ব্যাংক কাকে বলে | ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

ব্যাংক একাউন্ট প্রায় সকলেরই আছে। এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন সেবা ও সার্ভিস প্রায় প্রত্যেকেই নিয়ে থাকে।

তবে এখনো অনেক ব্যক্তি আছে যাদের হয়তো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। এইজন্য আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা ব্যাংক সম্পর্কে আলোচনা করব।

যেখান থেকে আপনি ব্যাংক কাকে বলে, ব্যাংক হিসাব কয় ধরনের এবং ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে জানতে পারবেন। যদি আপনার এখনো ব্যাংক একাউন্ট না থাকে তাহলে আপনি এই আর্টিকেলটি পড়ে নিয়ে ব্যাংক একাউন্ট কিভাবে খুলতে হয় এই ধারণা নিয়ে নিন।

ব্যাংক কাকে বলে?

ব্যাংক হলো এমন একটি ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন যার মাধ্যমে টাকা-পয়সার লেনদেন করা হয়। মানুষ নিজের এক্সট্রা টাকা ব্যাংকের মধ্যে রাখে, যেটিকে money deposit বলে।

ঠিক তেমনই যখন কোন ব্যক্তির টাকার প্রয়োজন হয় তখন ব্যাংক থেকে সে লোন নিতে পারে। ব্যাংক মানি ডিপোজিট এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হোল্ডার কে ইন্টারেস্ট দেয় এবং লোন নেওয়া ব্যক্তির থেকে ইন্টারেস্ট নিয়ে থাকে।

ব্যাংক কয় প্রকার?

বাণিজ্যিক ব্যাংক বা কমার্শিয়াল ব্যাংক

কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে Banking Regulation Act, 1949 এর দ্বারা regulate করা হয়।

Profit বানানোর জন্য এ ধরনের ব্যাঙ্কগুলি ডিজাইন করা হয়েছে। এই ধরনের ব্যাংকগুলোর প্রধান কাজ হল money ডিপোজিট গ্রহণ করা এবং সাধারণ ব্যক্তিদের লোন প্রদান করা।

কাজের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংক 4 প্রকারের হয়ে থাকে। সেগুলি হলো –

  1. Public sector banks
  2. Private sector banks
  3. Foreign banks
  4. Regional Rural Banks (RRB)

তফসিলি ব্যাংক

এই ধরনের ব্যাঙ্কগুলিকে Reserve Bank of India Act, 1934 এর 2nd Schedule দ্বারা কভার করা হয়।

এই ব্যাংকগুলোর কাছে paid-up capital, 5 Lakh বা তার বেশি হয়।

ব্যাংক এর বৈশিষ্ট্য

  • টাকা পয়সার সাথে লেনদেন করে
  • ডিপোজিট accept করে
  • লোন প্রদান করে থাকে
  • বিভিন্ন এজেন্সি এবং ইউটিলিটি সার্ভিস প্রোভাইড করে
  • একজন ব্যক্তির নিজস্ব পরিচয় তৈরি করে
    সুদ প্রদান করে।

ব্যাংক হিসাব কয় ধরনের?

ব্যাংক হিসাব মূলত চার ধরনের। এগুলি হল –

Current account

কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য এই ধরনের অ্যাকাউন্ট কাজে লাগে।

কোন প্রতিষ্ঠানের একাধিক মালিকানা থাকলে এই ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এই ধরনের অ্যাকাউন্ট একসাথে অনেক অ্যাকাউন্ট হোল্ডার ব্যবহার করতে পারে।

এই ধরনের একাউন্টে ডেবিট কার্ড, গ্যারান্টি কার্ড, চেক বুক, ওভারড্রাফট এর মত সুবিধা গুলি পাওয়া যায়।

Savings account

মূলত টাকা জমা রাখা ও তোলার জন্য এই ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলা হয়ে থাকে। মাসের শেষে স্যালারি নেওয়া, পেনশন ইত্যাদি জিনিসের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি সেভিংস একাউন্ট খুলে থাকে।

Recurring deposit account

নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রতি মাসে মাসে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জমা দিতে চাওয়া ব্যক্তি এই ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলে থাকে।

একসাথে অনেক টাকা এবং সুদের জন্য Recurring একাউন্ট খোলা হয়।

FDA/FDR

বেশি সুদ লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য fixed করার জন্য এই ধরনের একাউন্ট খোলা হয়।

ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য আপনি যেই ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইছেন প্রথমে সেই ব্যাংকের একাউন্ট অপেনিং ফর্ম নিয়ে আসতে হবে।

এরপর সেই ফরমটি ফিলাপ করে আপনার আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং প্যান কার্ডের জেরক্স সহ, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি নিয়ে, নির্দিষ্ট ব্যাংকের অফিসে জমা দিতে হবে।

জমা দেওয়ার সময় আপনি যে যে ফেসিলিটি করে নিতে চাইছেন সেগুলি ফর্ম এর মধ্যে টিক করে দিন। যেমন এটিএম কার্ড, চেকবুক, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ইত্যাদি।

আপনার ফরমটি জমা দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে। এবং আপনার বাড়ির ঠিকানায় সেই একাউন্ট বই পৌঁছে দেওয়া হবে।

কোন কোন ব্যাংকে ফর্ম দেওয়ার সাথে সাথেই অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যায়।

এরপর আপনি ডিপোজিট ফরম ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত অ্যাকাউন্ট নম্বর এর সাহায্যে টাকা ডিপোজিট করতে পারবেন।

এবং উইথড্র বা চেকবুক এর সাহায্যে টাকা উইথড্র করতে পারবেন।

উপসংহার

আশা করি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি ব্যাংক কাকে বলে, ব্যাংক কয় প্রকার ও কি কি এবং ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। যদি আপনারা কোন ব্যাংক একাউন্ট না থাকে তাহলে আপনি আপনার পছন্দমত যেকোনো একটি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ থেকে, ব্যাংক একাউন্ট খুলে নিন। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

আরও পড়ুন

শেয়ার করতে চান!

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment