সাবনেটিং কি – সাবনেটিং কেন করা হয় ও সুবিধা

সাবনেটিং শব্দটি আপনার কাছে নতুন হতে পারে। কিন্তু বর্তমান সময়ে নেটওয়ার্ক এর ক্ষেত্রে এই জিনিসটি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আজকের আর্টিকেল থেকে আমরা সাবনেটিং সম্পর্কে আপনাদের ধারণা দেবো। যেখান থেকে আপনি সাবনেটিং এর বেসিক ধারণা পেয়ে যাবেন।

কারণ আজ আমরা সাবনেটিং কি, সাবনেটিং কাকে বলে, সাবনেটিং এর সুবিধা, সাবনেটিং কত প্রকার এবং সাবনেটিং কেন করা হয় – এই প্রশ্নগুলি সম্পর্কে জানব।

যদি আপনিও সাবনেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে আজকের আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন।

সাবনেটিং কি?

সাবনেটিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেই প্রক্রিয়ায় একটি বড় নেটওয়ার্কে কে বিভিন্ন ছোট ছোট নেটওয়ার্কে ভাগ করা হয়। এই ছোট ছোট নেটওয়ার্কগুলি কে subnetwork বা subnet বলে।

সোজা কথায় বলতে গেলে,

সাবনেটিং কি - সাবনেটিং কেন করা হয় ও সুবিধা

সাবনেটিং প্রক্রিয়ায়, একটি বৃহৎ ভৌত নেটওয়ার্ককে দুই বা ততোধিক লজিক্যাল নেটওয়ার্কে বিভক্ত করা হয়।

ছোট লজিক্যাল নেটওয়ার্কগুলিকে ভাগ করার পর এগুলিকে সাবনেটওয়ার্ক বা সাবনেট বলা হয়।

নেটওয়ার্ক ভাগ করার পুরো প্রক্রিয়াটিকে, একসাথে নেটওয়ার্ক সাবনেটিং বলা হয়।

সাবনেটিং কাকে বলে?

একটি বড় নেটওয়ার্ককে বিভিন্ন ছোট ছোট নেটওয়ার্কে ভাগ করা হলে সেটিকে সাবনেটিং বলে। সাবনেটিং করে একটি বিশাল নেটওয়ার্ক থেকে ছোট ছোট নেটওয়ার্কে devide করা হয়।

সাবনেটিং কি - সাবনেটিং কেন করা হয় ও সুবিধা

এবং ছোট ছোট নেটওয়ার্ক গুলি বানানোর জন্য subnet mask প্রয়োগ করা হয়।

সাবনেটিং কেন করা হয়?

  • নেটওয়ার্ক কর্মক্ষমতা এবং নেটওয়ার্ক এর speed বা গতি উন্নত করতে
  • নেটওয়ার্কের ভিড় কমাতে
  • নেটওয়ার্ক এর নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে
  • বড় নেটওয়ার্ক সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং
    Networking কাজকে অনেক সহজ করে তুলতে সাবনেটিং করা হয়।

সাবনেটিং এর সুবিধা

  • এটি পাঠানো সম্প্রচারের সংখ্যা কমিয়ে নেটওয়ার্ক ট্র্যাফিক হ্রাস করে।
  • এটি একটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে (LAN) সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে, যেমন সর্বাধিক অনুমোদিত হোস্টের সংখ্যা।
  • এটি লোকেদের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক খোলা ছাড়াই তাদের বাড়ি থেকে একটি কাজের নেটওয়ার্কে সংযোগ করতে দেয়।
  • এটি একটি নেটওয়ার্ককে অন্য নেটওয়ার্কের অনুপ্রবেশ থেকে রক্ষা করে। উদাহরণ স্বরূপ, ডেভেলপার বিভাগের কোড অবশ্যই কোনো প্রতিষ্ঠানের অন্য কোনো বিভাগের দ্বারা অ্যাক্সেসযোগ্য হবে না।
  • কিছু সাবনেটের জন্য অন্যদের তুলনায় উচ্চতর নেটওয়ার্ক অগ্রাধিকার প্রয়োজন হতে পারে। একটি বিক্রয় বিভাগ, উদাহরণস্বরূপ, ওয়েবকাস্ট বা ভিডিও কনফারেন্স হোস্ট করতে হতে পারে।
  • ছোট নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ।

সাবনেটিং কত প্রকার?

সাধারণত দুই ধরনের subnetting করা হয়। একটি হলো Static subnetting (স্থির সাবনেটিং) এবং দ্বিতীয়টি হলো Variable Length subnetting (পরিবর্তনশীল দৈর্ঘ্যের সাবনেটিং)।

১. Static subnetting

স্ট্যাটিক সাবনেটিং এর মানে হলো, সাবনেট নেটওয়ার্কের সমস্ত সাবনেট গুলি, একই সাবনেট মাস্ক ব্যবহার করে।

এই ধরনের সাবনেটিং প্রক্রিয়াটি খুব সহজেই সেটাপ করা যায় এবং সেটিকে খুব সহজে কন্ট্রোলও করা যায়।

২. Variable Length subnetting

এই সাবনেটিং প্রক্রিয়ায় সাবনেট নেটওয়ার্কের সমস্ত সাবনেট গুলি, আলাদা আলাদা সাবনেট মাস্ক ব্যবহার করে।

এই ধরনের সাবনেটে, একটি নির্দিষ্ট সাবনেট কে আবার একটি বিট যোগ করে, দুটি ভিন্ন সাবনেট তৈরি করা সম্ভব।

অর্থাৎ এই ধরনের নেটওয়ার্ক সাবনেটিং, প্রতিটি নেটওয়ার্ক কে বিভক্ত করার অনুমতি দেয়। যে কারণে সাবনেট মাস্ক পরিবর্তন করে, প্রতিটি সাবনেটের জন্য পর্যাপ্ত হোস্ট নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।

উপসংহার

আশাকরি উপরের ইনফর্মেশন থেকে সাবনেটিং কি এবং সাবনেটিং কেন প্রয়োজন এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। যদি এখনও এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আপনি কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

আরও পড়ুন

শেয়ার করতে চান!

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment