নেটওয়ার্ক কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি – What is Network?

নেটওয়ার্ক কি – নেটওয়ার্কের নাম প্রায় সবাই শুনে থাকবেন। যার মাধ্যমে আজ পুরো পৃথিবীর মানুষ তাদের নিত্যদিনের কাজকে সহজ ও সরল করে তুলেছে। সেইজন্য, আজকের আর্টিকেলে আমরা নেটওয়ার্ক কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি, নেটওয়ার্ক এর ব্যবহার, Wan কি, Man কি, Lan কাকে বলে এই সমস্ত প্রশ্নগুলির উত্তর জানবো। যদি আপনি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে না জানেন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে নিয়ে, নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

নেটওয়ার্ক কাকে বলে?

এক বা একাধিক কম্পিউটার, যেকোন মাধ্যমে একটির সাথে অপরটির জোড়া লাগানোকে বা কানেকশন তৈরি করাকে নেটওয়ার্ক বলে

সোজা ভাষায়, তথ্যের আদান প্রদানের জন্য একটি কম্পিউটারকে অন্য কোনো কম্পিউটারের সাথে জোড়া লাগানোর বা কানেকশন তৈরি করার যে মাধ্যমটি ব্যবহার করা হয়, সেটিকেই নেটওয়ার্ক বলে।

একটি কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে, তথ্যের আদান-প্রদান করার জন্য নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত করা হয়। এবং বিভিন্ন নেটওয়ার্ক টোপোলজি বানিয়ে আলাদা আলাদা জায়গায় কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা হয়।

একটির সাথে, অন্য কম্পিউটার জুড়ে নিয়ে নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে কার্যসম্পাদন করলে, তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং বলা হয়। এইভাবে হাজার হাজার কম্পিউটার একসাথে জুড়ে, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক গঠন করা হয়।

নেটওয়ার্কের সাথে যে সমস্ত কম্পিউটার যুক্ত করা হয়, সেগুলিকে Node বলে। এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর সমস্ত ডাটা যেখানে জমা হয় সেটিকে সার্ভার বলে।

নেটওয়ার্কের উদাহরণ হিসেবে আমরা ইন্টারনেট কে ধরতে পারি। ইন্টারনেট হলো পৃথিবীর সর্ববৃহৎ নেটওয়ার্ক। ইন্টারনেট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।

নেটওয়ার্ক এর অর্থ কি?

দুইবার দুইয়ের বেশি কম্পিউটার, একসাথে জোড়াকে নেটওয়ার্ক বলে। নেটওয়ার্ক এর অর্থ হল, যে কোন মাধ্যমে একটি কম্পিউটার অন্যটির সাথে জোড়া লাগানো

তবে এই জোড়া লাগানোর পদ্ধতিটি তারের সাহায্যে বা তার ছাড়া, এই দুই ভাবেই হতে পারে।

কখনো কখনো নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য Cable বা তারের প্রয়োজন হয়। আবার কখনো cable ছাড়াই, Wireless Network তৈরি করা হয়।

মোবাইল নেটওয়ার্ক কাকে বলে?

দুইয়ের বেশি মোবাইলের মধ্যে কানেকশন ঘটিয়ে যে নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয় তাকে মোবাইল নেটওয়ার্ক বলা হয়।

যখন আমরা একটি মোবাইল থেকে অন্য মোবাইলে ব্লুটুথ এর সাহায্যে গান বা ছবি পাঠাই সেটিও এক ধরনের মোবাইল নেটওয়ার্ক। এছাড়া ওয়াইফাই এর সাহায্যে ইন্টারনেট চালানো, কম্পিউটারে কোন ছবি পাঠানো এই সমস্ত কিছু মোবাইল নেটওয়ার্ক এর সংযোগ ঘটিয়ে করা হয়।

পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নাম কি?

ARPANET হল পৃথিবীর সর্বপ্রথম কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কটি ১৯৬০ সালে তৈরি করা হয়েছিল। এবং এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দুটি কম্পিউটারকে একসাথে জোড়া লাগিয়ে ২৯ অক্টোবর, ১৯৬৯ সালে প্রথম তথ্যের আদান-প্রদান করা হয়।

Network Device এর উদাহরণ

এখানে কিছু নেটওয়ার্ক ডিভাইস এর উদাহরণ দেওয়া হল। এই সমস্ত ডিভাইসগুলি নেটওয়ার্কের কানেকশন তৈরি করতে এবং ডাটা গুলিকে store করে রাখতে সহায়তা করে।

  • কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ
  • মেইনফ্রেম
  • সার্ভার
  • ব্রিজস ও রিপিটার
  • স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট
  • নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড
  • ওয়েব ক্যামেরা
  • ইত্যাদি।

নেটওয়ার্ক কত প্রকার ও কি কি

নেটওয়ার্ক কে বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। এইজন্য কার্যক্রম অনুযায়ী নেটওয়ার্কে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

নেটওয়ার্ক মূলত ছয় প্রকার। সেগুলি হল –

  1. PAN (personal Area Network)
  2. HAN (Home Area Network)
  3. CAN (Campus Area Network)
  4. LAN (Local Area Network)
  5. MAN (Metropolitan Area Network)
  6. WAN (Wide Area Network)

১. PAN (Personal Area Network)

যখন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কাছ থেকে, পার্সোনাল ব্যক্তিগত ভাবে নেটওয়ার্কে নিয়ে থাকে তাকে পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বলা হয়। এই ধরনের নেটওয়ার্ক মূলত দুটি মোবাইলের মধ্যে কানেক্ট করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে:

ধরুন আপনি আপনার মোবাইল এবং আপনার বন্ধুর মোবাইল এর ব্লুটুথ চালু করে দুটোর মধ্যে নেটওয়ার্ক কানেকশন তৈরি করে কোন ছবি বা গান দিচ্ছেন বা নিচ্ছেন। এইসময় দুটি মোবাইলের মধ্যে যে ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হচ্ছে এটি পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক এর মধ্যে পড়ে।

সুতরাং এই ধরনের নেটওয়ার্কে কোন ব্যক্তি তার নিজস্ব ঘরের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে, কম্পিউটার মোবাইল বা হেডফোন এই সমস্ত কিছু, কোন ডিভাইসের সাথে কানেক্ট করে সৃষ্টি করে থাকে।

২. HAN (Home Area Network)

এই ধরনের নেটওয়ার্ক ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে এই ধরনের নেটওয়ার্ক, শুধুমাত্র পার্সোনাল বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা। যখন একটি পুরো পরিবার তার নিজস্ব ঘরের মধ্যে থেকে কোন নেটওয়ার্ক তৈরি করে তখন তাকে হোম এরিয়া নেটওয়ার্ক বলা হয়।

ধরুন আপনি এবং আপনার পরিবার মিলে কম্পিউটারে কোন কাজ করছেন। এবং যেখানে একটি কম্পিউটার থেকে Printers, Tablet, Speakers, Laptops এই সমস্ত কিছুর মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরি করে, কোন নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করেছেন।

উদাহরণ হিসেবে:

ধরুন আপনি আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে কোন, গান শোনার জন্য স্পিকার কানেক্ট করেছেন এবং সেই গান, আপনার পরিবারকে শোনাচ্ছেন। এছাড়া নিজের মোবাইলে Hotspot চালু করে পরিবারের অন্য কোন ব্যক্তিকে Wifi ব্যবহার করতে দিচ্ছেন। এটাও একটি হোম এরিয়া নেটওয়ার্ক এর উদাহরণ।

৩. CAN (Campus Area Network)

আমরা জানি যে ক্যাম্পাস মানি হল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোন ক্যাম্পাস বা প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম করবার জন্য যে ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয় সেটিকে ক্যাম্পাস এরিয়া নেটওয়ার্ক বলা হয়।

এই ধরনের নেটওয়ার্ক কোন প্রতিষ্ঠান বা ক্যাম্পাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এবং এই ধরনের নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ক্যাম্পাসের ছাত্র এবং শিক্ষকরা ব্যবহার করতে পারেন।

তবে এই ধরনের নেটওয়ার্ক, Local Area Network এরই অন্তর্গত।

৪. LAN কাকে বলে (Local Area Network)

কোন নির্দিষ্ট এরিয়ায় নির্দিষ্ট কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য যে ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয় তাকে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা Lan বলা হয়।

কোনো কলেজ, স্কুল, প্রতিষ্ঠান, কল কারখানা, এই সমস্ত জায়গায় কাজ করবার জন্য যখন কম্পিউটারে নেটওয়ার্ক বানিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়, তখন লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়।

এই ধরনের নেটওয়ার্কে কোন প্রধান সার্ভার থাকে যেখানে, নির্দিষ্ট এরিয়ার সমস্ত ডেটা গুলি স্টোর বা জমা করা হয়। এবং সেই সার্ভারের সাথে বাকি কম্পিউটারগুলোর কানেকশন তৈরি করে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হয়। এই ধরনের নেটওয়ার্কের স্পিড বেশি থাকে এবং এ ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি করতে খরচও কম হয়।

LAN এর কাজ কি?

লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক এর কাজ হল, নির্দিষ্ট কোন এরিয়ায় নেটওয়ার্ক তৈরি করে, সেই নির্দিষ্ট জায়গার বিশেষ বিশেষ কাজ গুলিকে সম্পন্ন করা।

নির্দিষ্ট কোনো এরিয়া ব্যতীত অন্য কোন জায়গায় যাতে, নেটওয়ার্ক প্রবেশ করতে না পারে সেই কাজটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক এর দ্বারা করা হয়।

৫. Man কি (Metropolitan Area Network)

কোন নির্দিষ্ট জায়গায়, কয়েক কিলোমিটার এর মধ্যে যখন কোন নেটওয়ার্ক বানানো হয় তখন তাকে মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক বলা হয়। কোন ছোট শহর বা কোন রেলস্টেশন এর মত জায়গায় এই ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়।

এই ধরনের নেটওয়ার্ক, PAN এবং LAN এর মতো ছোট ছোট নেটওয়ার্ক গুলিকে কানেকশন ঘটানোর জন্য তৈরি করা হয়। যার মাধ্যমে সমস্ত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান একসাথে কানেকশন গঠন করতে পারে।

এর মানে হলো, একটি শহরের ছোট-বড় সমস্ত নেটওয়ার্ক গুলোকে একসাথে কানেক্ট করার জন্য মেট্রোপলিটান এরিয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শহরের স্কুল, কলেজ, প্রতিষ্ঠান গুলি একে অপরের সাথে কানেকশন বা যোগাযোগ তৈরি করতে পারে।

৬. Wan কি (Wide Area Network)

পুরো পৃথিবীর মধ্যে নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করার জন্য যে Wide Area Network এর প্রয়োজন হয়। পুরো পৃথিবীর সাথে আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কানেকশন তৈরি করি। তাই ইন্টারনেট হলো ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক এর একটি উদাহরণ।

MAN যেমন LAN ও PAN এর মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে ঠিক তেমনি Wide Area Network; MAN, LAN এবং PAN এর মত সমস্ত নেটওয়ার্কগুলোকে একসাথে কানেকশন তৈরি করতে সাহায্য করে।

পুরো পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক এর ব্যবহার করা হয়। এই network এর মধ্যে কোন কম্পিউটার কানেক্ট করলে সেটি পুরো পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

নেটওয়ার্ক এর সুবিধা ও ব্যাবহার

  • নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোন কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন Stuff এবং ক্লায়েন্টের সাথে বাড়িতে বসে কমিউনিকেশন করা যায়।
  • পৃথিবীর যে কোন জায়গায় কোন বড় ধরনের মিটিং বা কোম্পানি Deal এর জন্য সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।
  • পৃথিবীর যে কোন ব্যক্তির সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ করা যায়।
  • একই জায়গায় বসে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় কমিউনিকেট করার জন্য, বিভিন্ন কাজের যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ কম হয়।
  • ইন্টারনেটের মাধ্যমে, যেকোনো বিষয়ে প্রচুর ইনফরমেশন পাওয়া যায়।
  • তথ্যের আদান প্রদান করে database তৈরি করা যায়।

উপসংহার:

আশাকরি ওপরে ইনফর্মেশন থেকে নেটওয়ার্ক কি বা কাকে বলে, নেটওয়ার্ক এর ব্যবহার, Lan কাকে বলে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন। যদি Network সম্পর্কে আরও কিছু প্রশ্ন থাকে তাহলে আপনি কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার অপেক্ষায় থাকবো।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করতে চান!
  •  
  •  
  •  
  •  

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment