ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার উপায় | ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার যোগ্যতা

ম্যাজিস্ট্রেট কিভাবে হয় – অনেকেই বড় হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হতে চান। কিন্তু সঠিক ইনফরমেশন না থাকার কারণে অনেকেই ‘কিভাবে ম্যাজিস্ট্রেট হওয়া যায়‘ – এই সম্পর্কে বুঝে উঠতে পারেনা।

এইজন্য যদি আপনি ম্যাজিস্ট্রেট হতে চান আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাকে সাহায্য করবে। যার মাধ্যমে আপনি ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার যোগ্যতা, ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার উপায়, ম্যাজিস্ট্রেট এর কাজ কি এবং বেতন কত এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

যদি আপনারা ভবিষ্যতের স্বপ্ন ‘ম্যাজিস্ট্রেট‘ হয় তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।

ম্যাজিস্ট্রেট কাকে বলে?

একজন ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি একজন আইএএস অফিসার ছাড়া আর কেউ নন । যিনি একটি জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তিনি জেলার প্রধান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও পরিচিত।

একজন ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা কালেক্টর নামেও পরিচিত। এর দায় পুরো জেলার প্রশাসনের। ডিএম-এর অধীনে – আইন-শৃঙ্খলা, কৃষি ব্যবস্থা, সমস্ত সরকারি প্রকল্প ইত্যাদির মত জেলার বিভিন্ন কাজ গুলি পড়ে।

বর্তমানে, ভারতে 748 টি জেলা রয়েছে এবং প্রতিটি জেলার সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। একজন DM (ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট) কে সহায়তা করার জন্য, SDO (সাব ডিভিশন অফিসার) , SDM (সাব ডিভিশন ম্যাজিস্ট্রেট), BDO (ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার) ইত্যাদির মতো আরও অনেক অফিসার রয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার উপায়

ডিএম হওয়ার জন্য, প্রথমে আপনাকে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং শীর্ষ 100-এ স্থান পেতে হবে।

একবার আপনি এই পরীক্ষাটি পাস করলে আপনি একজন ভারতীয় Indian Administrative Service (IAS) হয়ে যাবেন। এক বা দুটি পদোন্নতির পরে আইএএস অফিসারকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) করা হয়।

UPSC-এর সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় (CSE) প্রার্থীর অর্জিত rank এর ভিত্তিতে, তারা বিভিন্ন বিভাগে অফিসার হয়ে ওঠে।

যেমন- যদি কোনও প্রার্থীর সর্বোচ্চ rank থাকে, তাহলে তাকে ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবাতে রাখা হবে। যেমন- কর্পোরেশন এবং কমিশনের প্রশাসনের প্রধান, মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন বিভাগের সচিব, জেলা প্রধান বা জেলা কালেক্টর ইত্যাদি।

ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার শারীরিক যোগ্যতা

ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার জন্য জেনারেল কাস্ট এর ছাত্রদের বয়সসীমা ২১ থেকে ৩২ বছর, ওবিসি দের জন্য ২১ থেকে ৩৫ বছর এবং SC/ST দের জন্য ২১ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে হতে হবে।

ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা

ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার জন্য আপনাকে ন্যূনতম গ্রাজুয়েশন পাস করতে হবে। গ্রাজুয়েশন পাশ করবার পর ইউপিএসসি দ্বারা আয়োজিত CSE পরীক্ষার জন্য আবেদন জানাতে হবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আপনি ম্যাজিস্ট্রেট হতে পারবেন।

ম্যাজিস্ট্রেট পরীক্ষার প্রক্রিয়া

ডিএম হওয়ার জন্য, আপনাকে ইউপিএসসির সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা (সিএসই) পাস করতে হবে। UPSC (ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন) হল DM, IFS, IAS, IPS, SDM এবং কালেক্টরের জন্য একটি সর্বভারতীয় পরীক্ষা। যা প্রতি বছর জাতীয় স্তরে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ পূরণের জন্য আয়োজন করা হয়।

UPSC দ্বারা পরিচালিত IAS পদের পাশাপাশি, DM, IPS, IFS ইত্যাদি পদের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া 3টি পর্যায়ে সঞ্চালিত হয়। সেগুলি হলো –

  1. প্রিলিমিনারি পরীক্ষা
  2. মেইনস পরীক্ষা
  3. ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া

1. প্রিলিমিনারি পরীক্ষা

প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হল UPSC-এর CSE পরীক্ষার প্রথম পর্যায়, যা দ্বিতীয় পর্যায়ের অর্থাৎ প্রধান পরীক্ষার জন্য যোগ্যতার কাগজ। এটি হলো একটি অবজেক্টিভ টাইপ পরীক্ষা (MCQ) যা 2 টি পেপার নিয়ে গঠিত। প্রতিটি পেপার 200 নম্বরের, যার সমাধান করতে 2 ঘন্টা সময় দেওয়া হয়।

2. মেইনস পরীক্ষা

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, আপনাকে প্রধান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং এটি CSE পরীক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই মূল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। এটি ডিএম অফিসার হওয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষা। এর পর আপনার ইন্টারভিউ নেওয়া হয়।

3. সাক্ষাৎকার (ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া)

মেইন পরীক্ষা ক্র্যাক করার পরে আপনাকে চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে যেটি হলো ইন্টারভিউ। এই রাউন্ডে প্রায় 400-450 প্রার্থী উপস্থিত হয়।

আপনার বিষয় জ্ঞান, ব্যক্তিগত দক্ষতা, সেইসাথে মানসিক ক্ষমতা এই সাক্ষাৎকারের সময় পরীক্ষা করা হয়। আপনি যদি এই রাউন্ডটি ক্লিয়ার করেন তবে আপনি ডিএম অফিসার পদের জন্য নির্বাচিত হবেন।

ম্যাজিস্ট্রেট এর কাজ কি?

  • আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা।
  • সরকারের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন দেওয়া।
  • পুলিশ ও কারাগার পরিদর্শন করা।
  • বিভাগীয় কমিশনারকে সময়ে সময়ে সকল কাজের বিষয়ে অবহিত করা।
  • বিভাগীয় কমিশনার উপস্থিত না থাকলে তিনি জেলা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন।
  • ইত্যাদি।

অর্থাৎ, ম্যাজিস্ট্রেট এর প্রধান কাজ হল জেলাকে রক্ষা করা এবং প্রশাসন ব্যবস্থা ঠিক রেখে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

ম্যাজিস্ট্রেট এর বেতন কত?

ম্যাজিস্ট্রেট এর প্রারম্ভিক মাসিক বেতন হল 56000 টাকা। যার মধ্যে TA, DA এবং HRA অন্তর্ভুক্ত নেই৷ এই মৌলিক বেতন পদোন্নতির সাথে বৃদ্ধি পায়।

মানে আপনার যত বেশি পদোন্নতি হবে, আপনার বেতন তত বেশি হবে। এবং, আপনি যদি ক্যাবিনেট সেক্রেটারি পদে পৌঁছান তাহলে আপনার বেতন 2,50,000/- টাকা পর্যন্ত যাবে।

মাসিক বেতন ছাড়াও, ভারত সরকার কর্তৃক DM-কে অন্যান্য সুবিধাও দেওয়া হয়। যেমন বাংলো, গাড়ি, নিরাপত্তা প্রহরী, চাকর, ফোন, এবং TA, DA, HRA ইত্যাদি।

ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার প্রস্তুতি

  • আপনি যদি DM হতে চান, তাহলে আপনি স্নাতকের পাশাপাশি IAS, IPS বা DM-এর জন্য প্রস্তুতি শুরু করতে পারেন।
  • আপনার সাধারণ জ্ঞান বাড়াতে হবে। এর জন্য ভালো বই পড়ুন এবং বিশেষ করে এনসিইআরটি বই পড়ুন, এটি আপনার মৌলিকত্বকে শক্তিশালী করবে।
  • এছাড়াও বর্তমান বিষয় এবং ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে পড়ুন।
  • বর্তমান ইভেন্টগুলির সাথে আপডেট থাকতে দৈনিক সংবাদপত্র পড়ুন।
  • এর জন্য আপনার আইনগত জ্ঞানও থাকতে হবে, তাই আপনি এর জন্য আইনের বইও পড়তে পারেন।
  • আপনি বিগত বছরের প্রশ্নপত্রের সাহায্যও নিতে পারেন, যেটি আপনাকে পরীক্ষার প্যাটার্ন সম্পর্কে ধারণা দেবে।

উপসংহার

আশা করছি আজকের এই ইনফরমেশন থেকে ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার উপায় এবং ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝতে পেরেছেন। যদি আপনি ভবিষ্যতে একজন ম্যাজিস্ট্রেট হতে চান তাহলে উপরের ইনফর্মেশন অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করুন। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

আরও পড়ুন

Sanju

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment