বিজ্ঞান কি – বিজ্ঞান কয় প্রকার ও কি কি?

বিজ্ঞান কি – আমরা বিভিন্ন স্কুল-কলেজে বিজ্ঞান সম্পর্কে পড়াশোনা করে থাকি। কিন্তু বিজ্ঞান জিনিসটা আসলে কি এই সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা নেই।

এইজন্য বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়ার আগে আপনাকে “বিজ্ঞান কি” এই সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। তবেই আপনি বিজ্ঞান সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

বিজ্ঞান কি?

বিজ্ঞান হল এক ধরনের বিশেষ জ্ঞান। যেটি অধ্যায়ন এবং বিভিন্ন বিষয়ের উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা করবার পর একজন মানুষ পেয়ে থাকে।

একটি জিনিসের বৈশিষ্ট্য, প্রকৃতি এবং তাদের নীতি বিজ্ঞানের সাহায্যে জানা যায়। এই জন্য এই বিশেষ জ্ঞান কে বিজ্ঞান বলা হয়।

যখন আমরা আমাদের চারপাশে বিভিন্ন জিনিস কে পর্যবেক্ষণ এবং অধ্যায়ন করে, তাদের থেকে বিশেষ জ্ঞান লাভ করি, তখন সেটিকে বিজ্ঞান হিসেবে ধরা হয়।

এটির সাহায্যে নির্দিষ্ট জিনিসকে দেখে, শুনে, বুঝে; অধ্যায়ন এবং পর্যবেক্ষণ করে, কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। তাই বিজ্ঞান, কুসংস্কার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এবং বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার এর হাত থেকে বাঁচার জন্য মানুষকে বিজ্ঞানের সাহায্য নিতে হয়।

বিজ্ঞান কাকে বলে?

কোন বিষয়ের উপর ক্রমাগত অধ্যয়ন এবং অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা যে জ্ঞান পাই তাকেই বিজ্ঞান বলে।

যখনই কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর ক্রমাগত অধ্যায়ন করা হয় তখন ধাপে ধাপে আমাদের সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এবং আমরা তাদের প্রকৃতি এবং বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারি।

বিজ্ঞান এর উদাহরণ

যখন আমরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দৌড়ে যাই, তখন আমরা এটা বুঝতে পারি যে নির্দিষ্ট গতিতে পৌঁছলে আমরা, কত তাড়াতাড়ি আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছবে। এবং এই হিসাব এবং সূত্রটি বিজ্ঞান আমাদের বুঝিয়ে দেয়।

আমরা বিজ্ঞান থেকেই জেনেছি কোন বস্তু প্রথমে কঠিন থেকে তরলে এবং তরল থেকে গ্যাসে পরিবর্তিত হয়।

ঠিক একইভাবে জল 100 ডিগ্রি সেলসিয়াস এ ফুটতে শুরু করে এবং পরবর্তীতে বাষ্পে পরিণত হয়। এইসব কিছু জিনিস আমরা নির্দিষ্ট জিনিসকে পর্যবেক্ষণ এবং অনুসরণ করে, বিজ্ঞানের সূত্রের সাহায্যে বুঝতে পারি।

বিজ্ঞান শব্দের আভিধানিক অর্থ কি?

বিজ্ঞান কথাটি দুটি আলাদা শব্দ নিয়ে গঠিত। একটি হলো বি এবং অপরটি হলো জ্ঞান। বি মানে হলো বিশেষ।

সুতরাং বি বা বিশেষ + জ্ঞান, এ দুটি শব্দ নিয়ে বিজ্ঞান কথাটি তৈরি হয়েছে।

এর মানে হলো প্রকৃতিতে উপস্থিত সকল বস্তু এবং সেই বস্তু থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের ভিত্তিতে, নির্দিষ্ট বস্তুর আচরণ, বৈশিষ্ট্য এবং প্রকৃতিকে খুঁজে পাওয়ার অর্থ হল বিজ্ঞান।

বিজ্ঞান কয় প্রকার ও কি কি?

বিজ্ঞান প্রধানত তিন ধরনের। সেগুলি হল –

  1. পদার্থ বিজ্ঞান
  2. রসায়ন এবং
  3. জীববিজ্ঞান।

নিচে তিন ধরনের বিজ্ঞান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. পদার্থবিজ্ঞান

এই বিজ্ঞান এর মাধ্যমে আমরা মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে বিশ্লেষণ করে থাকি। এই ধরনের বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত এবং প্রমাণিত ঘটনাগুলি বর্ণনা করার জন্য বিবৃতি করা হয়।

যারা পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেন তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জিনিসের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এবং তারাই পৃথিবীতে নতুন নতুন নিয়ম নিয়ে এসে মহাবিশ্বকে বুঝতে সাহায্য করে।

২. রসায়ন

রসায়ন বিজ্ঞানে, বিভিন্ন জিনিসকে সমন্বয় করে নতুন নতুন ওষুধ তৈরি করা হয়। এবং অনেকগুলো জিনিস সমন্বয় ভাবে নতুন জিনিসে পরিবর্তন করার কাজ করা হয়।

যে সকল বিজ্ঞানী রসায়নে আছেন তারা প্রকৃতি থেকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বস্তুর সন্ধান করতে থাকেন। এবং এর সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বস্তু একত্রিত করে নতুন পদার্থ তৈরি করেন।

৩. জীববিজ্ঞান

এই বিজ্ঞানের সাহায্যে জীবের গঠন, বিকাশ, উৎপত্তি, ক্রিয়া এবং ক্রমাগত উন্নয়ন সম্পর্কে অধ্যয়ন করা হয়ে থাকে। এটিকে জৈব বিজ্ঞান নামেও অভিহিত করা হয়।

একটি জীব কিভাবে জীবন যাপন করে এবং তারা অন্যান্য জীবের সাথে কিভাবে আচরণ করে এই সমস্ত বিষয় নিয়ে জীববিজ্ঞান তৈরি হয়েছে।

জীব বিজ্ঞানের আবার দুটি ভাগ। ১. উদ্ভিদবিদ্যা এবং ২.প্রাণিবিদ্যা

উদ্ভিদবিদ্যা

বিভিন্ন উদ্ভিদ এবং গাছপালা নিয়ে যে বিজ্ঞানে অধ্যায়ন করা হয় সেটিকে উদ্ভিদবিদ্যা বলে। বিভিন্ন গাছের জীবন চক্র এবং পরিবেশের উপর তাদের প্রভাব সংক্রান্ত বিষয় এই বিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

প্রাণিবিদ্যা

বিভিন্ন প্রাণীদের শ্রেণিবিন্যাস, তাদের জীবন ইতিহাস, তাদের শারীরিক গঠন, তাদের খাদ্য এবং তাদের বিকাশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য, প্রাণিবিদ্যা কাজে আসে।

বিজ্ঞানের গুরুত্ব

বিজ্ঞান আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে। এবং আমরা মহাবিশ্বের বিভিন্ন জিনিস সম্পর্কে জানতে পেরেছি।

এবং বিজ্ঞান প্রচুর জিনিস আবিষ্কার করেছে যেগুলো আমাদের জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

এই জন্য মানুষের জীবনে বিজ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম।

কয়েকশো বছর আগেও মানুষ বিজ্ঞান সম্পর্কে এতটা জানতো না। তাই তাদের জীবন থেকে আমাদের জীবনের অবস্থা অনেক উন্নত।

আজকাল আপনি যে জিনিস ব্যবহার করবেন সবকিছুই বিজ্ঞানের সৃষ্টি এবং আবিষ্কার। বিজ্ঞান ছাড়া আমাদের জীবন খুবই কষ্টকর হত।

তাই আবারও বলি বিজ্ঞানের গুরুত্ব আজকের সমাজে এবং এই মহাবিশ্বে অপরিসীম।

বিজ্ঞানের উপকারিতা

বিজ্ঞান এই মহাবিশ্বকে অনেক সাহায্য করেছে। যেমন

  • বিদ্যুৎ তৈরি করে মানুষের ঘর থেকে অন্ধকার মুছে দিয়েছে
  • নিত্যনতুন পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করে মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভ্রমণ করতে পারছে
  • মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছে
  • আকাশ পথে ভ্রমণ করতে পারছে
  • বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক যন্ত্রপাতি তৈরি করেছে
  • কম্পিউটার তৈরি করে মানুষের কাজকে সহজ করে দিয়েছে
  • মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছে
  • বিভিন্ন বড় বড় চিকিৎসালয় এবং চিকিৎসার যন্ত্রপাতি তৈরি করে মানুষকে রোগমুক্ত করেছে।
  • ইত্যাদি

বিজ্ঞান শিক্ষা সবার জন্য প্রয়োজন কেন?

মহাবিশ্বের নির্দিষ্ট জিনিস কেন হচ্ছে ও কিভাবে হচ্ছে। এই সবকিছুই বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে। এই কারণে, এই সকল বিষয় জানবার জন্য বিজ্ঞান শিক্ষা সবার জন্য প্রয়োজন।

এছাড়া মানুষের দেহ কিভাবে চলছে, কি করলে কি হয়, কিভাবে রোগ মুক্ত হয়, কোন জিনিসের কি নিয়ম – এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানের মধ্যে রয়েছে। মহাবিশ্বের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার জন্য বিজ্ঞান শিক্ষা অবশ্যই নেওয়া উচিত।

উপসংহার

আশাকরি উপরের ইনফরমেশন থেকে বিজ্ঞান কি, বিজ্ঞান কয় প্রকার এবং বিজ্ঞানের গুরুত্ব ও উপকারিতা সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। যদি বিজ্ঞান সম্পর্কে এখনও কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে আপনাকে সাহায্য করার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

আরও পড়ুন

শেয়ার করতে চান!
  •  
  •  
  •  
  •  

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment