টপোলজি কাকে বলে – টপোলজি কয় ধরনের ও কি কি?

টপোলজি কাকে বলে – আমরা সকলেই জানি যে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বিভিন্ন ধরনের হয়। এবং দুইয়ের বেশি কম্পিউটার একসাথে কানেকশন করে একটি থেকে অন্যটিতে Data শেয়ার করা হয়।

ডাটা শেয়ার করার জন্য আমাদের বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক গঠন করার প্রয়োজন পড়ে। এই জন্য নেটওয়ার্ক এর Layout বিভিন্ন ধরনের হয়। এই নেটওয়ার্কের বিভিন্ন গঠনকেই টোপোলজি বলে

কোন কোম্পানির অফিসে যে ধরনের টপোলজির ব্যবহার করা হয়, বাড়িতে কিন্তু তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের টপোলজির ব্যবহৃত হয়। এই জন্য টপোলজির ঘটনায় ভিত্তিতে, টোপোলজিকে বিভিন্ন প্রকারে ভাগ করা হয়।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা, নেটওয়ার্ক টোপোলজি কি বা কাকে বলে, টোপোলজি কয় ধরনের হয়; স্টার, বাস, ট্রি, রিং, মেশ টোপোলজি কাকে বলে, টপোলজির সুবিধা কি এই সমস্ত বিষয়ে আলোচনা করব। যদি আপনিও টোপোলজি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে আজকের আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন।

সূচিপত্র

টপোলজি কাকে বলে

নেটওয়ার্কের বিভিন্ন ধরনের আকার (shape) এবং Layout কেই টোপোলজি (Topology) বলা হয়। একটি কম্পিউটার কোন কম্পিউটারের সাথে কিভাবে নেটওয়ার্কের মধ্যে আবদ্ধ হবে, এবং কিভাবে নেটওয়ার্কের সাহায্যে ডাটা exchange করা হবে, এই সমস্ত কিছু টোপোলজি দ্বারা নির্ধারিত হয়।

সোজা ভাষায় বলতে গেলে,

দুই এর বেশি কম্পিউটার কে একত্রে যুক্ত করার জন্য যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় সেই পদ্ধতি টিকে topology বলে।

নেটওয়ার্ক কি? এখান থেকে জানতে পারেন।

নেটওয়ার্ক টপোলজি কি

দুই এর বেশি কম্পিউটার একসাথে জোড়ার জন্য নেটওয়ার্ক এর প্রয়োজন হয়। যার মাধ্যমে একটি থেকে অন্য কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের তথ্য বা ইনফরমেশন শেয়ার করা সহজ হয়। এসব কম্পিউটার, নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যেভাবে যুক্ত থাকে, এই যুক্ত হওয়ার ধরন টিকেই নেটওয়ার্ক টোপোলজি (Network Topology) বলে।

টপোলজি কয় ধরনের

আলাদা আলাদা জায়গায়, বিভিন্ন কম্পিউটার কে নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ করার জন্য আলাদা আলাদা টোপোলজির দরকার পড়ে। এইজন্য টপোলজির ধরন বিভিন্ন ধরনের হয়।

টোপোলজি প্রধানত ৫ ধরনের।

এগুলি হল –

  1. Star topology (স্টার টপোলজি)
  2. Bus topology (বাস টপোলজি)
  3. Tree topology (ট্রি টপোলজি)
  4. Ring topology (রিং টপোলজি)
  5. Mess topology (মেশ টপোলজি)

১. স্টার টপোলজি কাকে বলে

সবথেকে বেশি ব্যবহৃত টোপোলজি হলো স্টার টপোলজি। এই টোপোলজি কে কিছুটা স্টার বা তারার মতো দেখতে হওয়ার কারণে এটিকে স্টার টোপোলজি বলে।

এই টোপোলজি তে বিভিন্ন কম্পিউটার একটি প্রধান Network Hub এর সাথে যুক্ত থাকে। এবং বাকি কম্পিউটার ওই নেটওয়ার্ক হাবের সাথে কানেক্ট হয়ে ইনফরমেশন দেওয়া নেওয়া করে।

স্টার টপোলজি কাকে বলে
স্টার টপোলজির গঠন

এই ধরনের টপোলজিতে Center বা কেন্দ্রে, Network Hub থাকে। এই hub এর দ্বারা বাকি কম্পিউটার গুলি কন্ট্রোল করা হয়। এই জন্য যদি সেন্টারে থাকা Network Hub এ কোন রকম সমস্যা দেখা দেয় তাহলে বাকি কম্পিউটার গুলিতেও, নেটওয়ার্কের সমস্যা দেখা যায়। কারণ Star টপোলজিতে Network Hub, main server রূপে কাজ করে।

স্টার টপোলজি এর সুবিধা

  • এই টপোলজির সেন্টারে hub থাকার কারণে, সমস্যার সমাধান সহজেই করা যায়।
  • Hub ছাড়া অন্য কম্পিউটারে সমস্যা হলে, সেটি সহজেই বদলে ফেলা যায়।
  • স্টার টপোলজিকে ইনস্টল করা খুবই সহজ।
  • অন্যান্য কম্পিউটারে সমস্যা হলে, hub এর ওপর কোনরকম প্রভাব ফেলতে পারে না।

স্টার টপোলজির অসুবিধা

  • এই ধরনের টোপোলজি ব্যাবহার করার জন্য প্রচুর খরচ হয়।
  • Hub খারাপ হলে, পুরো system বসে যায়।
  • Problem ঠিক করা ব্যায়বহুল।

উদাহরণ:

স্টার টপোলজি প্রধানত বিভিন্ন ধরনের বড় বড় শপিং মল এবং কোম্পানিতে ব্যবহার করা হয়। যেখানে কন্ট্রোল রুমের মধ্যে hub থাকে এবং বিভিন্ন, floor এ আলাদা আলাদা কম্পিউটার বসানো থাকে।

২. বাস টপোলজি কাকে বলে

বাস টপোলজিতে একটি মাত্র তার বা cable এর দ্বারা সমস্ত কম্পিউটার গুলি নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্ট করা হয়। এবং এই কেবল এর শুরুতে এবং শেষে এক ধরনের ডিভাইস লাগানো হয় যার নাম হল Terminator (টার্মিনেটর)।

বাস টপোলজি কাকে বলে
বাস টপোলজির গঠন

টার্মিনেটর এর সাহায্যে নেটওয়ার্ক সিগন্যালটি কন্ট্রোল করা হয়। বাস টপোলজিতে একটিমাত্র কেবল বা তারের মাধ্যমে, সমস্ত কম্পিউটার গুলিকে জোড়া হয়। যার কারণে Bus topology সর্বদা সমান্তরাল বা লম্বাভাবে চলতে থাকে।

বাস টপোলজির সুবিধা

  • এই ধরনের টপোলজি ব্যবহার করলে খরচ সবথেকে কম হয়।
  • একটি তারের মধ্যেই সমস্ত কম্পিউটার কানেক্ট হওয়ার কারণে, সমস্যা দেখা দিলে সেই কম্পিউটারটি সহজে বদলে ফেলা যায়।
  • এই ধরনের টোপোলজি তৈরি করা খুবই সোজা।
  • খুবই অল্প পরিমাণ cable এর প্রয়োজন হয়।

বাস টপোলজির অসুবিধা

  • এই টোপোলজি ধির গতিতে কাজ করে।
  • যদি কোনো কম্পিউটারে সমস্যা দেখা দেয়, পুরো সিস্টেম টিকে check এবং পরিবর্তন করতে হয়।

৩. ট্রি টপোলজি কাকে বলে

এই ধরনের টোপোলজি গাছের মতো দেখতে হয় এইজন্য এটিকে ট্রি টপোলজি বলে। এটি কতকটা বাস টপোলজি এবং রিং টপোলজির মতই দেখতে।

ট্রি টপোলজি কাকে বলে
ট্রি টপোলজির গঠন

ট্রি টপোলজি তে, স্টার টপোলজির মতো hub থাকে এবং hub এর সাথে আলাদা আলাদা কম্পিউটার যুক্ত থাকে। কিন্তু ট্রি টপোলজিতে একাধিক hub থাকার কারণে, সমস্ত hub গুলিকে একটি cable এর দ্বারা সংযুক্ত করা হয়

ট্রি টপোলজির সুবিধা

  • Tree topology ইন্সটল করা খুবই সহজ।
    কোন সমস্যা দেখা দিলে সহজেই সমাধান করা যায়।
  • এ ধরনের টপোলজি বিস্তার করা এবং install করা সহজ।
  • এবং বিভিন্ন ডিভাইস এর সাথে point to point কানেকশন তৈরি করা যায়।

ট্রি টপোলজির অসুবিধা

  • রক্ষণাবেক্ষণ করা অসুবিধাজনক।
  • বড়ো cable এর প্রয়োজন হয়।
  • একটি কম্পিউটারের node খারাপ হলে, বাকি node গুলি কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
  • এই ধরনের টপোলজি তৈরি করা ব্যয়বহুল।

৪. রিং টপোলজি কাকে বলে

এ ধরনের টোপোলজি Ring এর মত বা গোলাকার দেখতে হওয়ার কারণে এটিকে Ring topology বলে।

এই টপোলজিতে নির্দিষ্ট কম্পিউটারকে, পাশাপাশি দুটি কম্পিউটার এর সাথে সংযুক্ত করা হয়। এবং এই ভাবে প্রত্যেকটি কম্পিউটার দুটি করে কম্পিউটার এর সাথে যুক্ত হয়। এই জন্য প্রত্যেকটি কম্পিউটারের দুটি করে Network Interface Card এর দরকার পড়ে।

রিং টপোলজি কাকে বলে
রিং টপোলজির গঠন

এইভাবে নেটওয়ার্ক এর একটি Circle তৈরি হতে থাকে। এই জন্য এই ধরনের টপোলজি কে Ring Topology বলে।

রিং টপোলজির সুবিধা

  • এই ধরনের টপোলজিতে কোন রকম hub প্রয়োজন হয় না।
  • এ ধরনের topology তৈরি করতে খরচ কম হয়।
  • নেটওয়ার্কে সঞ্চারণের গতি বেশি হয়।
  • Manage সহজেই করা যায়।

রিং টপোলজির অসুবিধা

  • কোনো সমস্যা দেখা দিলে, প্রবলেম খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়।
  • একটি কম্পিউটার খারাপ হলে, পুরো system তাকেই change করতে হয়।
  • একটি কম্পিউটার, অন্য গুলির ওপর নির্ভরশীল থাকে।

৫. মেশ টপোলজি কাকে বলে

মেস টপোলজি কাকে বলে
মেশ টপোলজির গঠন

এই ধরনের টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার প্রতিটির সাথে যুক্ত থাকে। যার ফলে, প্রত্যেকটি কম্পিউটারের সাথেই প্রত্যেকটি কম্পিউটার তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।

মেশ টপোলজির সুবিধা

  • এই ধরনের টপোলজিতে ট্রি টপোলজির থেকে কম খরচ লাগে।
  • প্রতিটি কম্পিউটার, বাকি কম্পিউটারগুলোর থেকে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।
  • সমস্যা দেখা দিলে, Node গুলি সহজেই বদলে ফেলা যায়।

মেশ টপোলজির অসুবিধা

  • একটি কম্পিউটার খারাপ হলে অন্যটি কাজ করে না।
  • Ring এবং Bus টপোলজির থেকে খরচ বেশি।

হাইব্রিড টপোলজি কাকে বলে

যখন নেটওয়ার্ক বাড়ানোর জন্য, দুইয়ের বেশি টোপোলজি, একসাথে সংযোগ করা হয়, তখন তাকে হাইব্রিড টপোলজি বলে।

হাইব্রিড টপোলজি কাকে বলে
হাইব্রিড টপোলজির গঠন

মানে,

দুইয়ের বেশি টোপোলজি একসাথে জোড়া লাগিয়ে, যে নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয় তাকেই হাইব্রিড টপোলজি বলা হয়।

আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর –

১. সবচেয়ে সহজ টপোলজি কোনটি?

Ans – Bus Topology

২. কোন টপোলজি সুবিধাজনক?

Ans – Bus এবং Star টোপোলজি

৩. বাস টপোলজি ও রিং টপোলজির মধ্যে কোনটি সুবিধাজনক?

Ans – Bus টপলজি

৪. কোন টপোলজিতে একটি কম্পিউটার দুটো কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে?

Ans – Ring topology তে।

উপসংহার:

আশা করি ওপরের ইনফরমেশন থেকে টপোলজি কি, টপোলজি কয় ধরনের, টোপোলজি এর সুবিধা কি এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জেনে গেছেন। যদি টোপোলজি সম্পর্কে, আরও কিছু প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

আরও পড়ুন:

শেয়ার করতে চান!
  •  
  •  
  •  
  •  

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment