মেডিটেশন করার উপকারিতা | মেডিটেশন কিভাবে করতে হয়?

আজকের এই ব্যস্ত জীবনে মানুষ অনেক সময় মন ও শরীর শান্ত রাখতে ভুলে যায়। শরীর ক্লান্ত হতে পারে, কিন্তু মন শান্ত থাকলে শরীর সবসময় সুস্থ থাকে। শরীর ও মন উভয়কে শান্ত ও সুস্থ রাখার সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে উপকারী উপায় হল ‘মেডিটেশন‘। কিন্তু অনেকেই জানেন না মেডিটেশন কি এবং মেডিটেশন কিভাবে করতে হয়

এইজন্য আজকেই আর্টিকেল থেকে আমরা মেডিটেশন সম্পর্কে আলোচনা করব। যেখান থেকে আপনি মেডিটেশন কি, মেডিটেশন করলে কি হয় এবং মেডিটেশন কিভাবে করতে হয় – এই সম্পর্কে বিস্তারিত ইনফরমেশন পাবেন।

যদি আপনিও আজ থেকে মেডিটেশন করতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে নিন।

মেডিটেশন কি?

মেডিটেশন হলো একটি শারীরিক ব্যায়াম যার সাথে শিথিলতা, মনোযোগ এবং সচেতনতা জড়িয়ে আছে। শারীরিক ব্যায়াম যেমন শরীরের জন্য কাজ করে ঠিক তেমনি মেডিটেশন মনের জন্য কাজ করে।

এই ব্যায়ামটি শান্ত অবস্থায় চোখ বন্ধ করে করতে হয়। মানুষের মনোযোগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য, মেডিটেশন হল একটি অনুশীলন। প্রত্যেকদিন মেডিটেশন অনুশীলন করলে মানুষের মন পরিষ্কার হবে এবং মানসিক শান্তি আসবে।

বাংলায় এটিকে ধ্যান বলা হয়। অর্থাৎ মানুষের ধ্যান এক জায়গায় নিয়ে আসাই হলো মেডিটেশন।

মেডিটেশন করার উপকারিতা

  • এটি মানুষকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ করে তোলে
  • মানসিক চাপ কমে যায়
  • হতাশা এবং বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি দেয়
  • মেডিটেশন বাধ্যক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, এবং ব্যক্তিকে তরুণ রাখতে সাহায্য করে
  • নিয়মিত ধ্যান করলে শিথিলতা আসে, যা মানুষের ঘুমের পক্ষে খুবই উপকারী
  • মানুষ একটি জিনিসের ওপর focus করতে পারে।

মেডিটেশন কতবার করবেন?

মেডিটেশন আপনি দিনে দুই থেকে এক বার করতে পারেন। প্রত্যেক দিন যেমন যোগ ব্যায়াম করেন ঠিক তেমনি মেডিটেশন করার অভ্যাস করুন।

মেডিটেশন কখন করবেন?

আপনি সারাদিনে, যখন খুশি মেডিটেশন করতে পারেন। তবে যদি পারেন ঘুম থেকে ওঠার পরে এবং বিকাল বেলায় মেডিটেশন করা সবথেকে ভালো। কারণ এই সময় মন আপনা থেকেই শান্ত থাকে।

মেডিটেশন কিভাবে করতে হয়?

১. সর্বপ্রথম, ধ্যানের জন্য একটি শান্ত এবং খোলা জায়গা বেছে নিন।

মেডিটেশন করার উপকারিতা | মেডিটেশন কিভাবে করতে হয়?

২. এবার চোখ বন্ধ করে শান্তিতে বসুন। মেডিটেশন করার সময় আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসুন, যাতে বেশিক্ষণ বসে থাকতে সমস্যা না হয়।

৩. শুরুতে, আপনার মন এখানে এবং সেখানে যায়। তাই ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং মনকে কেন্দ্রীভূত রাখার চেষ্টা করুন। ধীরে ধীরে আপনার মন শান্ত হবে এবং আপনি শারীরিক শিথিলতা পাবেন।

৪. শ্বাস নেওয়া এবং শ্বাস ছাড়ার প্যাটার্ন বজায় রেখে, আপনার মনোযোগ নিঃশ্বাসে ফোকাস করুন। দুই চোখের মাঝখানে আপনার পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ রাখতে হবে।

৫. ধ্যানের অভিজ্ঞতাকে আরও ভাল করতে, আপনার মুখে মৃদু হাসি রাখুন।

৬. এই পদ্ধতিটি শেষ করার পর ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে চোখ খুলুন এবং মনে শান্তির অভিজ্ঞতা অনুভব করুন।

উপসংহার

আশা করছি আজকের এই ইনফরমেশন থেকে মেডিটেশন করার উপকারিতা এবং মেডিটেশন কিভাবে করতে হয় – এই সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। যদি আপনি এখনো মেডিটেশন করার কথা ভাবছেন – তাহলে বেশি চিন্তা না করে আজ থেকেই শুরু করে দিন। কারণ এর উপকার অনেক। যেটা আপনি কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারবেন।

আরও পড়ুন

শেয়ার করতে চান!

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment