বসন্ত কবিতা রবি ঠাকুরের – বসন্ত নিয়ে দুটি কবিতা

আজকের আর্টিকেল থেকে আমরা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি বসন্ত কবিতা দেখে নেব। অনেকেই বসন্ত কবিতা পড়তে ভালোবাসেন তাই তাদের উদ্দেশ্যে আজকের এই আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে।

যে সমস্ত পড়ুয়া কবিতা পড়তে ভালোবাসেন তারা আজকের এই আর্টিকেল থেকে দুটি বসন্ত কবিতা রবি ঠাকুরের পড়া শুরু করে দিন।

বসন্ত কবিতা রবি ঠাকুরের লেখা

এখানে রবি ঠাকুরের দুটি বসন্ত নিয়ে কবিতা দেওয়া হয়েছে। এই দুটি কবিতা দুটি আলাদা কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। আশাকরি কবিতা দুটি আপনাদের ভালো লাগবে।

এখান থেকে আপনারা রবি ঠাকুরের দুটি বসন্ত কবিতা ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে‘ এবং ‘শেষ বসন্ত‘ – কবিতা গুলি পড়ে নিন।

আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে

লেখক – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গীতাঞ্জলি হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ১৫৭টি গীতিকবিতা রয়েছে। যার মধ্যে বসন্ত কবিতা রবি ঠাকুরের “আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে” কবিতাটিও সংকলিত হয়েছে।

আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।
তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে
কোরো না বিড়ম্বিত তারে।
আজি খুলিয়ো হৃদয়দল খুলিয়ো,
আজি ভুলিয়ো আপনপর ভুলিয়ো,
এই সংগীত-মুখরিত গগনে
তব গন্ধ তরঙ্গিয়া তুলিয়ো।
এই বাহির ভুবনে দিশা হারায়ে
দিয়ো ছড়ায়ে মাধুরী ভারে ভারে।

অতি নিবিড় বেদনা বনমাঝে রে
আজি পল্লবে পল্লবে বাজে রে–
দূরে গগনে কাহার পথ চাহিয়া
আজি ব্যাকুল বসুন্ধরা সাজে রে।
মোর পরানে দখিন বায়ু লাগিছে,
কারে দ্বারে দ্বারে কর হানি মাগিছে,
এই সৌরভবিহ্বল রজনী
কার চরণে ধরণীতলে জাগিছে।
ওগো সুন্দর, বল্লভ, কান্ত,
তব গম্ভীর আহ্বান কারে।

শেষ বসন্ত

লেখক – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবি ঠাকুরের আরেকটি বসন্ত নিয়ে কবিতার নাম হলো ‘শেষ বসন্ত’। এই কবিতাটি ‘পূরবী’ নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

আজিকার দিন না ফুরাতে
হবে মোর এ আশা পুরাতে–
শুধু এবারের মতো
বসন্তের ফুল যত
যাব মোরা দুজনে কুড়াতে।
তোমার কাননতলে ফাল্গুন আসিবে বারম্বার,
তাহারি একটি শুধু মাগি আমি দুয়ারে তোমার।

বেলা কবে গিয়াছে বৃথাই
এতকাল ভুলে ছিনু তাই।
হঠাৎ তোমার চোখে
দেখিয়াছি সন্ধ্যালোকে
আমার সময় আর নাই।
তাই আমি একে একে গনিতেছি কৃপণের সম
ব্যাকুল সংকোচভরে বসন্তশেষের দিন মম।

ভয় রাখিয়ো না তুমি মনে!
তোমার বিকচ ফুলবনে
দেরি করিব না মিছে,
ফিরে চাহিব না পিছে
দিনশেষে বিদায়ের ক্ষণে।
চাব না তোমার চোখে আঁখিজল পাব আশা করি
রাখিবারে চিরদিন স্মৃতিরে করুণারসে ভরি।

ফিরিয়া যেয়ো না, শোনো শোনো,
সূর্য অস্ত যায় নি এখনো।
সময় রয়েছে বাকি;
সময়েরে দিতে ফাঁকি
ভাবনা রেখো না মনে কোনো।
পাতার আড়াল হতে বিকালের আলোটুকু এসে
আরো কিছুখন ধরে ঝলুক তোমার কালো কেশে।

হাসিয়া মধুর উচ্চহাসে
অকারণ নির্মম উল্লাসে,
বনসরসীর তীরে
ভীরু কাঠবিড়ালিরে
সহসা চকিত কোরো ত্রাসে।
ভুলে-যাওয়া কথাগুলি কানে কানে করায়ে স্মরণ
দিব না মন্থর করি ওই তব চঞ্চল চরণ।

তার পরে যেয়ো তুমি চলে
ঝরা পাতা দ্রুতপদে দোলে,
নীড়ে-ফেরা পাখি যবে
অস্ফুট কাকলিরবে
দিনান্তেরে ক্ষুব্ধ করি তোলে।
বেণুবনচ্ছায়াঘন সন্ধ্যায় তোমার ছবি দূরে
মিলাইবে গোধূলির বাঁশরির সর্বশেষ সুরে।

রাত্রি যবে হবে অন্ধকার
বাতায়নে বসিয়ো তোমার।
সব ছেড়ে যাব, প্রিয়ে,
সমুখের পথ দিয়ে,
ফিরে দেখা হবে না তো আর।
ফেলে দিয়ো ভোরে-গাঁথা ম্লান মল্লিকার মালাখানি।
সেই হবে স্পর্শ তব, সেই হবে বিদায়ের বাণী।

উপসংহার

আশাকরি দুটি আলাদা কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া, বসন্তের কবিতা দুটি আপনাদের ভাল লেগেছে। যদি আপনারা পরবর্তীকালে এই রকম আরও আর্টিকেল পেতে চান তাহলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা আরও বিভিন্ন লেখকের এর বিভিন্ন কবিতা আমাদের ওয়েবসাইটে দেবার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

আরও পড়ুন

শেয়ার করতে চান!

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment