বই কেন পড়া উচিত | বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা

যদি আপনি প্রতিদিন বই না পড়ে থাকেন তাহলে আজ থেকে বই পড়া শুরু করে দিন। কারণ আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা ও বই কেন পড়া উচিত – এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

আশা করছি এখানে দেওয়া বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিয়ে আপনি আজ থেকেই বই পড়া শুরু করবেন। তাই চলুন দেরী না করে বই পড়ার উপকারিতা গুলো জেনে নেওয়া যাক।

বই কেন পড়া উচিত?

এখানে যে দশটি পয়েন্ট দেওয়া হল এখান থেকে আপনি ‘বই কেন পড়বেন’ এ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়ে যাবেন।

১. সৃজনশীল মনোভাব তৈরি করে

যারা বই পড়ে তারা সূজনশীল প্রকৃতির মানুষ হয়ে থাকে। বই পড়লে চিন্তাভাবনার উদ্ভাবনী হয় এবং নতুন নতুন ধারণা ও পরিকল্পনা তৈরি হয়।

যদি আপনি নতুন নতুন ধারণা পেতে চান এবং সূজনশীল প্রকৃতির মানুষ হতে চান, তাহলে আপনাকেও বই পড়তে হবে।

২. জ্ঞান বৃদ্ধি হয়

বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বই যখন আপনি পড়তে থাকবেন তখন আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হবে। এবং এই সমস্ত জ্ঞান আপনার জীবনে সর্বদা কাজে লাগবে।

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক ভাবে চলার জন্য বই পড়ে জ্ঞান বৃদ্ধি করা একান্ত জরুরী। এই সকল জ্ঞান আপনার ক্যারিয়ারেও ভালো প্রভাব ফেলবে।

৩. একাগ্রতা বাড়ায়

যখন আপনি একটি বই পড়েন তখন আপনার মনোযোগ শুধুমাত্র বইয়ের দিকে থাকে। যে কারণে আপনার একাগ্রতা বাড়ে।

জীবনে যে কোন কাজ করার জন্য একাগ্রতা অত্যন্ত জরুরী। এবং এই বই পড়ার মনোযোগ ও একাগ্রতাকে কাজে লাগিয়ে আপনি যেকোনো কাজ খুবই মনোযোগ সহকারে করতে পারবেন।

এই কারণে প্রতিদিন বই পড়ার অভ্যাস করুন।

৪. শব্দ ভান্ডার বাড়ায়

বই পড়ার কারণে আমাদের মধ্যে নতুন নতুন শব্দ ভান্ডার এর সৃষ্টি হয়। কোন নির্দিষ্ট জায়গায় কথা বলার সময় এই সমস্ত শব্দ ভান্ডার গুলি আমাদের চরিত্রের বিকাশ ঘটায়।

এই কারণেই বই পড়লে আমাদের একটি সুন্দর চরিত্রের সৃষ্টি হয়।

৫. স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

বই পড়ার কারণে আপনার মনে নতুন নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়। যেটি আপনার মস্তিষ্কের শক্তি কে উন্নত করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।

৬. ঘুমের ক্ষেত্রে ভালো

আমরা নিত্যদিনের জীবনে হাজার ধরনের চিন্তা করে থাকি। এবং যে কারণে আমাদের রাতে ভাল ঘুম হয়না।

যদি আপনি বই পড়া অভ্যেস করেন তাহলে, আপনার চিন্তা শক্তি দূর হয়ে আপনার মন এক জায়গায় স্থির হয়ে যাবে। এবং এই কারণে রাতে চিন্তাহীনভাবে ঘুমাতে পারবেন।

৭. কল্পনা শক্তি বাড়ায়

বই পড়ার সময় প্রত্যেকটি মানুষের কল্পনা শক্তি বৃদ্ধি পায়। যেটি মানুষের মনে নতুন নতুন ধারণা সৃষ্টি করে।

যখন আপনি কোন গল্প বা উপন্যাস পড়েন তখন আপনি দেখবেন আপনার মনে নির্দিষ্ট গল্পটি সম্পর্কে একটি ছবি আঁকা হয়ে যায়। এবং আপনার কল্পনাশক্তি বলতে থাকে গল্পটা ঠিক কেমন ভাবে শেষ হবে।

এবং যখন শেষ হয় তখন এটি পুরো অন্যভাবে শেষ হয় যার কারণে আপনার মনে কৌতুহল বাড়ে।

এই জন্য নিজের কল্পনা শক্তি ও কৌতূহল বৃদ্ধি করার জন্য বই পড়া উচিত।

৮. একাকিত্বের সঙ্গী হয়

একাকীত্ব দূর করার জন্য বই সব থেকে ভালো উপায়। আজকালকার দিনে মোবাইল ফোনকে সবাই সঙ্গী করে নেয়। কিন্তু যদি আপনি মোবাইলের মধ্যে বই পড়া শুরু করেন তাহলে আপনার জীবনের একঘেয়েমি চলে যাবে এবং আপনি একজন ভালো বন্ধু খুঁজে পাবেন।

নিজের মনকে শান্ত করতে এবং মনের মধ্যে নতুন শক্তি যোগাতে আপনিও বই পড়া শুরু করুন।

৯. অনুপ্রেরণা দেয়

আপনার জীবনে সবথেকে বেশি অনুপ্রেরণা যদি কেউ দিয়ে থাকে তা হলো বই। যদি আপনি আপনার জীবনে ভিন্ন কিছু বা বড় কিছু করতে চান তাহলে সেই অনুপ্রেরণা আপনি বই থেকে নিতে পারেন।

যেকোনো কিছু ইতিবাচক চিন্তা করা এবং নতুন কিছু চেষ্টা করার জন্য বই অত্যন্ত উপকারী।

আপনি বই থেকে অনুপ্রেরণা করতে সফল ব্যক্তিদের জীবনী এবং তাদের ব্যর্থতার স্টোরি পড়তে পারেন।

১০. ভাষাতত্ত্ব বিকাশ করে

আপনি যখন বিভিন্ন লেখকের এর বিভিন্ন বিষয়ের উপর বই পড়েন তখন আপনার ভেতরে ভাষাতত্ত্বের বিকাশ হবে। অর্থাৎ আপনার সমস্ত জিনিস সম্পর্কে কমবেশি তথ্য জানা থাকবে।

যার মাধ্যমে আপনি যেকোন ক্ষেত্রে কথা বলতে এবং আপনার যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে পারবেন।

এমন অনেক ব্যক্তি আছে যারা কোন জায়গায় কি কথা বলতে হয় তা খুঁজে পায়না। এবং অনেক সময় তথ্যের অভাবে তারা নির্দিষ্ট পয়েন্টে কথা বলতে পারেনা।

যদি আপনারও একই সমস্যা থাকে এবং নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চান এবং ভাষাতত্ত্ব বিকাশ করতে চান তাহলে আপনারও বই পড়া উচিত।

বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা

  • স্মৃতিশক্তি বাড়ায়
  • শব্দ ভান্ডার বাড়ায়
  • কল্পনা শক্তি বৃদ্ধি করে
  • ঘুম ভালো হয়
  • জ্ঞান বৃদ্ধি হয়
  • মনোযোগ তৈরি হয়
  • চিন্তা দূর হয়
  • ভালো চরিত্র গঠন হয়
  • একাকীত্ব দূর করে
  • সময় কাটায়
  • ইত্যাদি।

কোন ধরনের বই পড়া উচিত?

বিভিন্ন ব্যক্তির জন্য বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে। যদি আপনার মনে আত্মবিশ্বাস কম থাকে তাহলে আপনি বিভিন্ন সাকসেসফুল ব্যক্তির বায়োগ্রাফি পড়তে পারেন।

যদি আপনি জীবনে কিছু বড় করতে চান, তাহলে নির্দিষ্ট কোম্পানি কিভাবে বড় হয়েছে সে সম্পর্কে বই পড়ুন।

যদি আপনি গল্প ভালবাসেন তাহলে আপনি গল্পের বই পড়ুন।

যদি আপনি ইনভেস্ট করতে চান তাহলে আপনি স্টক মার্কেট শেয়ার মার্কেট সংক্রান্ত বই পড়ুন।

এইভাবে আপনার লক্ষ্য এবং ভালোলাগার হিসাবে, বই নির্বাচন করে পড়তে থাকুন।

গল্পের বই পড়ার উপকারিতা

গল্পের বই পড়লে আপনার কল্পনা শক্তি বৃদ্ধি হবে। কোন কিছু চরিত্র মনে গেঁথে নিয়ে সেই সম্পর্কে গল্পটি আপনি অনুভব করতে পারবেন।

এবং এই কল্পনাশক্তি পরবর্তীকালে আপনার ক্যারিয়ারের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। এই কারণে আমি বলতে পারি গল্পের বই পড়ার উপকারিতা অনেক।

উপসংহার

আশা করছি আজকের এই ইনফরমেশন থেকে বই কেন পড়া উচিত, কোন ধরনের বই পড়া উচিত এবং গল্পের বই পড়ার উপকারিতা সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। যদি আপনি প্রত্যেকদিন বই না পড়ে থাকেন তাহলে আজ থেকে পড়ার অভ্যাস তৈরি করে নিন। কারণ বই থেকে পাওয়া জ্ঞান, আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।

আরও পড়ুন

Sanju

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment