স্পিকার কি | স্পিকার কিভাবে কাজ করে?

আমরা জানি যে কম্পিউটারের বিভিন্ন ধরনের ইনপুট ডিভাইস এবং আউটপুট ডিভাইস থাকে। যেগুলো সম্পর্কে আমরা আগে আলোচনা করেছি। আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা কম্পিউটারের আরেকটি আউটপুট ডিভাইস সম্পর্কে জানব। যার নাম হলো কম্পিউটার স্পিকার

এখান থেকে আজ আপনারা স্পিকার সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাবেন।

যেমন কম্পিউটার স্পিকার কি, কম্পিউটার স্পিকার কয় প্রকার, স্পিকার কিভাবে কাজ করে এবং স্পিকার কিভাবে বানায়

যদি আপনিও কম্পিউটার স্পিকার সম্পর্কে সকল প্রশ্নের উত্তর গুলো জানতে চান তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।

স্পিকার কি?

কম্পিউটারের আউটপুট হিসেবে আসার শব্দ শোনার জন্য স্পিকার ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ স্পিকার হলো একটি আউটপুট ডিভাইস।

এমন কিছু কম্পিউটার আছে যাদের মধ্যে ইন্টার্নাল স্পিকার যোগ করা থাকে। তবে বেশিরভাগ সময় অত্যন্ত ভালো মনের অডিও শোনার জন্য এক্সটার্নাল স্পিকার লাগানো হয়।

স্পিকার মানে কি?

সাধারণত স্পিকার বলতে বোঝায় বক্তা বা কথককে। অর্থাৎ, কোন বক্তা বা কথক যখন বক্তৃতা দেয় তখন তাকে স্পিকার নামে অভিহিত করা হয়।

কিন্তু কম্পিউটারের ক্ষেত্রে স্পিকার বলতে একটি আউটপুট ডিভাইস কে বোঝানো হয়। যার মাধ্যমে কম্পিউটারের আউটপুট শব্দরূপে এবং শ্রবণযোগ্য ভাবে মানুষের কানে পৌঁছায়।

স্পিকার কি কাজ করে?

একটি স্পিকার ইলেকট্রনিক শক্তিকে মানুষের শ্রবণযোগ্য শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করতে ব্যবহার করা হয়।

স্পিকার কয় প্রকার ও কি কি?

প্রযুক্তির ভিত্তিতে অনেক ধরনের স্পিকার রয়েছে, যেগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো-

১. ব্লুটুথ স্পিকার

বর্তমান সময়ে ব্লুটুথ স্পিকার অনেক বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্লুটুথ স্পিকার হল ওয়্যারলেস স্পিকার। এগুলো ব্লুটুথের মাধ্যমে ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত থাকে। তাদের সাউন্ড কোয়ালিটি খুবই ভালো।

২. স্টুডিও মনিটর

স্টুডিও মনিটর স্পিকার স্পষ্টতার সাথে শব্দ তৈরি করে। এগুলি বেশিরভাগই গান শোনার জন্য ব্যবহৃত হয়, ক্রীড়া সরঞ্জাম।

৩. কেন্দ্রীয় চ্যানেলের স্পিকার

সেন্ট্রাল চ্যানেল স্পিকারের মান স্টুডিও মনিটরের মতো। টেলিভিশনের সাউন্ডে মান আনতে এই স্পিকারগুলো টেলিভিশনের সামনে বা উপরে রাখা হয়।

৪. লাউডস্পিকার

এগুলি হল সাধারণ ধরণের হোম স্পিকার যা পুরানো সময়ে রেডিও, টেলিভিশন, স্টেরিও ইত্যাদিতে শব্দ গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত হত।

এই ধরনের স্পিকার বেশিরভাগই বিয়ে, পার্টি, স্টেজ শো ইত্যাদি জায়গায় ব্যবহৃত হয়, আকারে বড় হওয়ায় তারা বেশি জায়গা দখল করে। আজকাল এই ধরনের স্পিকার ছোট আকারেও পাওয়া যায়।

৫. ফ্লোর স্ট্যান্ডিং স্পিকার

ফ্লোর স্ট্যান্ডিং স্পিকারগুলি প্রায় 4 ফুট উঁচু যা যে কোনও তলায় স্থাপন করা যেতে পারে। এই ধরনের স্পিকার রাখতে আরও জায়গার প্রয়োজন হয়।

আপনি অবশ্যই আপনার চারপাশে বেশিরভাগ ফ্লোর স্ট্যান্ডিং স্পিকার দেখেছেন। এই ধরনের স্পিকারের জন্য এমপ্লিফায়ার এবং রিসিভার প্রয়োজন।

৬. সাব-উফার

সাব-উফারগুলি খুব কম ফ্রিকোয়েন্সি স্পিকার, যেখানে শব্দের তীব্রতা 20 থেকে 200 Hz এর মধ্যে। এগুলি হোম থিয়েটার, গাড়ি ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

৭. স্যাটেলাইট স্পিকার

স্যাটেলাইট স্পিকার আকারে ছোট এবং তারযুক্ত। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি সাব-উফার রয়েছে এবং এই সাব-উফারটি তাদের জন্য সাধারণ শক্তির উত্স। আপনি বাড়ির যে কোন জায়গায় এই ধরনের স্পিকার রাখতে পারেন।

৮. অন-ওয়াল স্পিকার

আপনি আপনার বাড়ির দেয়ালে অন ওয়াল স্পিকার লাগিয়ে নিতে পারেন, এর জন্য আপনার বাড়ির দেয়ালে গর্ত করার দরকার নেই।

৯. ইন-ওয়াল স্পিকার

ইন-ওয়াল স্পিকারগুলিকে ইন-সিলিং স্পিকারও বলা হয়, এই স্পিকারগুলি খুব ব্যয়বহুল এবং ইনস্টল করাও সহজ নয়।

এগুলি বাড়িতে ব্যবহার করা যেতে পারে, আপনি যদি বাড়ির যে কোনও ঘরে আরও গান শুনতে চান তবে ইন-ওয়াল স্পিকারগুলি একটি ভাল বিকল্প। যারা গান পছন্দ করেন তাদের জন্য ইন-ওয়াল স্পিকার উপকারী।

১০. বুকশেল্ফ স্পিকার

বুকশেল্ফের স্পিকারগুলি মাঝারি আকারের। এগুলি হোম থিয়েটার সেটআপে একটি দুর্দান্ত বিকল্প হিসাবে প্রমাণিত হতে পারে।

এই স্পিকারগুলি দিকনির্দেশক, যার অর্থ সঠিকভাবে শব্দ শোনার জন্য আপনাকে তাদের আপনার দিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে। এই ধরনের স্পিকারের জন্য ফ্লোর স্ট্যান্ডিংয়ের মতো অ্যামপ্লিফায়ার এবং রিসিভারও প্রয়োজন।

ফ্লোর স্ট্যান্ডিং স্পিকার রাখার জন্য আপনার মেঝেতে একটি বড় জায়গা দরকার কিন্তু ওয়াল স্পীকারে আপনার মেঝেতে বড় জায়গার প্রয়োজন নেই। আপনি সহজেই আপনার দেয়ালে এগুলি ফিট করতে পারেন।

১১. আউটডোর স্পিকার

আউটডোর স্পিকার ওয়েদারপ্রুফ, আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিকার বা সিস্টেম হিসাবে এই ধরনের স্পিকার কিনতে পারেন।

স্পিকার কিভাবে কাজ করে?

স্পিকার প্রথমে কম্পিউটারের অডিও রিসিভার এর দ্বারা ইনপুট গ্রহণ করে এবং এরপর সেই ইনপুটকে স্পিকার বা ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক তরঙ্গ কে ধ্বনি তরঙ্গে পরিবর্তন করে।

ইনপুট দুই ধরনের হয় একটি হলো অ্যানালগ এবং অপরটি ডিজিটাল।

এনালগ স্পিকার খুব সহজেই, এনালগ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গকে ধ্বনি তরঙ্গে পরিবর্তন করতে পারে।

কিন্তু ডিজিটাল স্পিকার প্রথমে ডিজিটাল সিগন্যালকে এনালগ সিগনালে পরিবর্তন করে, এরপর সেই এনালগ সিগনালকে ধ্বনি তরঙ্গে পরিবর্তন করে থাকে।

এইভাবে স্পিকার কাজ করে থাকে।

স্পিকার কিভাবে তৈরি করে?

স্পিকার কিভাবে বানায় – যদি আপনি কম্পিউটার স্পিকার বানানো সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এই ভিডিওটি দেখতে পারেন।

এই ভিডিওটির মধ্যে কম্পিউটার স্পিকার কিভাবে তৈরি করা হয় এই সম্পর্কে বিস্তারিত ইনফরমেশন দেওয়া আছে।

স্পিকার কি ধরনের ডিভাইস?

কম্পিউটার স্পিকার সাধারণত শব্দ বা ধ্বনি শোনার জন্য ব্যবহার করা হয়। এবং যেহেতু এটি কম্পিউটারের একটি আউটপুট হিসেবে কাজ করে। এই জন্য কম্পিউটার স্পিকার হলো এক ধরনের আউটপুট ডিভাইস।

উপসংহার

আশা করছি আজকের এই ইনফরমেশনটি থেকে কম্পিউটার স্পিকার সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত বুঝতে পেরেছেন। যেখান থেকে আপনার মনের সকল প্রশ্নের উত্তর আপনি পেয়ে গেছেন। যদি এখনো কম্পিউটার স্পিকার সম্পর্কে আপনার কিছু জানার থাকে তাহলে আপনি কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

আরও পড়ুন

Sanju

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment