ঘরে বসে পার্ট টাইম জব করার ৬ টি উপায়

আজকাল অনেকেই ঘরে বসে পার্ট টাইম জব করতে চান। কারন মূলধন এমন একটা জিনিস যা সবার দরকার। এইজন্য যারা অনলাইনে কাজ করে আয় করতে চান তারা আজকের এই আর্টিকেলটিতে এমন ৬টি পার্ট টাইম চাকরি বা জব খুঁজে পাবেন, যেটি যে কেউ বাড়িতে বসে যেকোনো সময় করতে পারবে।

পার্ট টাইম জব অনলাইন করার সুবিধা:

বাড়িতে বসে পার্ট টাইম চাকরি করার সুবিধা গুলি হল, এই কাজগুলি যেকোন ছাত্র এবং মহিলা তাদের অবসর সময়ে করতে পারেন। এবং অনলাইনে এসব যাব গুলি করে আপনি যত খুশি টাকা আয় করতে পারবেন। এটার কোন লিমিটেশন নেই।

যদি আপনি একজন ছাত্র হন এবং ছাত্রজীবনে পার্ট টাইম চাকরি খুঁজে থাকেন তাহলে আপনি পড়াশোনার পাশাপাশি এই কাজগুলো চালিয়ে যেতে পারেন।

আর এই সমস্ত কাজ গুলি করবার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। আপনি সম্পূর্ণরূপে বাড়িতে বসে, নিজের টাইম মতো এইসব কাজ করতে পারবেন।

অনলাইন পার্ট টাইম জব করার প্রয়োজনীয় জিনিস:

যদি আপনি বাড়িতে বসে, অবসর সময়ে অনলাইনে কাজ করে অনলাইন থেকে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করতে চান তাহলে সর্বপ্রথম যে জিনিসটি লাগবে, সেটি হল একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ।

যার সাহায্যে আপনি বিভিন্ন ধরনের অনলাইন জব গুলি খুবই সহজ ভাবে করতে পারবেন। তবে যদি আপনার ল্যাপটপ বা কম্পিউটার না থাকে তাহলে আপনি আপনার মোবাইলে এই সমস্ত কাজ গুলি করতে পারেন। তবে মোবাইলের ছোট স্কিন হওয়ার জন্য, মোবাইলের সাহায্যে অনলাইন কাজ করা কিছুটা সুবিধাজনক।

এবং অনলাইনে পার্টটাইম চাকরি করার জন্য দ্বিতীয় যে জিনিসটা দরকার সেটি হলো ইন্টারনেট। অনলাইনে যে কোন কাজ করার জন্য ইন্টারনেটের প্রয়োজন। আপনি যেহেতু অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে আগ্রহী, তাই আপনার ডিভাইসে ইন্টারনেট থাকার একান্ত জরুরী।

ঘরে বসে পার্ট টাইম জব করার ৬ টি উপায়

ঘরে বসে পার্ট টাইম জব করার উপায় গুলি:

বাড়িতে বসে আপনি অনলাইনের মাধ্যমে যে সকল কাজগুলি করে অনলাইনে আয় করতে পারেন সেগুলো নিয়ে একটি একটি করে আলোচনা করা হলো। আপনি এগুলোর মধ্য থেকে যেকোনো একটি Source বেছে নিয়ে আয় করতে পারেন।

১. Blogging

আজকাল ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আয় করার যে জিনিসটা সবথেকে বেশি প্রচলন আছে সেটি হল ব্লগিং।

ব্লগিং হল এক ধরনের ওয়েবসাইট যেখানে আমার এবং আপনার মত লোকেরা নিত্যদিন বিভিন্ন ধরনের ইনফরমেটিভ ইনফর্মেশন টেক্সটের মাধ্যমে শেয়ার করে।

এবং গুগলে কোনো মানুষ কোন কিছু সার্চ করলে তখন ঐ সব ব্লগ এবং ওয়েবসাইট এর কনটেন্ট গুলি তাদের সামনে দেখানো হয়। এবং সেই কনটেন্ট বা আর্টিকেলটি পড়তে ইউজার নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা ব্লগে প্রবেশ করে।

এবং কোন ব্যক্তি সেই ব্লগে আর্টিকেল পড়ার সময়, ব্লগে দেখানো অ্যাডভার্টাইজমেন্ট এর উপর ক্লিক করলে, সেই ব্লগ মালিকের আয় হয়।

এইজন্য যদি আপনি নিজস্ব একটি ব্লগ তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনি অনলাইন থেকে প্রচুর পরিমাণে টাকা উপার্জন করতে পারবেন। ব্লগে আসা ট্রাফিকের ওপর ভিত্তি করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের এড নেটওয়ার্ক দেখানো এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা হয়। এবং কখনও কখনও বিভিন্ন ধরনের ইবুক এবং অন্যান্য প্রডাক্ট প্রমোশন করে প্রচুর পরিমাণে টাকা আয় করা যায়।

ব্লগে আসা ট্রাফিকের ওপর ভিত্তি করে, কোন কোন ব্লগার ৩০ হাজার থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে। ব্লগ এবং ব্লগার কাকে বলে এখান থেকে আপনি ডিটেলস ধারণা পেয়ে যাবেন।

২. YouTube

অনলাইনের মাধ্যমে আয় করার দ্বিতীয় যে উপায়টি বলবো সেটি হল ইউটিউব। ইউটিউব যেহেতু গুগলের প্রডাক্ট তাই এখান থেকেও আপনি অ্যাডভার্টাইজমেন্ট এর মাধ্যমে প্রচুর টাকা উপার্জন করতে পারেন।

ইউটিউবে আজকাল প্রচুর পরিমাণে নলেজেবল এবং ইনফরমেটিভ ইনফর্মেশন রয়েছে। এবং যেগুলি দেখতে কোটি কোটি মানুষ ইউটিউবে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটান।

তাই আপনিও যদি নিজের ইউটিউব চ্যানেল বানিয়ে লোকেদের বিভিন্ন ভিডিওর মাধ্যমে সাহায্য করেন, তাহলে আপনিও অনলাইন থেকে ভালো পরিমাণে টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

উপার্জন করার জন্য আপনাকে প্রথমে একটি ইউটিউব চ্যানেল বানাতে হবে এবং তারপর গুগোল এর অ্যাডভার্টাইজমেন্ট সেই ভিডিওর উপর দেখিয়ে আয় এর পথ খুলে নিতে হবে। এবং ধীরে ধীরে যখন আপনার চ্যানেলে প্রচুর পরিমাণে ট্রাফিক আসবে তখন বিভিন্ন প্রডাক্ট প্রমোশন করে টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

যদি আপনি ভিডিওর মাধ্যমে লোকের উপকার করতে পারেন তাহলে আজই ইউটিউব চ্যানেল খুলে নিন এবং অবসর সময়ে ইউটিউব এর মাধ্যমে, ঘরে বসে পার্ট টাইম জব চালিয়ে যান।

৩. Instagram Influencer

পার্ট টাইম জব অনলাইন এর মাধ্যমে করার পরের উপায়টি হল ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া। চট্টগ্রাম এর মাধ্যমে বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সার প্রত্যেক মাসে লোকগুলো টাকা উপার্জন করে।

Influencer মানে হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজস্ব পেজ বানিয়ে, তার ওপর সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধি করে বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট এবং ব্যান্ডকে প্রমোট করা।

এইজন্য আপনি ইনস্টাগ্রামে পেজ বানিয়ে ফলোয়ার্স বৃদ্ধি করে, ফলোয়ার্স এর হিসাবে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রডাক্ট, সার্ভিস এবং ব্র্যান্ডকে প্রমোট করতে পারেন।

৪. Content Writing

কনটেন্ট রাইটিং খুবই জনপ্রিয় একটি পার্ট টাইম কাজ। এটি আমি যেকোনো সময় ঘরে বসে করতে পারেন।

যদি আপনার নিজস্ব ব্লগ থাকে তাহলে আপনাকে সেখানেও নিত্য নতুন কনটেন্ট লিখে নিত্যদিন পাবলিস করতে হয়। কিন্তু আপনি শুধুমাত্র নিজের ব্লগের জন্য না লিখে অন্য সব ব্লগারদের সাথে যোগাযোগ করে, তাদের ব্লগের জন্য কনটেন্ট লিখে দিয়ে, তাদের থেকে ভালো পরিমাণ টাকা চার্জ করতে পারেন।

একটি হাজার ওয়ার্ড এর আর্টিকেল যদি আপনি দেখেন তাহলে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত ডিমান্ড করতে পারেন। আর আপনি যদি দিনে দুই থেকে তিনটি আর্টিকেল লিখতে পারেন তাহলে ১ হাজারের বেশি টাকা, প্রত্যেকদিন আয় করতে পারবেন।

বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া যেমন Facebook এবং Linkedin এ প্রচুর পরিমাণে ব্লগ সম্পর্কিত গ্রুপ রয়েছে। আপনি সেই সকল গ্রুপে জয়েন করে বিভিন্ন ব্লগারদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সাথে Deal করতে পারেন।

৫. Online Data Entry

ডাটা এন্ট্রি করে আপনি প্রচুর পরিমাণে টাকা উপার্জন করতে পারেন এবং এর জন্য আপনার কোনরকম বিশেষ যোগ্যতা থাকার প্রয়োজন নেই। ডাটা এন্ট্রি করে অনেক মানুষ, প্রত্যেক মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করে চলেছে।

যদি আপনি অনলাইন টাইপিং জব করতে চান তাহলে fiver, upwork, freelancer এই সমস্ত ওয়েবসাইটগুলি থেকে জব খুঁজে নিতে পারেন। এ সমস্ত ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম গুলিতে প্রত্যেক দিন হাজার হাজার অনলাইন ডাটা এন্ট্রি জব এর জন্য লোক খোজা হয়।

৬. Image Selling

যদি আপনি ফটোগ্রাফি করতে ভালোবাসেন তাহলে IstockphotoShutterstock এর মতো বড়-বড় ওয়েবসাইটগুলোতে নিজস্ব ফটো বিক্রি করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

যদি আপনার ফটোর কোয়ালিটি ভাল হয় তাহলে আপনি একটি ফটোর জন্য এক থেকে একশ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন। এইজন্য ইমেজ সেটিং হলো অনলাইনের মাধ্যমে পার্ট টাইম চাকরি করার সবথেকে লাভজনক উপায়।

ইমেজ বিক্রয় করার জন্য আপনি নির্দিষ্ট ওয়েব সাইটে যাওয়ার পর সেখানে অ্যাকাউন্ট বানিয়ে, আপনার অরিজিনাল এবং কোয়ালিটি পূর্ণ ছবিটিকে আপলোড করুন এবং তারপর তার নির্দিষ্ট ডিটেলস দিয়ে, তার দাম ঠিক করুন।

ছাত্রজীবনে পার্ট টাইম চাকরি 2021 – Affiliate Marketing

যদি আপনি একজন ছাত্র হন তাহলে উপরের ৬ টি পার্ট টাইম জব আপনি চেষ্টা করতে পারেন। তবে ছাত্র হিসাবে যদি, ২০২১ সালে পার্টটাইম চাকরি করতে চান তাহলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আপনার জন্য সব থেকে সুবিধাজনক।

কারণ এখানে আপনি খুব সহজেই এফিলিয়েট লিংক বিভিন্ন মানুষের সাথে শেয়ার করে অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে অনলাইনে আয় করতে পারবেন।

আফিলিয়েট মার্কেটিং হল কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রয় করা। এবং প্রোডাক্ট বিক্রি হলে আপনি সেই প্রোডাক্টের কমিশন হিসেবে কিছু পার্সেন্ট পাবেন।

ছাত্র হিসাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার সুবিধা হল, আপনি আপনার বন্ধু এবং আত্মীয় পরিজনদের সাথে এফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে তাদেরকে দিয়ে, তাদের চাহিদা পূর্ণ জিনিসটি আপনার লিংকের মাধ্যমে খরিদ করাতে পারবেন। এবং এর জন্য আপনাকে আলাদা করে পরিশ্রম করতে হবে না।

যদি আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আয় করতে চান তাহলে, আপনার কাস্টমার অনুযায়ী প্রোডাক্ট বেছে নিয়ে সেই প্রোডাক্টটি এফিলিয়েট লিংক Create করুন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সেই অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক টি আপনার কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দিন।

উপসংহার:

আশা করি অনলাইনের মাধ্যমে পার্ট টাইম জব করার যে সকল উপায় গুলি উপরে বলা হয়েছে এগুলো আপনার কাজে আসবে।

এবং আমি আপনাকে ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, এগুলির মধ্যে যেকোনো একটি যদি আপনি মনোযোগ দিয়ে এবং ধৈর্য ধরে করেন, তাহলে আপনিও একদিন ভালো পরিমাণ টাকা অনলাইনের মাধ্যমে উপার্জন করতে পারবেন।

তবে অনলাইনে আয় করা রাতারাতি সম্ভব নয় এজন্য আপনাকে প্রচুর ধৈর্য রাখতে হবে।

শেয়ার করতে চান!
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Comment

error: Content is protected !!