সিএনজি গ্যাস কি – সিএনজি এর পূর্ণরূপ কি

আগের আর্টিকেলে আমরা জেনেছিলাম এলপিজি গ্যাস কাকে বলে। এইজন্য আজকের আর্টিকেলে আমরা সিএনজি গ্যাস সম্পর্কে জেনে নেব।

বর্তমানে সিএনজি গ্যাসের ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। এবং ধীরে ধীরে সিএনজি গ্যাস, এলপিজি গ্যাসের জায়গা নিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু অনেকেই আছেন যারা সিএনজি গ্যাস সম্পর্কে জানেন না।

এই জন্য, তাদের মনে সিএনজি গ্যাস সম্পর্কে ধারণা দিতে – আজকের আর্টিকেল থেকে আমরা, cng গ্যাস কি, সিএনজি এর পূর্ণরূপ কি, cng এর ব্যবহার কখন করা হয় এবং এলপিজি এবং সিএনজি গ্যাসের মধ্যে পার্থক্য কি; এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

তাই চলুন দেরী না করে সিএনজি গ্যাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

সিএনজি গ্যাস কি?

সিএনজি হলো এক প্রকারের প্রাকৃতিক গ্যাস। যেটিকে চাপের দ্বারা সংকুচিত করে, তরলে পরিণত করা হয়। এবং তরলে পরিণত করবার পর এটিকে গ্যাস ট্যাঙ্কে জমা করা হয়।

সিএনজি ওজনে, বাতাসের থেকেও হালকা একটি গ্যাস। এবং এই গ্যাসটি পেট্রোল এর থেকে অনেক নিরাপদ। কারণ এটি পেট্রোল এর মতো, দহনের সময় সালফার ত্যাগ করে না।

সিএনজি এর পূর্ণরূপ কি

সিএনজি এর পূর্ণরূপ হল Compressed Natural Gas। এই প্রাকৃতিক গ্যাস কে সংকুচিত করবার জন্য এটিকে Compressed বলা হয়।

CNG গ্যাস কাকে বলে?

জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য প্রাকৃতিক উপায়ে যে গ্যাস তৈরি করা হয় তাকে সিএনজি গ্যাস বলে।

প্রকৃতির বিভিন্ন গ্যাসকে সংকুচিত করে সিএনজি গ্যাস তৈরি করা হয়। এবং সিএনজি গ্যাসে, যে উপাদানের পরিমাণ সবথেকে বেশি থাকে সেটি হল মিথেন।

Cng এর ব্যবহার –

  • বিভিন্ন যানবাহনের (ট্রাক, বাস, মিনিবাস, থ্রি হুইলার, ফোর হুইলার) জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
  • এবং বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি গুলিতে বয়লার চালাতে সিএনজি গ্যাসের ব্যবহার করা হয়।
  • এবং যে সমস্ত যানবাহন পেট্রলে চলাচল করে, সেই সমস্ত যানবাহন গুলিতে বর্তমানে মডিফাই করে, সিএনজি গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। কারণ পেট্রোল থেকে সিএনজি গ্যাস ব্যবহারের খরচ অনেক কম।

সিএনজি গ্যাসের প্রধান উপাদান কি

সিএনজি গ্যাসের 80 থেকে 90 শতাংশ মিথেন থাকে। তাই সিএনজি গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন

সিএনজি এবং এলপিজি গ্যাসের পার্থক্য

১. সিএনজি হলো এক প্রকারের প্রাকৃতিক গ্যাস। যেটিকে প্রচণ্ড চাপে তরল পদার্থে পরিণত করে বোতলজাত করা হয়।

অপরদিকে এলপিজি হলো কৃত্রিমভাবে তৈরি এক প্রকারের গ্যাস। খনিজ তেল উৎপাদনের সময় কিছু কিছু গ্যাস, উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। যাদের মধ্যে প্রোপেন ও বিউটেন হল অন্যতম। প্রোপেন ও বিউটেন কে, প্রচন্ড চাপে তরল করে এলপিজি গ্যাস তৈরি করা হয়।

২. সিএনজি হল সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস। সিএনজি এর প্রধান উপাদান মিথেন কে, 200 থেকে 248 বার প্রচন্ড চাপে, সংকুচিত করবার পর এই গ্যাস তৈরি হয়।

এলপিজি হল লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস। প্রোপেন ও বিউটেন কে 15 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে উত্তপ্ত করে এবং 1.7 – 7.5 বার চাপ দিয়ে এই গ্যাস তৈরি করা হয়।

৩. সিএনজি প্রাকৃতিক গ্যাস হওয়ার কারণে এটি সস্তা হয়ে থাকে। কিন্তু অপরদিকে, এলপিজি কৃত্রিমভাবে তৈরি করার কারণে এটি হয় খরচসাপেক্ষ।

উপসংহার

আশা করি উপরের ইনফর্মেশন থেকে সিএনজি গ্যাস কাকে বলে, সিএনজি গ্যাসের প্রধান উপাদান কি এবং সিএনজি গ্যাসের ব্যবহার কখন করা হয় এই সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। যদি এখনো এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

আরও পড়ুন

শেয়ার করতে চান!
  •  
  •  
  •  
  •  

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment