সেই সমস্ত cache গুলি মোবাইলে মেমোরি কার্ডে জমা হয়।

যদি আমি এন্ড্রয়েড মোবাইলকে ফাস্ট করতে চান তাহলে এই সমস্ত History & Cookie’s গুলি remove করুন।

এর জন্য নির্দিষ্ট ওয়েব ব্রাউজার খুলে নিয়ে setting অপশন থেকে cache & history অপশনে যাওয়ার পর, clear data করে দিন।

৫. Use anti-virus Application on Device – anti-virus ব্যবহার করুন

মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময়, ইন্টারনেট থেকে কখনো কখনো ভাইরাস, মোবাইলের মধ্যে প্রবেশ করে। যার ফলে মোবাইল অধিক পরিমাণে হ্যাং করা শুরু করে।

এই জন্য মোবাইলের মধ্যে একটি trusted anti-virus application install করে রাখুন। যার মাধ্যমে device scan হয়ে, ডিভাইস ভাইরাসমুক্ত হয়ে যাবে।

আপনি চাইলে Playstore থেকে যে কোনো একটি antivirus application, install করতে পারেন।

৬. Keep Device updated – ডিভাইস আপডেট রাখুন

যদি আপনার মোবাইল পুরনো হয়ে থাকে এবং আপনি ডিভাইস এর operating system কে update না করে থাকেন, তাহলে আপনার মোবাইল স্লো হয়ে যাবে।

কারণ কোন নতুন এন্ড্রয়েড ভার্সন আসার পর ডিভাইসের security feature, bugfix, এবং speed boost হয়ে যায়। এইজন্য আপনি আপনার মোবাইলটিকে অবশ্যই আপডেট করুন। মোবাইল আপডেট করার উপায়টি এখান থেকে দেখতে পারেন।

এছাড়া আপনি মোবাইলের সেটিং অপশন থেকে এবাউট ফোন অপশনে গিয়ে সফটওয়্যার আপডেট অপশন এর উপর হাত দিলেই, আপনার মোবাইলটি আপডেট হয়ে যাবে।

৭. Delete unwanted Apps – অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন ডিলিট করুন

যদি আপনি আপনার মোবাইলে এমন কিছু অ্যাপ্লিকেশন install করে রেখেছেন যেগুলি আপনি ব্যবহার করেন না, তাহলে সেগুলো এক্ষুনি ডিলিট করে দিন। কারণ অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন ডিভাইসের স্টোরেজের উপর শুধু শুধু প্রেসার সৃষ্টি করে প্রসেসরের ওপর চাপ দেয়।

এর সাথে সাথে সেই অ্যাপ্লিকেশনের cache এবং data গুলিও মোবাইলের মধ্যে জমা হয়ে থাকে। যেটি ডিভাইসের স্টোরেজ কে ভর্তি করে রাখে।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন মোবাইল থেকে ডিলিট করবার জন্য ডিভাইসে সেটিং থেকে অ্যাপস অ্যান্ড নোটিফিকেশন অপশনে গিয়ে, নির্দিষ্ট এপ্লিকেশনটি uninstall করে দিন। যদি আপনি চান প্রয়োজনীয় অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন গুলি এখান থেকে দেখে নিতে পারেন।

৮. Close background Application – ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপ্লিকেশনগুলি থামান

অনেক সময় মোবাইলের মধ্যে একসাথে অনেকগুলো এপ্লিকেশন চালালে, মোবাইলের লাইট অফ হয়ে গেলেও ব্যাকগ্রাউন্ড এ অ্যাপ্লিকেশনগুলি চলতেই থাকে।

এবং কিছুক্ষণ পর যদি মোবাইল কে পুনরায় চালু করেন তাহলে, সেই সমস্ত অ্যাপ্লিকেশনগুলি মোবাইলের প্রসেসর কে চাপ সৃষ্টি করে এবং পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়।

এই জন্য নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনের কাজ সম্পন্ন করার পর এই অ্যাপ্লিকেশনটি পুরোপুরি close করে, তারপর নতুন অ্যাপ্লিকেশন চালু করুন।

৯. Use Lite Version of any Application – লাইট ভার্সন ব্যবহার করুন

আজকাল অ্যাপ্লিকেশন ডেভলপার কোম্পানী অনেক অ্যাপ্লিকেশনের লাইট ভার্সন তৈরি করেছে। যে সমস্ত অ্যাপ্লিকেশানগুলি less processing power এর ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।

যদি আপনি ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম এর মত সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহার করতে চান তাহলে, প্রত্যেকটি অ্যাপ্লিকেশনের লাইট ভার্সন খুঁজে নিয়ে সেগুলো ব্যবহার করুন।

বেশিভাগ অ্যাপ্লিকেশন এবং গেমের লাইট ভার্সন প্লেস্টোরে আপনি পেয়ে যাবেন। যেগুলো 2G কানেকশান এর মধ্যে ভালোভাবে প্লে হয় এবং মোবাইল হ্যাং হওয়ার চান্স ও কমে যায়।

১০. Try to update all Application – অ্যাপ্লিকেশন গুলি আপডেট রাখুন

মোবাইলের অপারেটিং সিস্টেম বা সিস্টেম সফটওয়্যার আপডেট করার সাথে সাথে, মোবাইলে ইন্সটল থাকা সমস্ত অ্যাপ্লিকেশন গুলির ওপরও নজর রাখুন।

প্রত্যেকদিন এপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিগুলি মোবাইল এবং অ্যাপ্লিকেশন পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য সেগুলিকে আপডেট করার সুযোগ করে দেয়।

যদি আপনি কোনো অ্যাপ্লিকেশন এর পুরনো ভার্সন ব্যবহার করে থাকেন তাহলে, সর্বদা চেষ্টা করুন সেগুলিকে নতুন ভার্সনে আপডেট করার। কারণ এপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট কম্পানি গুলি, অ্যাপ্লিকেশন কে আপডেট করার পর সেগুলি যাতে, কম মেমোরি এর মধ্যে ভালোভাবে কাজ করে তার ওপর নজর দেয়। এই সকল অ্যাপ্লিকেশনগুলি যদি আপনি আপডেট করে নেন তাহলে আপনার মোবাইলের CPU power অনেক গুণ বেড়ে যাবে।

১১. Refresh the Mobile Phone – মোবাইল ফোন রিস্টার্ট করুন

যদি আপনি আপনার মোবাইল ফোন প্রত্যেকদিন একবার করে রিফ্রেশ করেন তাহলে, অনেক ধরনের অপ্রয়োজনীয় ডাটা ফোন থেকে মুছে যাবে। যার করণা মোবাইলটি আগের তুলনায় ভালোভাবে কাজ করবে। মোবাইল টিকে রিফ্রেশ করার জন্য আপনি মোবাইলটিকে দিনে একবার Restart করুন।

১২. Install Application on SD card – মেমোরি কার্ডে অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করুন

অনেক অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী, ডিভাইসের internal স্টোরেজ এর মধ্যে এপ্লিকেশনগুলোকে ইনস্টল করে। জার করণে ফোন মেমোরির ওপর pressure সিষ্টি হয়।

কারণ, একটি এপ্লিকেশন চালানোর জন্য যে পরিমাণ স্টোরেজ এর প্রয়োজন হয় সেটি অনেক সময় প্রসেসর খুঁজে পায়না।

মোবাইলের প্রসেসর সর্বদা ইন্টারনাল স্টোরেজ এর উপর ভিত্তি করে কাজ করে। যদি আপনি আগে থেকেই অনেক অ্যাপ্লিকেশন সেখানে জমা করে রাখেন, তাহলে নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন চালু করার জন্য স্টোরেজ ক্যাপাসিটি কম পড়ে যায়।

এইজন্য setting অপশন থেকে storage অপশনে গিয়ে default write disk অপশনটিতে SD card সিলেক্ট করুন। এর ফলে পরবর্তীকালে কোনো অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল হলে সেটি ইন্টারনাল স্টোরেজ এ না হয়ে, এক্সটারনাল স্টোরেজ এ হবে।

১৩. Move Installed Application – এক্সটার্নাল স্টোরেজে অ্যাপ্লিকেশনগুলি সরান

ডিভাইসের ইন্টারনাল স্টোরেজ খালি করবার জন্য, যে সমস্ত অ্যাপ্লিকেশনগুলি প্রথম থেকেই ইন্টারনাল স্টোরেজে স্টোর হয়ে আছে সেগুলিকে external storage এ move করুন।

যার ফলে সমস্ত অ্যাপ্লিকেশন ডাটা গুলি external স্টোরেজে জমা হবে এবং প্রসেসরটি internal স্টোরেজ এর সাথে মুক্ত ভাবে কাজ করতে পারবে।

এর জন্য setting অপশন থেকে apps অপশনে গিয়ে অ্যাপ্লিকেশন গুলি সরিয়ে নিন।

১৪. Reset Your Phone – মোবাইল রিসেট দিন

যদি ওপরের দেওয়া সমস্ত trick গুলি ফলো করার পরেও আপনার ডিভাইস স্লো হয়ে থাকে, তাহলে আপনার জন্য অবশিষ্ট একটি অপশন এখনো আছে। সেটি হলো Mobile Reset করা।

যদি আপনি device reset করেন তাহলে আপনার মোবাইলটি থেকে সমস্ত ডাটা এবং অ্যাপ্লিকেশন remove হয়ে যাবে। এবং কেনার সময় মোবাইলটি যেমন অবস্থায় ছিল, সেইরকম হয়ে যাবে।

আপনার মোবাইলের যত message, Contact, file Apps, Photo, Video, Ringtone, Song আছে সবকিছু internal মেমোরি থেকে মুছে গিয়ে, full processing speed এর সাথে চালু হবে।

এই জন্য সেটিং অপশন থেকে Reset অপশনে গিয়ে ফোনটি reset করে দিন।

পুরনো মোবাইল এর Speed কিভাবে বাড়াবেন?

  1. মোবাইল থেকে অপ্রয়োজনীও photo, video, song ডিলিট করে external এবং internal storage কে free রাখুন।
  2. Application এবং browser cache & junk file remove করুন।
  3. Background running application গুলিকে close করার পর নতুন অ্যাপ্লিকেশন চালু করুন।
  4. Custom ROM install করুন।
  5. Auto-Sync off করুন।
  6. System aaps গুলিকে সর্বদা updated রাখুন।
  7. Animation disable করুন।
  8. Unused application uninstall করে file থেকে delete করে দিন।
  9. Data saver option কে চালু রাখুন।

উপসংহার

আশাকরি অপরের ইনফর্মেশন থেকে আপনি মোবাইল স্লো হওয়ার কারণ গুলো জানতে পেরেছেন এবং মোবাইল হ্যাং হলে কি করতে হবে – মোবাইল হ্যাং হলে করণীয় কাজ গুলি কি কি এগুলো বুঝতে পেরেছেন। যদি মোবাইল হ্যাং হওয়া সম্পর্কে আরও কিছু জানতে চান তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাবেন।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করতে চান!
  •  
  •  
  •  
  •  

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment