ই-কমার্স কি | ই-কমার্স এর ইতিহাস, সুবিধা ও কিভাবে কাজ করে

ই-কমার্স কি – আজকাল ইন্টারনেটে বেশিরভাগ সময় ই-কমার্স কথাটি শুনতে পাওয়া যায়। আজকের দিনে ইন্টারনেট থেকে কোন কিছু প্রোডাক্ট ও সার্ভিস আদান-প্রদানের জন্য ই কমার্স ওয়েবসাইট গুলি ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু অনেক ব্যক্তি ই-কমার্স কি এই সম্পর্কে জানেন না। এই জন্য আজকের আর্টিকেলে আমরা ই-কমার্স কাকে বলে, ই-কমার্স এর ইতিহাস, ই-কমার্সের প্রকারভেদ এবং ই-কমার্স এর সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই চলুন দেরী না করে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া যাক।

ই-কমার্স কি?

ই-কমার্স এর ফুল ফর্ম হলো ইলেকট্রিক কমার্স। যার মানে হল অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিসের আয় ব্যয় করা।

আজকে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে, যেখান থেকে মানুষ তার পছন্দের বিভিন্ন জিনিস কিনতে পারে। এবং এর জন্য তাদের কোথাও যেতে হয় না তার বাড়িতে বসে অনলাইনের মাধ্যমে কেনাবেচা করতে পারে। অনলাইনে কেনাবেচার সাইট গুলি ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর উদাহরণ।

তবে শুধুমাত্র কেনাবেচা নয় – অনলাইন ব্যাংকিং, অনলাইন থেকে টিকিট বুক করা, কোন জিনিসের নিলাম করা এই সমস্ত কিছু ই-কমার্স এর উদাহরণ। এবং অনলাইনে আলাদা আলাদা আয় ব্যয়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে।

ই-কমার্স কাকে বলে

অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিস কেনাবেচা করার জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, সেটিকে ই-কমার্স বলে।

ই-কমার্স এর মাধ্যমে সাধারণ ব্যক্তি থেকে শুরু করে বড় বড় কোম্পানি বিভিন্ন সার্ভিস এবং প্রোডাক্ট এর আদান-প্রদান ও আয়-ব্যয় করে থাকে।

ই-কমার্স এর ইতিহাস

1979 সালে Michael Aldrich নামক এক ব্যক্তি প্রথমবার Teleshopping নামক একটি সিস্টেম তৈরি করেন। যেটির উদ্দেশ্য ছিল, কোন প্রোডাক্ট এর অ্যাডভার্টাইজমেন্ট টিভিতে হবে এবং অনলাইনের মাধ্যমে সেই প্রোডাক্ট গুলি কেনা যাবে।

এবং সেই লাইনের উপর ভিত্তি করে ১৯৯১ সালে, প্রথমবার ইন্টারনেটে ই-কমার্স এর সূচনা করা হয়।

এবং এরপর যতদিন যায় তত নতুন নতুন ওয়েবসাইট ই-কমার্স ক্যাটাগরিতে যুক্ত হয়।

ই-কমার্সের প্রকারভেদ গুলো কয়টি

বিভিন্ন রকমের ওয়েবসাইটের কাঠামো অনুযায়ী ই-কমার্স ওয়েবসাইট কে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। সেগুলি সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. Business-To-Business (B2B)

এই প্রক্রিয়ায় একজন ব্যবসাদার এর সাথে অন্য ব্যবসাদারের বা একটি কোম্পানির সাথে অন্য কোম্পানির লেনদেন হয়।

যেমন এক কোম্পানি থেকে আরেক কোম্পানিতে সফটওয়ারের আদান-প্রদান।

২. Business-To-Consumer (B2C)

এই প্রক্রিয়ায় একজন ব্যবসাদার বা একটি কোম্পানি, সরাসরি ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে কাস্টমারের কাছে প্রোডাক্ট ও সার্ভিস পৌঁছে দেয়।

যেমন কোন অনলাইন ওয়েবসাইট থেকে কোন প্রোডাক্ট কেনা।

৩. Consumer-to-Consumer (C2C)

এই প্রক্রিয়ায় একজন কাস্টোমার অন্য আরেক কাস্টমারকে, তার প্রোডাক্ট ও সার্ভিস লেনদেন করে।

যেমন কোন সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি, সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল, বাড়ি ইত্যাদি।

৪. Consumer-to-Business (C2B)

যখন কোন কনজিউমার বা কাস্টমার কোন কোম্পানিকে তার সার্ভিস বা প্রোডাক্ট বিক্রি করে তখন এটি C2B সিস্টেম এর অন্তর্ভুক্ত হয়।

উদাহরণ হিসেবে, একজন ফ্রিল্যান্সার কোন কোম্পানিতে সার্ভিস দিয়ে থাকে।

ই-কমার্স এর সুবিধা

  • ই-কমার্স এর মাধ্যমে বাড়িতে বসে অনেক প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস ডেলিভারি পাওয়া যায়।
  • অনেক বড় বড় কোম্পানি, টার্গেটেড কাস্টমার খুঁজে পায়।
  • আয়-ব্যয়ের সুবিধা হয়।
  • সময় সাশ্রয় হয়।
  • কাস্টমারদের বাইরে বেরিয়ে নির্দিষ্ট জিনিস খোঁজার প্রয়োজন হয় না।
  • বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে, ওয়েব সাইটগুলি অ্যাক্সেস করা যায়।
  • কোন জিনিসের কি দাম সেটা দেখে নেওয়া যায়।

কিছু ই-কমার্স ওয়েবসাইট

এখানে কিছু জনপ্রিয় ই-কমার্স ওয়েবসাইটের তালিকা দেওয়া হল। যেগুলি সবথেকে বেশি ব্যবহার করা হয়।

ই-কমার্স ওয়েবসাইট –

  • Amazon
  • Alibaba
  • eBay
  • Walmart
  • Aliexpress
  • Newegg
  • Etsy
  • BigCommerce

ই-কমার্স এর অপর নাম কি?

ই-কমার্স বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন নামে পরিচিত। ই-কমার্সের আরো কিছু নাম রয়েছে সেগুলি হল –

  1. ecommerce
  2. e-business
  3. e-trading
  4. ebusiness

ই-কমার্স ব্যবসা কি?

বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে ব্যবসা করার প্রক্রিয়াটিকে ই-কমার্স ব্যবসা বলা হয়।

সোজা কথায় বলতে গেলে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিসের আদান-প্রদানের যে মডেল, সেই মডেল টিকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া টি হল ই-কমার্স ব্যবসা।

B2B, B2C, C2B এবং C2C এই চারটি মডেলের সাহায্যে ই-কমার্স ব্যবসা করা হয়।

ই-কমার্স মার্কেটিং কি?

নির্দিষ্ট ই-কমার্স স্টোর বা অনলাইন স্টোর এর মধ্যে কার্তিক বা কাস্টমার আনবার জন্য যে প্রক্রিয়া গুলি ব্যবহার করা হয় সেটি হল ই-কমার্স মার্কেটিং।

ই-কমার্স মার্কেটিং এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে, কাস্টমার নিয়ে আসা হয় এবং ই-কমার্স ব্যবসাকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

উপসংহার

আশাকরি উপরে ইনফর্মেশন থেকে ই-কমার্স কি, ই-কমার্স এর ইতিহাস, ই-কমার্সের প্রকারভেদ, ই-কমার্স এর অপর নাম এবং ই-কমার্স ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এখনো যদি ই-কমার্স সম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

আরও পড়ুন

শেয়ার করতে চান!
  •  
  •  
  •  
  •  

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment