মোবাইলের ভালো দিক এবং মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক

আগের আর্টিকেলে আমি মোবাইল কি, মোবাইলের জনক কে এবং ইতিহাস সম্পর্কে বলেছিলাম। আজ আমি আপনাদের জানাবো মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার, ভালো না খারাপ। যদি আপনি ৬ থেকে ১০ ঘন্টা অবধী মোবাইল ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আজ এখানে আপনি অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলাফল কি হতে পারে, মোবাইল ফোনের উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। তারপর নিজেই ঠিক করবেন মোবাইল ব্যবহার করা আপনার পক্ষে উপযোগী না অপযোগী।

সূচিপত্র

মোবাইলের ভালো দিক এবং ক্ষতিকর দিকগুলি কেন জানার দরকার?

আজকের দিনে প্রায় প্রত্যেক মানুষই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকে। এবং মোবাইল মানুষের জীবনের একজন চলার সাথী ও সঙ্গী হয়ে গেছে। মোবাইলের উপর মানুষ এতটা নির্ভরশীল হয়ে গেছে যাকে ছাড়া মানুষ অচল হয়ে পড়ে। আজকের দিনে কোনো মোবাইল ব্যবহারকারীর কাছ থেকে যদি পাঁচ মিনিটের জন্য মোবাইল ফোন কেরে নেওয়া হয়, তাহলে আপনি ভালভাবে জানেন তার অবস্থা কেমন হবে।

মোবাইল ফোন আমাদের জীবনে অনেক কাজকে সহজ করে দিয়েছে। যেমন অনলাইন থেকে কেনাকাটা করা, বই পড়া, লোকেশন এর সাহায্যে গন্তব্যে পৌঁছানো এরকম অনেক কিছু মোবাইলের সাহায্যে করা যায়। এককথায় মোবাইল হল মানুষের তৈরি সব থেকে আশ্চর্যজনক এক আবিষ্কার।

কিন্তু আমরা সবাই জানি মোবাইল আমাদের জীবনের অনেক কাজকে সহজ সরল করে দিলেও, কোন জিনিসের যেমন ভাল দিকও আছে তেমন তার খারাপ দিকও আছে। এই পরিপেক্ষিতে মোবাইলের ও অনেক ভালো দিক এবং খারাপ দিক নজরে আসবে। এইজন্য যদি আপনি একজন মোবাইল ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তাহলে মোবাইলের ভালো দিক এবং ক্ষতিকর দিকগুলি জানার খুবই দরকার।

মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুবিধা এবং অসুবিধা

আমরা অনেকেই জানি মোবাইল ফোনের উপকারিতা এবং অপকারিতা বিতর্ক প্রায় লেগেই থাকে। ক্লাসমেটরা বলে মোবাইল ব্যবহার করা খুবই ভালো, আবার বাড়ির গার্জেন বলেন বেশি মোবাইল ব্যবহার করা ক্ষতিকর। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক মোবাইলে ভালো এবং খারাপ দিক গুলি কি কি।

মোবাইলের ভালো দিক বা মোবাইল ফোনের উপকারিতা

১) সহজ যোগাযোগ মাধ্যম

আমরা সবাই জানি মোবাইল সাধারণত যোগাযোগ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। যার মাধ্যমে কোন নাম্বারে কল করে তার সাথে ফোনে নেটওয়ার্ক এবং ব্যালেন্স থাকা অবধি কথাবাত্রা বলতে পারি। এর সাথে সাথে মোবাইলের আরেকটি বড় সুবিধা হল এটিকে আমরা নিজের সাথে বা পকেটেভরে যেখানে খুশি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারি।

২) সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ করা যায়

আজকের যুগে সোশ্যাল মিডিয়া এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে সব ধরনের ইনফরমেশন পাওয়া যায়। কোনো খবরের শিরোনাম থেকে, সিনেমা, গান ভিডিও স্ট্যাটাস সবকিছু আমাদের মনোরঞ্জন করে। এবং তার সাথে সাথে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট বানিয়ে নিজের পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে বিনামূল্যে মেসেজ, ভিডিও কল, গান বা ছবি পাঠানো, এই সমস্ত কিছু করা যায়। এবং এইসব খুব কম সময়ের মধ্যে দু তিনটা সুইচ টিপে দিয়ে খুব সহজভাবে করা সম্ভব হয়।

৩) ব্যবসায় সাফল্য নিয়ে আসে

যদি আপনি কোন নতুন ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি মোবাইলের মাধ্যমে আপনার ব্যবসার অ্যাডভার্টাইজমেন্ট থেকে শুরু করে, আপনার ক্লায়েন্টদের সাথে বাড়িতে বসে অনলাইনে মিটিং পর্যন্ত করতে পারবেন। এবং তার সাথে সাথে ইমেইল, ইন্টারনেট, ভিডিও কলিং এর সাহায্যে মোবাইল; এক দেশ থেকে অন্য দেশে অন্যান্য ক্লায়েন্টদের সাথে Deal করা সম্ভব করে তোলে।

৪) অন্যদের স্ট্যাটাস দেখানোর জন্য

আজকের যুগে স্ট্যাটাস জিনিসটি সবাই দেখাতে পছন্দ করে। তাই কোন ব্যক্তির মোবাইল দরকার থাকুক বা না থাকুক, সে কোনো ভালো কোম্পানির মোবাইল কিনে লোককে দেখিয়ে তার স্ট্যাটাসটি মেনটেন করে।

৫) যেকোন সাহায্যের জন্য

যদি আপনি কোনো নতুন জায়গায় পৌঁছাতে চান এবং রাস্তা না জানেন তাহলে মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে সেই জায়গায় খুব সহজে পৌছাতে পারবেন। এবং কোন দরকারী জিনিস ভুলে গেলে আত্মীয় পরিজনদের তার ছবি তুলে মোবাইলে পাঠাতে বলতে পারেন। যদি রাস্তাঘাটে কোনো দুর্ঘটনা হয় তাহলে বাড়িতে ফোন করে তাদের জানাতে পারেন। আপনি আজকের দিনে একটি মোবাইল ব্যবহার করে যে কোন সাহায্য মোবাইলের মাধ্যমে নিতে পারেন।

৬) নতুন কোন ঠিকানা খুঁজে বের করার জন্য

যদি আপনি কোনো হাসপাতাল বা স্কুলে ভর্তি হতে চান বা কাউকে ভর্তি করতে চান, তাহলে আপনি গুগল সার্চের মাধ্যমে যে কোন ঠিকানা খুঁজে বের করতে পারেন। সাথে সাথে সেই জায়গার বিভিন্ন ইনফরমেশন আপনাকে ওই জায়গায় পৌঁছতে সাহায্য করবে। এভাবে আপনি কোনো নতুন জায়গায় ভ্রমণ করার জন্য সেখানকার টার্মস & কন্ডিশন গুলি আগে থেকে জেনে নিয়ে নিজেকে সেই মতো তৈরি করতে পারবেন।

৭) মনোরঞ্জন

আপনি মোবাইলের মাধ্যমে গান শোনা থেকে শুরু করে সিনেমা, সিরিয়াল, খবর এই সব কিছুর মাধ্যমে সময় কাটাতে পারবেন। এর সাথে সাথে বিভিন্ন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম এর মধ্য দিয়ে আপনার পছন্দের যে কোন ভিডিও দেখতে পারেন। এর জন্য আপনার বাড়িতে আলাদা করে টিভি বা রেডিও কেনার প্রয়োজন পড়বে না।

৮) কেনাকাটা করবার জন্য

আজকাল মানুষ অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়ার কারণে বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠেনা। তবে যদি আপনার কাছে একটি মোবাইল থাকে তাহলে আপনি খুব সহজে অনলাইন থেকে কেনাকাটা করতে পারবেন। এবং নিজের বাড়ির ঠিকানায় সেগুলি অর্ডার করতে পারবেন। যার ফলে আপনার অনেক সময় সঞ্চয় হবে।

মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক বা মোবাইল ফোনের অপকারিতা

তাহলে আমরা জেনে গেছি মোবাইল ফোন ব্যবহার করার উপকারিতা গুলি কি কি। এবার আমরা মোবাইল ফোনের খারাপ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

১) বিরক্তিকর জিনিস

আপনি হয়তো দেখে থাকবেন যখন আমরা খেতে বসি বা কোন বিশেষ কাজে ব্যস্ত থাকি তখন আমাদের কাছে ফোন কল এলে, আমরা খুবই বিরক্ত বোধ করি। তাই আমার মতে এটি হলো এক ধরনের বিরক্তিকর বস্তু। যেটা আমাদের মনোযোগ দিয়ে, কোন কাজ করতে দেয় না। তাই যতটা সম্ভব হয় এটাকে আমাদের কাছ থেকে দূরে রাখাই শ্রেয়।

২) দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা

অনেকে গাড়ি চালানোর সময় ফোন এলে তারা এক হাতে গাড়ি চালায় এবং অন্য হাতে ফোন ধরে কথা বলে। এর ফলে অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যায়। এইজন্য যদি আপনি গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল সঙ্গে রাখেন তাহলে সেটিকে সুইচ অফ বা ফ্লাইট মোড করে রাখুন।

৩) স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়

মোবাইল ফোন বেশি ব্যবহার করার ফলে অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। কিছু রিপোর্ট এর কথামতো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষমতা কমে যায়, মস্তিষ্কে টিউমার, শিশুদের ব্লাড ক্যান্সার, ঘুম থেকে বঞ্চনা, মস্তিষ্কের কোষগুলির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এই সমস্ত রোগ গুলি বেশি মোবাইল ব্যবহার করার কারণে হয়ে থাকে।

৪) সময় নষ্ট

অনেক মোবাইল ব্যবহারকারী, দিনের বেশিরভাগ সময়ে মোবাইল ব্যবহার করে কাটিয়ে দেয়। সময় সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো গুরুত্ব থাকেনা। এই জন্য অনেক ছাত্র-ছাত্রী গেম এবং অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে দিনের ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা শুধুমাত্র মোবাইল ব্যবহার করে সময় নষ্ট করে। অনেকে বুঝতেই পারেনা এই সময়ে যে কাজটি তাদের কাছে করা জরুরি, তারা এখন এটা না করলে তাদের ভবিষ্যৎ অনেক খারাপ হতে পারে।

৫) সিকিউরিটি এবং প্রাইভেসি চুরি হয়

ইন্টারনেটে কখনো কখনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার, নিজস্ব ঠিকানা, নাম এগুলি দেওয়ার দরকার পড়ে। কিন্তু ইন্টারনেটে এমন কিছু খারাপ সংস্থা আছে যারা এই সমস্ত ডাটা গুলিকে তাদের নিজস্ব সার্ভারে স্টোর করে নিয়ে, এই সমস্ত ডাটা গুলির সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের খারাপ কাজ করে থাকে।

ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় আপনি বুঝতেই পারবেন না কখন আপনার প্রাইভেসি লিক হয়ে গেছে। তাই অসতর্ক থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে থাকেন।

৬) ভুল তথ্য নেওয়া

ইন্টারনেটে অনেক ভালো সাইট থাকার সাথে সাথে অনেক খারাপ সাইট ও আছে। যারা অনেক ইনফরমেশন ভুল দিয়ে থাকে। অনেক মোবাইল ব্যবহারকারী অনেক ধরনের ওষুধের নাম, ঠিকানা এগুলি ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু কখনো কখনো ভুল ওষুধ এবং ঠিকানার কারণে তারা অনেক বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়।

মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার করলে কি হয়?

অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলাফল খুবই খারাপ হতে পারে। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে আপনার মস্তিষ্কে বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যাধি এমনকি টিউমার পর্যন্ত হতে পারে। সাথে সাথে শিশুরা বেশি মোবাইল ব্যবহার করলে তাদের রক্ততে ব্লাড ক্যান্সার পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।

এবং এর সাথে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার করার কারণে আমাদের রাতের ঘুম নষ্ট হয় এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এবং হয়তো আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন অনেকক্ষণ একভাবে মোবাইল ব্যবহার করার পর নিজের মাথাটিও কেমন ধরে যায়, এবং চারিপাশ ধোঁয়াশা হয়ে যায়।

ছাত্র জীবনে মোবাইল কতটা জরুরি?

যদি আপনি ছাত্র হন তাহলে অবশ্যই আপনাকে মোবাইল সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। কারণ আজকের এই ইন্টারনেটের যুগে আপনি যদি মোবাইল সম্পর্কে না জানেন তাহলে অন্যদের থেকে অনেক পিছিয়ে যাবেন।

তবে আপনার পড়াশোনা এবং সফল ক্যারিয়ারের জন্য যতটা দরকার ঠিক ততটাই মোবাইল ব্যবহার করা উচিত। যদি আপনি শুধুমাত্র গেম বা অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সময় নষ্ট করেন তাহলে কোন লাভ নেই। কারণ এই সমস্ত গেম অ্যাপ্লিকেশন আপনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না।

তাই আপনি গেম খেলে সময় নষ্ট করার থেকে কোন ই-বুক ডাউনলোড করে পড়তে পারেন বা কোন শিক্ষানীয় ভিডিও দেখতে পারেন। সোজা কথায় মানে হল, মোবাইলের সাহায্যে যে জিনিসটি আপনার ভবিষ্যতের জন্য উপকারে আসবে আপনি সেটা করুন। শুধুমাত্র মোবাইল ঘেঁটে সময় নষ্ট করবেন না।

উপসংহার

আশাকরি উপরের আর্টিকেল থেকে আপনি মোবাইলের সুবিধা ও অসুবিধা গুলি ভালো করে বুঝতে পেরেছেন। যদি আপনি ‘মোবাইল ফোনের ভালো মন্দ নিয়ে সংলাপ‘ খুঁজে থাকেন তাহলে ওপরের আর্টিকেলটি আপনার কাজে আসবে। এবং আশা করি আপনি মোবাইলের অসুবিধা গুলো জানার পর মোবাইল ব্যবহার করা কমিয়ে দেবেন। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করতে চান!
  •  
  •  
  •  
  •  

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment