C++ কি, এর বৈশিষ্ট্য এবং জনক কে?

বর্তমান যুগ হলো মোবাইল এবং কম্পিউটারের যুগ। এবং মোবাইল ও কম্পিউটার কে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করানোর জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রামিং এর প্রয়োজন পড়ে। আর এই সকল প্রোগ্রাম গুলি তৈরি হয় বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দ্বারা। যাদের মধ্যে C++ হলো সবথেকে জনপ্রিয়।

যদি আপনি এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ টা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটিতে আপনি C++ সম্পর্কে অনেক ইনফরমেশন পাবেন।

যেমন – C++ কি, C++ এর জনক কে, C++ এর কাজ কি, C++ এর বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি। যদি আপনিও পরবর্তীকালে এই প্রোগ্রামিং ভাষাটি শিখতে চান তাহলে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা দরকার। এই জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে নিন।

C++ কি?

C++ হলো একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। যেটি কম্পিউটার এবং মোবাইল প্রোগ্রাম তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর মাধ্যমে Code Command এর সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের visual graphics interface ও ব্যবহার করা যায়। যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামার ভাষাটির সাহায্যে কোন প্রোগ্রাম তৈরি করার সময়, প্রোগ্রামটি সম্পর্কে খুব সহজেই বুঝতে পারে এবং কাজ করা সহজ হয়। এবং এটি হলো Objected Oriented Programming Language।

C++ এর জনক কে?

১৯৭৯ সালে Bjarne Stroustrup নামক এক প্রোগ্রামার, এর দ্বারা এই ভাষার প্রথম ব্যবহার হয়েছিল। এইজন্য তাকেই C++ এর জনক হিসেবে ধরা হয়।

যখন এই ল্যাঙ্গুয়েজ টি বানানো হয় তখন এটির নাম ছিল C with Classes। এই সময় এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ। এই প্রোগ্রামিং ভাষা টির কিছু লিমিটেশন থাকার কারণে, যখন কম্পিউটারে সংখ্যা বাড়তে থাকে তখন বিভিন্ন টেকনোলজি সাহায্যে এই ভাষাটির আপডেট ভার্সন রিলিজ করা হয়।

এবং পরবর্তীকালে 1983 সালে এটির নামকরণ করা হয় C++, এবং এটি কোন লিমিটেশন ছাড়াই ব্যবহার করা যায়।

C++ এর কাজ কি?

বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার এর বিভিন্ন প্রোগ্রাম বানানোর জন্য C++ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজটি ব্যবহার করা হয়।

যার মাধ্যমে কম্পিউটার এবং মোবাইলের বিভিন্ন এপ্লিকেশন, সফটওয়্যার, গেমস ইত্যাদি বানানো হয়।

C++ এর ব্যবহার

  1. উইন্ডোজ, লিনাক্স এবং অন্যান্য জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম এই ল্যাংগুয়েজটার সাহায্যে বানানো হয়।
  2. বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার এবং মোবাইল সফটওয়্যার বানানোর জন্য কাজে লাগে।
  3. বিভিন্ন স্মার্টওয়াচ এবং চিকিৎসার মেশিন গুলি প্রোগ্রামিং করার জন্য এই ভাষাটির প্রয়োগ করা হয়।
  4. বিভিন্ন ডিভাইস ড্রাইভার বানানোর জন্য কাজে লাগে।
  5. ইত্যাদি।

C++ এর বৈশিষ্ট্য

  • এটি হাই লেভেল এবং ও লো লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজের মাঝামাঝি একটি ভাষা।
  • এই ভাষার দ্বারা তৈরি প্রোগ্রাম খুব দ্রুত গতিতে কাজ করে।
  • এর দ্বারা তৈরি প্রোগ্রামকে compiler দ্বারা অনুবাদ করা হয়।
  • প্রোগ্রামে pointer এর ব্যবহার করা হয়।

C++ এর গুরুত্ব

এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর মাধ্যমে Code Command এর সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের visual graphics interface ও ব্যবহার করা যায়।

যার মাধ্যমে প্রোগ্রামার সহজেই প্রোগ্রামটি বুঝে উঠতে পারে এবং কাজ করা সহজ হয়।

ভিজুয়াল গ্রাফিক্স নিয়ে কাজ করার জন্য, নির্দিষ্ট প্রোগ্রামার কম সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম তৈরী করতে পারে। যেখানে অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ গুলিতে শুধুমাত্র command এর সাহায্যে কাজ করতে হয়।

ভিজুয়াল গ্রাফিক্স ইন্টারফেস থাকার কারণে এই ল্যাংগুয়েজ শিখতে খুব কম সময় লাগে এবং যেকোনো নতুন প্রোগ্রামার খুব সহজে নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম তৈরী করতে পারে।

C++ কিভাবে শিখবেন?

এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ টি শেখার জন্য আপনি অনলাইন বা অফলাইন যেকোনো একটি উপায় শিখতে পারেন।

অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার জন্য আপনি পেড কোর্স করতে পারেন বা অনলাইন থেকে ফ্রি ই-বুক ডাউনলোড করতে পারেন। পেড কোর্স করলে আপনি কোর্স সম্পন্ন হওয়ার পর একটি সার্টিফিকেট পাবেন। যে সার্টিফিকেটটি পরবর্তীকালে যেকোনো কাজের জন্য আপনি কাজে লাগাতে পারেন।

এছাড়া আপনি অফলাইনের সাহায্যে শেখার জন্য মার্কেট থেকে এই প্রোগ্রামিং এর বই কিনে পড়তে পারেন।

এছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে ইউটিউব ভিডিওর টিউটোরিয়াল দেখেও আপনি এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজটি ধাতস্থ করতে পারেন।

এছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে শেখার জন্য আপনি w3schools.com এই ওয়েবসাইটটিতে যেতে পারেন। এখানে আপনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যেকোনো ধরনের প্রোগ্রামিং শিখতে পারবেন।

C++ প্রোগ্রামিং বই

  1. Effective Modern C++
  2. C++ Primer
  3.  Programming: Principles and Practice Using C++
  4. The C++ Programming Language
  5. A Tour of C++

যদি আপনি বই পড়ে C++ প্রোগ্রামিং শিখতে চান তাহলে এই পাঁচটি বই পড়তে পারেন।

C++ কোন প্রজন্মের ভাষা?

১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সময়কালকে কম্পিউটারের তৃতীয় প্রজন্ম(3rd Generation) বলা হয়। যেহেতু এটির সূচনা এই সালের মধ্যে হয়, তাই C++ হলো তৃতীয় প্রজন্মের ভাষা।

উপসংহার

আশা করি আজকের এই ইনফরমেশন থেকে C++ কি, এর বৈশিষ্ট্য এবং জনক কে – এই সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন। যদি এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে এখনো কিছু জানার থাকে তাহলে আপনি কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা কমেন্ট এর মাধ্যমে আপনাকে সাহায্য করার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

Sanju

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment