ব্লগ কি, ব্লগার কি এবং ব্লগ কিভাবে তৈরি করে

আজকাল ইন্টারনেটে ব্লগ শব্দটি অনেক জায়গায় দেখা যায়। আপনি হয়তো কোন এক জায়গায় ব্লগ বা ব্লগার কি এই শব্দটি দেখতে পেয়ে, ব্লগের সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়েছেন।

আমি আপনাকে জানিয়ে রাখি ব্লগের সাহায্যে কোন ব্যক্তি তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা, ইনফর্মেশন, জ্ঞান এগুলি অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারে। তাই যদি, আপনিও আপনার জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা অন্যদেরকে দিতে চান তাহলে আপনিও একটি ব্লগ তৈরি করতে পারেন।

আশা করছি এই আর্টিকেলটি থেকে আপনি “ব্লগ কি, ব্লগার কি এবং ব্লগ কিভাবে তৈরি করে” এই সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা পেয়ে যাবেন। এবং আপনি চাইলে আপনার নিজস্ব ব্লগ তৈরী করতে পারবেন। তাই চলুন ব্লগ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ব্লগ কি

আমরা ইন্টারনেটে অনেক ধরনের ওয়েবসাইট দেখতে পাই। যেটি কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান দ্বারা তৈরি। যেখানে নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করা হয় না, কিন্তু কিছু ইনফরমেশন এর সাহায্যে ব্যবহারকারীকে তার কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

কিন্তু,

ব্লগ, ওয়েবসাইটের থেকে পুরোপুরি আলাদা। এখানে কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান নয়; স্বয়ং কোন ব্যক্তি ইন্টারনেটে তার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অন্যদেরকে বিভিন্ন ধরনের ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করে।

এইজন্য প্রকাশ করার সাথে সাথে পুরনো আর্টিকেল গুলি, সময়ের সাথে সাথে আপডেট করার প্রয়োজন হয়।

ইন্টারনেটে রোজদিন কোটি কোটি সমস্যার প্রশ্ন সার্চ করা হয়। এইসব প্রশ্নের উত্তর কোন ব্লগ সাইটের মালিক তাদের ব্লগে লিখে, ওই সব প্রশ্নের উত্তর দেন। এর জন্য কোনো ব্লগ এর মালিক তার ব্লগটিকে প্রথমে গুগোল এর মত বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে Index করায়, এবং গুগল তার ব্যবহারকারীকে সঠিক ব্লগ আর্টিকেল দিয়ে তাদের সামনে প্রকাশ করে।

যার ফলে ব্যবহারকারী তার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যান। এবং ব্লগের মালিক তার ওয়েবসাইটে অনেক ভিজিটর বা কাস্টমার এর মাধ্যমে টাকা উপার্জন করতে পারেন।

ব্লগ কাকে বলে; আরো সহজ করে বলতে গেলে আপনাকে একটি উদাহরণ দেওয়া যাক।

আমরা যেমন ডায়েরি ব্যবহার করি। এবং তার মধ্যে আমাদের ভাব, নিত্যদিনের কাজ, ইনফর্মেশন এইসব জমা করে রাখি, ঠিক তেমনই ব্লগ হল ইন্টারনেটের মাধ্যমে তৈরি একটি ডায়েরি।

ডাইরি যেমন আমরা গোপন ভাবে ব্যাবহার করি এবং অন্যদের সাহায্য করার জন্য সেই ডাইরি দিয়ে থাকি; ঠিক তেমনি একটি ব্লগ আমরা ব্যক্তিগত ব্যবহার করা বা অন্যদের সাহায্য করার জন্য বানাতে পারি।

ব্লগের সাহায্যে ইনফরমেশন দেওয়ার সাথে সাথে; কোন ব্যবসা কে বড় করা বা ইন্টারনেটে কমিউনিটি তৈরি করা, এইসব কাজ ও করা হয়ে থাকে।

Blog এর Full Form কি?

Blog এর পুরো কথা হল Web Log। ব্লগের মাধ্যমে নতুন নতুন ওয়েব পেজ তৈরি করে, তার মধ্যে নতুন নতুন ইনফর্মেশন পোস্ট করে, অন্য ব্যক্তিদের সামনে উপস্থাপন বা পাবলিশ করা হয়। কোন ব্লগ এর মধ্যে অনেক ধরনের tools থাকে। কোন আর্টিকেল কে দর্শকদের সামনে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য এইসব tools গুলির দরকার পরে।

ব্লগ এর বাংলা প্রতিশব্দ কি?

ব্লগ এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো অনলাইন ডায়েরী (Online Diary)। যে ডাইরি কোন ইউজারের সমস্যা দূর করার জন্য লেখা হয়।

ব্লগার কি?

যে ব্যক্তি ব্লগ করেন বা ব্লগ লেখেন তাকে ব্লগার বলা হয়। যেহেতু আমি এই ব্লগটির লেখক, তাই আমি একজন ব্লগার।

শুধু ব্লগ লিখলেই যে একজন ব্লগার হওয়া যায়, তাই কিন্তু নয়। ব্লগের লেখক অনেক সময় ভাড়া করা হয়, সেক্ষেত্রে তিনি শুধুমাত্র একজন ব্লগ লেখক বা লেখিকা।

তাহলে প্রকৃতপক্ষে ব্লগার কে!

ব্লগার হলো তিনি, যিনি অন্যদের সাহায্য করার জন্য নিজস্ব একটি ব্লগ বানিয়ে, সেটিতে আর্টিকেল লেখা, কাস্টমাইজ করা, গুগলে প্রকাশ করা, ডিজাইন করা, টপিক নির্বাচন করা এই সমস্ত কিছু কাজ করে থাকেন।

ব্লগিং কি

ব্লগার, তার নিজস্ব ব্লগে যে সমস্ত কাজ গুলি করেন সেগুলিকে ব্লগিং বলা হয়। যেমন কোন পোস্ট লেখা, ব্লগটি সুন্দর করে ডিজাইন করা, অন্য পোস্টের লিংক যোগ করা, ইত্যাদি কাজ গুলি কে একত্রে ব্লগিং বলা হয়।

যেহেতু আমি একজন ব্লগার। তাই কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে তুমি কি করো? তাহলে আমার উত্তর হবে – “আমি ব্লগিং করি” ।

ব্লগিং কয় প্রকারের হয়?

ব্লগ দুই ধরনের। ১) ব্যাক্তিগত ব্লগিং এবং ২) প্রফেশনাল ব্লগিং।

ব্যাক্তিগত ব্লগিং

এই ধরনের ব্লগ, নিজের শখ পূরণের জন্য তৈরি করা হয়। যেখানে কোন ব্যক্তি তার নিজস্ব মতামত, নিজস্ব রুটিন, নিজস্ব পছন্দ এই সমস্ত বিষয় তার ব্লগে লিখে থাকেন।

ব্যক্তিগত বা পার্সোনাল ব্লগিং, কোন লক্ষ্য ছাড়া তৈরি করা হয়। এটি শুধুমাত্র কোন ব্লগার, তার সময় কাটানোর জন্য ব্যবহার করে থাকেন। মানে, তার ব্লগটি কত বড় করতে হবে, কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, কেমন ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি করতে হবে এই সব বিষয় ভাবনা চিন্তা থাকে না।

প্রফেশনাল ব্লগিং

এই ধরনের ব্লগ ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। যার মাধ্যমে কোন ব্লগের মালিক তার সংসার চালানোর পাশাপাশি ব্লগের সাহায্যে তার সমস্ত শখ পূরণ করতে পারে।

প্রফেশনাল ব্লগিংকে কোন ব্লগার, ব্যবসার মতো মনে করে। যেখানে এটি তার নিত্যদিনের কাজ হিসাবে পরিচয় পায়। এই ধরনের ব্লগ নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাবার জন্য তৈরি করা হয়।

ব্লগ বানানোর জন্য কি কি প্রয়োজন

ব্লগ বানানোর জন্য প্রথমত একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপের প্রয়োজন। যার মাধ্যমে আপনি আপনার সাইটটিকে ভালো ভাবে ম্যানেজ করতে পারবেন। তবে অনেকেই মোবাইলের মাধ্যমে ব্লগিং করে থাকেন। ল্যাপটপে ব্লগিং করার সুবিধা হল, আপনি খুব সহজভাবে কোন কিছু ডিজাইন করতে পারবেন কিন্তু মোবাইলে যেটা অসুবিধাজনক।

দ্বিতীয়তঃ একটি ডোমেইন এবং হোস্টিং এর প্রয়োজন। ডোমেইন হলো আপনার ব্লগের অ্যাড্রেস বা url। যেমন এই ব্লগের অ্যাড্রেস হলো hinditrust.in। সমস্ত ব্লগ বা সাইটের একটি আলাদা আলাদা ডোমেইন থাকে। যার মধ্য দিয়ে ইন্টারনেটে কোনো নির্দিষ্ট ব্লগ বা সাইট কে খুঁজে পাওয়া যায়।

আপনি GoDaddy.com ওয়েবসাইট থেকে ডোমেইন কিনতে পারেন। যেটি খুবই বিশ্বস্ত একটি ডোমেইন কোম্পানি।

আর হোস্টিং হলো আপনার ব্লগটিকে যেখানে সেটআপ করবেন। ব্লগটির সমস্ত ডাটা যেখানে জমা হয় সেটিকে হোস্টিং বলা হয়। হোস্টিং কেনার জন্য Hostgator.com ব্যাবহার করতে পারেন।

একটি সহজ উদাহরণ দিলে আপনি বুঝে যাবেন।

ধরুন আপনার কোন একটি দোকান আছে। এবং সেই দোকানটি চালানোর জন্য, একটি নাম এবং একটি জায়গা প্রয়োজন। দোকানটির নির্দিষ্ট নামের সাহায্যে কোন ব্যক্তি সহজেই আপনার দোকানে পৌঁছতে পারবে। এবং আপনার দোকানের মধ্যে যে জায়গাটি আছে তার মধ্যে আপনি আপনার দোকানের সমস্ত প্রোডাক্ট এবং জিনিসগুলি জমা করতে পারবেন।

এখানে আপনার দোকানের নামটি হলো Domain Name এবং জায়গাটির নাম হল Hosting

তাই অনলাইনে আপনার কোন দোকান বা ব্লগ তৈরি করার জন্য এই দুটি জিনিস দরকার পড়ে।

ব্লগ কোন বিষয়ে করবেন

এবার আপনি হয়তো, নিজস্ব একটি ব্লগ তৈরি করার কথা ভাবছেন। তাহলে আপনার কোন বিষয়ে ব্লগ করা উচিত?

আমি আপনাদের উপদেশ দেব, আপনার যে বিষয়ে ভালো রকম জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা আছে সেই বিষয়ে আপনি আপনার ব্লগ তৈরি করুন। ইন্টারনেটে আপনি অনেক ব্লগ দেখতে পারবেন। এর মধ্যে কোন কোন ব্লগ হয়তো আপনার খুবই ভালো লাগে। কিন্তু এই সমস্ত ব্লগের Copy করতে যাবেন না, কারুর দেখে কখনো তার মত বিষয়ে ব্লগ করবেন না।

আপনি নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আপনি কোন বিষয়ে সব থেকে বেশি দক্ষ। আপনি আপনার নিজের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানের ভান্ডার কে কাজে লাগিয়ে সেই বিষয়ে নিজস্ব ব্লগ তৈরী করুন। তবেই আপনি অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যেতে পারবেন। কারণ যে বিষয়ে আপনার আগ্রহ আছে এবং অভিজ্ঞতা আছে, সেই বিষয়ে ব্লগ তৈরি করলে আপনি কখনো বিরক্ত বোধ করবেন না।

কিন্তু যখনই নতুন কোন বিষয়ে ব্লগ তৈরি করবেন; যেটি আপনার অভিজ্ঞতার সাথে ম্যাচ করেনা, এবং যে বিষয়টি আপনার কাছে একদম নতুন, সেই বিষয়ে শিখতে হয় তো বিরক্ত লাগতে পারে। এইজন্য আপনার অভিজ্ঞতাকে বিবেচনা করে ব্লগ বানান।

ব্লগ কিভাবে তৈরি করে

ব্লগ তৈরি করার জন্য আপনি দুটি প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নিতে পারেন। ১) Blogger.com এবং ২) WordPress.org ।

Blogger.com

যদি আপনি একদম নতুন হন তাহলে আপনি গুগলের প্রোডাক্ট Blogger.com এ আপনার ব্লগটি সেটআপ করতে পারেন। এখানে আপনি কোন ডোমেইন ও হোস্টিং ছাড়াই ব্লগ তৈরী করতে পারবেন। এবং এটার জন্য আপনাকে কোন টাকা দিতে হবে না।

Blogger.com এ ব্লগ বানালে ডোমেইন এবং হোস্টিং কেনার প্রয়োজন নেই। আপনি চাইলে পরে এই ব্লগের জন্য নিজস্ব ডোমেইন নেম লাগাতে পারেন, কিন্তু হোস্টিং কখনোই কিনতে হবে না। যেহেতু এটি গুগলের প্রোডাক্ট তাই গুগল তার কাস্টমারদের বিনামূল্যে, এই প্লাটফরমটি ব্যবহার করার সুযোগ দেয়।

যারা ব্যক্তিগত ব্লগ তৈরি করেন, এই সমস্ত ব্যক্তি সাধারণত এই প্লাটফরমটি বিনামূল্যে ব্যবহার করে থাকেন।

WordPress.org

যদি আপনার কোন নিজস্ব ডোমেইন এবং হোস্টিং থাকে, তাহলে আপনি এই প্লাটফরমটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে বেশিরভাগ মানুষ প্রফেশনাল ব্লগিং করার জন্য WordPress.org প্ল্যাটফর্ম টি বেছে নেন।

এখানে বিভিন্ন ধরনের টুলস এবং প্লাগিন এর সাহায্যে খুব সহজে যে কোন ব্লগ ম্যানেজ করা যায়। WordPress.org প্ল্যাটফর্ম টি ব্যবহার করার জন্য কোন টাকা না লাগলেও আপনাকে অবশ্যই একটি ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে হবে। তবেই আপনি এই প্ল্যাটফর্ম টি ব্যবহার করার অনুমতি পাবেন।

প্রফেশনাল ব্লগ তৈরি করার জন্য কি করতে হবে

যদি আপনি আপনার ব্লগকে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যেতে চান তাহলে আপনাকে কিছু জিনিস অনুসরণ করে চলতে হবে। তবে আপনি ব্লগ ক্যারিয়ারে সফল ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় পাবেন। চলুন দেখে নিই প্রফেশনাল ব্লগ তৈরি করার জন্য আপনাকে কি করতে হবে।

Unique Content লিখুন

ইন্টারনেটে অনেক ধরনের ব্লগ আছে। এবং একই বিষয়ের ওপর হাজার হাজার ব্লগ তৈরি করা হয়েছে। তাহলে আপনি তাদের মধ্যে একজন কিভাবে হবেন?

এর একটাই উত্তর, সেটি হল Unique Content। যদি আপনি আপনার ব্লগে সবার থেকে আলাদা কনটেন্ট লিখেন তাহলে, সেই কনটেন্ট এর উপর ভিত্তি করে আপনার একটি নিজস্ব পরিচয় তৈরি হবে। ব্যবহারকারীদের নিজস্ব পছন্দ থাকবে। তারাও জানবে যে এই ব্লগটি সবার থেকে আলাদা কনটেন্ট প্রকাশ করে।

আপনি আপনার ব্লগে যদি ইউনিক কন্টেন্ট পাবলিশ করতে থাকেন, তাহলে আপনি অনেক বেশি কাস্টমার পেয়ে যাবেন। তাদের কোনো সমস্যা থাকলে তারা আপনার ব্লগের কন্টেন্টগুলি পড়বে। এই জন্য সর্বদা, সবার থেকে আলাদা কনটেন্ট লেখার চেষ্টা করুন। যেখানে কোন নির্দিষ্ট টপিক কে, দর্শকদের সামনে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়।

Copy করা থেকে দূরে থাকুন

যদি আপনি কোন ব্লগ শুরু করে ভাবলেন যে আমি অন্য সব ব্লগারদের কনটেন্ট গুলি কপি করে নিজের ব্লগে পাবলিশ করে দেবো; তাহলে এটা একটি মারাত্মক ভুল।

কারণ আপনার ব্লগকে দর্শকদের সামনে নিয়ে যাওয়ার জন্য গুগলের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু গুগোল কখনোই কপি করা কন্টেন্টগুলি Rank করে না। এইজন্য কপি করা content, অরিজিনাল কন্টেন্টগুলি থেকে অনেক দূরে পড়ে থাকে। অনেক দূরে থাকার কারণে সেগুলি দর্শকদের চোখে পড়বে না। এবং দর্শকদের চোখে না আসলে আপনার ব্লগে ট্রাফিক ও আসবেনা।

তাই সর্বদা যতটা পারেন যেভাবে পারেন নিজে কনটেন্ট লিখুন। আপনি এই জন্য অন্য সব ব্লগারদের ব্লগ গুলি পড়ে নিয়ে নিজের ভাষায় সেই কনটেন্টকে লিখে দর্শকদের সামনে পরিবেশন করতে পারেন।

Patient রাখুন

Patient মানে হল ধৈর্য। আর যে কোন কাজে সফল পাওয়ার জন্য ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। আপনি আজই একটি ব্লগ বানিয়ে হাজার হাজার ট্রাফিক পাবেন না।

এইজন্য আপনাকে ধৈর্য রাখতে হবে। ধৈর্য না হারিয়ে প্রত্যেকদিন দর্শকদের নতুন নতুন ইনফরমেশন দেওয়ার চেষ্টা করুন। আপনার ব্লগে ট্রাফিক না থাকলেও আপনি ভেবে নিন, আপনার ব্লগের ট্রাফিক আছে এবং আপনি তাদের জন্য এ সমস্ত কন্টেন্টগুলি লিখছেন। দেখবেন এরকম করতে করতে যেদিন আপনার ব্লগে ট্রাফিক আসবে সেদিন আপনি কতটা খুশি হবেন।

অন্যদের ব্লগ পড়ুন

নতুন নতুন বিষয় জানার জন্য অন্যদের ব্লগ পড়ুন। যেখান থেকে আপনি নতুন নতুন টপিক এর সম্বন্ধে আইডিয়া পেয়ে যাবেন। এবং আপনি এটাও বুঝে যাবেন যে একটি ব্লগ কিভাবে লিখতে হয়।

একটা কথা মনে রাখবেন আপনি হচ্ছেন শিক্ষক আর আপনার ব্লগের দর্শকরা হচ্ছেন ছাত্র। তাই শিক্ষক যতটা শিখবে ছাত্র ঠিক ততটাই শিখবে।

একটি Niche ধরে রাখুন

Niche মানে হল নির্দিষ্ট বিষয়। আপনি একটি নির্দিষ্ট বিষয় বেছে নিয়ে ব্লগ বানান। তাহলে দর্শকরাও বুঝে যাবে যে আপনি আপনার ব্লগে কোন ধরনের কনটেন্ট প্রকাশ করেন।

যদি আপনি এটা না করে একদিন Beauty information, একদিন Biography, একদিন Tech ইনফরমেশন এরকম করেন, তাহলে দর্শকরা আপনার ব্লগের প্রতি আকৃষ্ট হবেন না। তারাও ঠিক করতে পারবে না আপনার ব্লগে কি ধরনের কনটেন্ট আপনি প্রকাশ করতে চান। যার ফলে আপনি targeted audience পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকবেন।

Consistent হন

ব্লগে সাফল্য পেতে গেলে আপনাকে প্রত্যেকদিন কিছু না কিছু ইনফরমেশন দিতে হবে। আপনার ব্লগের প্রথম দিকে হয়তো ট্রাফিক আসবেনা। তবুও গুগলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য রোজদিন নতুন নতুন আর্টিকেল প্রকাশ করতে হবে।

যার ফলে গুগোল ও জানবে আপনি আপনার ব্লগে প্রত্যেকদিন নতুন নতুন ইনফরমেশন দিয়ে থাকেন এবং আপনি Consistent। এর কারণে গুগোল আপনার ব্লগ টি ধীরে ধীরে Rank করতে শুরু করবে।

Income Source বাড়ান

যদি আপনি প্রফেশনালভাবে ব্লগিং করতে চান তাহলে নিশ্চয়ই আপনি আপনার ব্লগ থেকে ইনকাম জেনারেট করবেন। তবে প্রফেশনাল ব্লগিং করার জন্য অনেক ধরনের ইনকাম সোর্স আপনার ব্লগে বর্তমান থাকা জরুরি।

যদি কোন কারণে একটি ইনকাম সোর্স বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আপনি অনায়াসে অন্যগুলো থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

প্রফেশনাল ব্লগিং করার জন্য কিছু পরিমাণ টাকা খরচ করতে হয়। যদি আপনি খরচ করা টাকা, আপনার ব্লগ থেকেই উপার্জন করতে চান তাহলে একের বেশি আয় করার রাস্তা আপনাকে বেছে নিতে হবে।

Update করুন

আপনি যেহেতু প্রফেশনালভাবে লোকেদের ইনফরমেশন দিচ্ছেন, সেহেতু আপনার ব্লগের পুরনো কন্টেন্টগুলি রোজদিন আপডেট করা দরকার। আপনি ইউজারদের যতটা সঠিক এবং আপডেট কনটেন্ট পরিবেশন করবেন, ততটাই তারা আপনার ব্লগের প্রতি আকৃষ্ট হবেন।

যেমন ধরুন আপনি কোন মোবাইলের ভার্সন এর ওপর আর্টিকেল লিখেছেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে এমন কিছু আপডেট এলো, যেটি আপনার পুরনো কনটেন্টে নেই। তাই আপনাকে সেই কন্টেন্টটি খুলে নিয়ে নতুন জিনিসগুলো লিখে সেটিকে আপডেট দিতে হবে।

Interact করুন

প্রফেশনাল ব্লগিং করার জন্য, অন্যসব প্রফেশনাল ব্লগার দের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে। প্রফেশনাল ব্লগিং অনেক কিছু জিনিস জানতে ও শিখতে হয়। আপনি যদি অন্যদের সাথে Interact করেন, তাহলে আপনি তাদের থেকে অনেক কিছু শিখতে ও তাদের শেখাতে পারবেন।

এর সাথে এমন কিছু জিনিস যেগুলো আপনি এখনো জানেন না, সেইসব সম্পর্কে তাদের সাথে আলোচনা করতে পারবেন।

Followers বাড়ান

একজন প্রফেশনাল ব্লগার, তার ভিজিটরদের সর্বদা সাপোর্ট করেন এবং তাদের নতুন নতুন জিনিস শেখান। এই জন্য কখনো কখনো ব্লগার দের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ফলোয়ার বাড়ানো দরকার। যার ফলে কোন ভিজিটর কোন ব্লগারের সাথে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করতে পারেন।

এবং এই রকম ভাবে ফলোয়ার বাড়ানোর সাথে সাথে দেখবেন একদিন তারা আপনার ব্লগের ডেলি কাস্টমার হয়ে যাবে। সেদিন আপনার ব্লগে ট্রাফিকের অভাব হবে না।

ব্লগ, ব্লগার এবং ব্লগিং কি?

আপনি নিশ্চয়ই ব্লগ সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে পেরে গেছেন। আমি এখানে আর একবার ব্লগ, ব্লগার এবং ব্লগিং এই তিনটি বিষয় পরিস্কার করে দিচ্ছি।

Blog

একটি অনলাইন ডায়েরী বা ওয়েবসাইট, যেখানে রোজ দিন কোন ব্যক্তি বিভিন্ন ইনফর্মেশন প্রকাশ করে অন্যদের সাহায্য করেন।

উদাহরণ: Hinditrust.in

Blogger

যে ব্যক্তি ব্লগ বানান এবং সেই ব্লগটিতে কনটেন্ট লেখা এবং ম্যানেজ করার সাথে সাথে সমস্ত কাজকর্ম করে থাকেন তাকে ব্লগার বলা হয়।

উদাহরণ: আমি নিজে (Sanju Rauth)

Blogging

ব্লগে করা সমস্ত কাজ কে একত্রে ব্লগিং বলা হয়।

যেমন:

Set up করা, Article লেখা, Customize করা, Rank করানো, ইত্যাদি সমস্ত কাজ।

ব্লগ তৈরি করার সুবিধা

প্রথমত:

যদি আপনি কোন ব্লগ তৈরি করেন তাহলে আপনি আপনার জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা গুলি পুরো পৃথিবীর সাথে ভাগ করে নিতে পারবেন। যে ইনফর্মেশন গুলির সাহায্যে কোন ব্যক্তি তার সমস্যার সমাধান করতে পারবে।

দ্বিতীয়ত:

আপনি ব্লগ থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। যার মাধ্যমে আপনার সংসার চালানোর পাশাপাশি আপনার জীবনের প্রতিটি শখ পূরণ করতে সক্ষম হবেন।

তৃতীয়ত:

যদি আপনার কোন ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান থাকে, তাহলে আপনি আপনার ব্লগে, সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বা সেই প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে ইউজারদের ইনফর্মেশন দিতে পারবেন। যার ফলে আপনার প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা খুব সহজেই বেড়ে উঠবে।

চতুর্থ:

ব্লগ যেহেতু ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা হয়, তাই এটি আপনি পৃথিবীর যে প্রান্ত থেকে খুশি করতে পারেন। এটির জন্য নির্দিষ্ট কোনো অফিস তৈরি করার প্রয়োজন নেই।

পঞ্চম:

আপনি বিভিন্ন মানুষের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারবেন। এবং সব ধরনের জিনিস সম্পর্কে আইডিয়া পেতে পারেন।

ষষ্ঠ:

কোন আর্টিকেল লিখে অন্যদের সাহায্য করার সময়, নতুন নতুন তথ্য নিজেও শিখতে পারবেন। যার ফলে আপনার জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

ব্লগ তৈরি করতে কত পরিমাণ মূলধন লাগে

যদি আপনি ব্লগ তৈরি করার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে ব্লগ তৈরি করতে কত খরচ হয় সেটাও জেনে রাখা দরকার।

প্রফেশনাল ব্লগ খোলার জন্য Domain এবং Hosting এর প্রয়োজন হয়।

১ বছরের জন্য Domain কিনতে ২০০-৩০০ টাকা দিতে হয়। এবং তার পরের বছর থেকে ৪০০-৬০০ টাকা দিয়ে Renew করতে হয়।

Hosting এর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্ল্যান রয়েছে। যদি আপনি প্রথম ব্লগ তৈরি করার কথা ভাবেন তাহলে আপনি সব থেকে সস্তা প্লান নিতে পারেন। এর জন্য কোন হোস্টিং কোম্পানি কে ৪০-৫০ টাকা প্রতি মাসে দিতে হয়।

এবং আপনার ব্লগে ট্রাফিক আসার পর আপনি Basic Plan পরিবর্তন করে উন্নত মানের Plan নিতে পারেন।

আর ব্লগ কে সুন্দর ভাবে ডিজাইন করার জন্য একটি Theme প্রয়োজন। এই থিমটি আপনাকে একবার কিনতে হবে। যার জন্য আপনাকে ১৫০০-২০০০ টাকা খরচ করতে হবে। তবে যদি আপনি বিনামূল্যের দিন ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনি wordpress এর ফ্রি থিম গুলি ব্যবহার করতে পারেন।

তবে, যদি আপনি গুগলের প্রোডাক্ট blogger.com ব্যবহার করেন, তাহলে আপনাকে Domain, Hosting এবং Theme এর জন্য কোনো টাকা খরচ করতে হবেনা। আপনি বিনামূল্যে এখানে ব্লগ তৈরী করতে পারেন।

উপসংহার:

আশাকরি উপরের ইনফর্মেশন থেকে ব্লগ কি, ব্লগার কি এবং ব্লগ কিভাবে তৈরি করে এই সমস্ত কিছু সম্পর্কে, সম্পূর্ণ ধারণা পেয়ে গেছেন। যদি আপনি নিজস্ব ব্লগ বানাতে আগ্রহী হন তাহলে আজই আপনার ব্লগিং জীবন শুরু করতে পারেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।

শেয়ার করতে চান!
  •  
  •  
  •  
  •  

2 thoughts on “ব্লগ কি, ব্লগার কি এবং ব্লগ কিভাবে তৈরি করে”

Leave a Comment

error: Content is protected !!