ব্যাংক লোন কি | Bank Loan কিভাবে পাওয়া যায়?

Loan (লোন) শব্দটি প্রায় বেশিরভাগ ব্যক্তিরই অল্পবিস্তর জানা রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিভিন্ন প্রয়োজনে, বিভিন্ন ব্যক্তির, বিভিন্ন ধরনের Bank Loan এর প্রয়োজন হয়। এই জন্য আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা ব্যাংক লোন সম্পর্কে ডিটেইলস ইনফর্মেশন জানবো।

যার মাধ্যমে আপনি ব্যাংক লোন এর সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারবেন।

যেমন – ব্যাংক লোন কি, ব্যাংক লোন কয় প্রকার এবং ব্যাংক লোন কিভাবে পাওয়া যায়, ব্যাংক লোন পরিশোধের উপায় ইত্যাদি।

যদি আপনি ভবিষ্যতে কোনো কারণে ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান তাহলে এই সমস্ত প্রশ্ন গুলির উত্তর জেনে রাখা আবশ্যক। এইজন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।

ব্যাংক লোন কি?

কোন ব্যক্তি বা কোম্পানি নিজের কোন কাজের জন্য ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেয়, এবং পরবর্তীকালে সেই ঋণ কিছু ইন্টারেস্ট এর সাথে মিটিয়ে দেয় – এই প্রক্রিয়াটিকে ব্যাংক লোন (Bank loan) বলা হয়।

একজন ব্যক্তির লোন নেওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এবং ব্যাংক সেই ব্যক্তিকে কিছু পেপার এবং শর্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের লোন প্রদান করে থাকে।

যেমন ব্যক্তিগত কাজের জন্য পার্সোনাল লোন, শিক্ষার জন্য এডুকেশনাল লোন, গাড়ি কেনার জন্য কার লোন ইত্যাদি।

এখন আমরা জানবো ব্যাংক লোন কত প্রকার এবং ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় কি।

ব্যাংক লোন কত প্রকার?

সময় অনুসারে ভাগ করলে ব্যাংক লোন তিন প্রকারের হয়ে থাকে। সেগুলি হল –

  1. Short Term Loan – এই ধরনের লোন পরিশোধের সময়সীমা, এক বছরের কম হয়।
  2. Medium-Term Loan – এই ধরনের লোন পরিশোধের সময়সীমা, এক থেকে তিন বছরের মধ্যে হয়।
  3. Long Term Loan – এই ধরনের লোন পরিশোধের সময়সীমা, পাঁচ বছরের উপরে থাকে।

লোন নেওয়ার পদ্ধতি উপর ভিত্তি করে ব্যাংক loan বিভিন্ন ধরনের হয়। এখানে বিশেষ কিছু লোন সম্পর্কে ইনফরমেশন দেওয়া হলো।

১. Personal Loan (ব্যক্তিগত লোন)

পার্সোনাল লোন এর মানে হলো নিজের জন্য নেওয়া লোন। সাধারণত যেকোনো লোন নিজের জন্যই নেওয়া হয় কিন্তু ব্যক্তিগত লোন এর মানে হল শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত কাজ করার জন্য লোন নেওয়া।

যেমন স্কুলের ফিস দেওয়া, কোন দামী গিফট কেনা ইত্যাদি।

পার্সোনাল লোন নেওয়ার জন্য ব্যাংক দ্বারা বেশি কিছু ডকুমেন্টস জমা নেওয়া হয় না। শুধুমাত্র নিজের ইনকাম স্টেটমেন্ট জমা দিলেই এ ধরনের লোন পাওয়া যায়।

২. Security loan (সুরক্ষা লোন)

এই ধরনের লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার সিকিউরিটি পেপার ব্যাংকের কাছে জমা দিয়ে লোন নিতে হয়।

সিকিউরিটি পেপার বলতে সরকার থেকে কোন বন্ড কেনার বা মিউচুয়াল ফান্ডে ইনভেস্ট করা পেপার।

এই সিকিউরিটি পেপার ব্যাংক জমা রেখে আপনাকে লোন প্রদান করবে। এবং যদি আপনি কোন কারণে লোন শোধ করতে না পারেন তাহলে ব্যাংক সেই সমস্ত পেপার গুলি বিক্রি করে দেবে।

৩. Gold Loan (গোল্ড লোন)

নির্দিষ্ট সোনার পরিবর্তে ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার পদ্ধতি কে বলা হয় Gold Loan।

এই লোন নেওয়ার সময় ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিমান সোনা ব্যাংকে জমা দিতে হয় এবং সেই সোনার মোট মূল্যের ৮০% ব্যাংক সেই ব্যক্তিকে লোন হিসেবে প্রদান করে।

৪. Home Loan (হোম লোন)

কোন বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য ব্যাংক থেকে যে লোন নেয়া হয় তাকে বলা হয় হোম লোন।

তবে হোম লোন নেওয়ার সঙ্গে শুধুমাত্র যে আপনি কিনতে পারবেন তাই নয় আপনি বাড়ি তৈরি করার জন্যও লোন নিতে পারেন। এই লোন পরিশোধ করার সময় পাঁচ থেকে কুড়ি বছরের মধ্যে হয়ে থাকে।

বাড়ি বানানোর বিভিন্ন ধরনের খরচ যোগ করে ব্যাংকের সামনে সেটা দেখিয়ে এই ধরনের লোন নেওয়া হয়।

৫. Property Loan (সম্পত্তি লোন)

এই ধরনের লোন নেওয়ার জন্য আপনাকে যেকোন ধরনের সম্পত্তির পেপার ব্যাংকে জমা দিয়ে লোন নিতে হবে। আপনি এই লোন নেওয়ার জন্য বাড়ির পেপার বা জমির পেপার বা দোকানের পেপার জমা দিতে পারেন।

এই লোন পরিশোধ করার সময় সাধারণত দুই থেকে 15 বছরের মধ্যে হয়ে থাকে।

৬. Car Loan (গাড়ি লোন)

কোন নতুন গাড়ি কেনার জন্য যে লোন নেওয়া হয় সেটাকে বলা হয় কার লোন।

৭. Education Loan (শিক্ষা লোন)

কোনো ছাত্র বা ছাত্রী পড়াশোনা করার জন্য ব্যাংক থেকে যে ধরনের অন্যায় সেটিকে বলা হয় এডুকেশন লোন।

এই ধরনের লোন সেই সমস্ত ছাত্রদের দেয়া হয় যারা লোন পরিশোধ করতে পারবে। এই ধরনের লোন নেওয়ার সময় দুটি জিনিস দেখা হয়।

একটি হলো ছাত্র বা ছাত্রী গার্জেনের ইনকাম কেমন এবং অপরটি হলো সেই ছাত্র বা ছাত্রী কোন ইনস্টিটিউটে ভর্তি হতে চাইছে এবং পরবর্তীকালে সে চাকরি করে লোনের টাকা পরিশোধ করতে পারবে কিনা।

এই সকল কিছু ভেরিফাই করে তারপর একজন ছাত্র বা ছাত্রী কে এডুকেশন লোন দেওয়া হয়।

৮. Corporate Loan (কর্পোরেট লোন)

যখন বড় কোনো ব্যক্তিকে বা কোম্পানিকে লোন দেয়া হয় তখন সেটি কর্পোরেট লোনের আন্ডারে পড়ে।

যেমন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, টাটা, ফ্লিপকার্ট ইত্যাদি।

ব্যাংক লোন কিভাবে পাওয়া যায়?

আশা করছি উপরে ইনফর্মেশন থেকে ব্যাংক লোন কি এবং ব্যাংক লোন কত প্রকারের হয় এই সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। এখন আমরা ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় সম্পর্কে জেনে নেব।

ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় – ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে নির্দিষ্ট ব্যাংকে যেতে হবে।

তারপর সেখানে আপনি কি ধরনের লোন নিতে চান সে সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। এবং আপনি কিভাবে পরবর্তীকালে সেই লোন পরিশোধ করবেন সেই সম্পর্কে ব্যাংকে লিগ্যাল পেপার জমা দিতে হবে।

এরপর ব্যাংক আপনার পেপাল ভেরিফিকেশন করে দেখবে আপনি লোন নেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি কিনা। যদি আপনি পেপারের ভিত্তিতে এলজিবিটি হন তাহলে ব্যাংক আপনাকে লোন প্রদান করবে।

প্রত্যেকটি ব্যাংকের লোন নেওয়ার পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন। এই জন্য লোন নেওয়ার পূর্বে নির্দিষ্ট ব্যাংকে গিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করুন বা অতিরিক্ত ইনফরমেশনের জন্য অনলাইন মারফত নির্দিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে যান।

সেখান থেকে আপনি লোন নেওয়ার বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাবেন।

ব্যাংক লোন পরিশোধের নিয়ম

ব্যাংক লোন পরিশোধের নিয়ম বিভিন্ন লোনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।

আপনি যে ধরনের লোন নিয়েছেন সেই শর্ত অনুযায়ী আপনাকে ব্যাংক লোন পরিশোধ করতে হবে।

প্রত্যেকটি ব্যাংকের লোন পরিশোধের নিয়ম ভিন্ন হওয়ার কারণে আমরা এখানে আপনাকে ভুল ইনফরমেশন দিতে চাইনা। এইজন্য আপনি সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে বা অনলাইন মারফত নির্দিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে গিয়ে ব্যাংক লোন পরিশোধের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।

এবং সেখানে গিয়ে আপনি ধরনের লোন নিতে চাইছেন সে সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পেয়ে যাবেন।

ব্যাংক লোন ক্যালকুলেটর

ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই হিসাব-নিকাশ করে নিতে হবে। এর জন্য আপনি ব্যাংক লোন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যাংক লোন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করার জন্য আপনি সরাসরি গুগোল এ গিয়ে Loan Calculator লিখে সার্চ করলে আপনার সামনে অনেক ধরনের ক্যালকুলেটর চলে আসবে।

আপনি সেখান থেকে যে কোন একটি বেছে নিয়ে, লোনের ক্যাটাগরি অনুযায়ী লোন ক্যালকুলেট করতে পারেন।

নচেৎ আপনি সরাসরি https://www.bankbazaar.com/finance-tools/emi-calculator.html এই লিংকের মাধ্যমে লোন ক্যালকুলেটর খুলে নিতে পারেন।

উপসংহার

আশা করছি আজকের এই ইনফরমেশন থেকে ব্যাংক লোন কি এবং ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝতে পেরেছেন। যদি আপনার কোনো কারণে ব্যাংক লোন এর প্রয়োজন হয় তাহলে আপনি সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে ডিটেলস ইনফরমেশন নিয়ে লোনের জন্য আবেদন করতে পারেন।

এবং যদি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। এবং যদি ব্যাংক লোন সম্পর্কে আরো কিছু জানার থাকে সেটাও জানাতে ভুলবেন না।

আমরা পরবর্তীকালে ব্যাংক লোন সম্পর্কিত আরো ডিটেইলস ইনফর্মেশন আপনাদের সামনে উপস্থিত করার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

আরও জানুন

Sanju

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment