প্রিন্টার কি – কত প্রকার ও কি কি, প্রিন্টার এর ইতিহাস

প্রিন্টারের নাম প্রায় প্রত্যেকেই শুনেছে। যেটি কম্পিউটারের বিভিন্ন আউটপুটকে পেপার এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে। প্রিন্টার হল কম্পিউটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ আউটপুট ডিভাইস। যেটা সাধারণ কম্পিউটার ইউজার থেকে শুরু করে বড় বড় প্রতিষ্ঠান, প্রিন্ট আউট নেওয়ার জন্য ব্যবহার করে থাকে।

আজকের আর্টিকেলে আমরা প্রিন্টার কি, প্রিন্টার কাকে বলে, প্রিন্টারের ইতিহাস এবং প্রিন্টার কত প্রকার ও কি কি এর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই যদি আপনি প্রিন্টার সম্পর্কে এই সমস্ত ইনফরমেশন গুলো নিতে চান, তাহলে আজকের আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।

প্রিন্টার কি?

প্রিন্টার হলে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস। যার সাহায্যে কম্পিউটারের কোন ডকুমেন্টস সফট কপি থেকে হার্ডকপি বা কাগজে ছেপে বের করা হয়। এটি হলো কম্পিউটারের একটি আউটপুট ডিভাইস।

কম্পিউটারের মধ্যে বিভিন্ন জিনিস এবং ডকুমেন্টস স্টোর করা থাকে। যেগুলি কখনো কখনো প্রিন্ট আউট এর মাধ্যমে সাইজ ছোট বড় করে, সাদা কাগজে প্রিন্ট নেওয়া হয়। আর এই প্রিন্টিং জিনিসটি করে প্রিন্টার।

সাধারণত প্রিন্টার এর মধ্যে একটি কেবল তার থাকে যেটিকে কোমরের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে কম্পিউটার সাথে কানেকশন তৈরি করা হয়। এবং তারপর নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট প্রিন্ট আউট নেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমান যুগে অত্যাধুনিক টেকনোলজির কারণে ওয়ারলেস প্রিন্টার এর ব্যবহারও করা হয়ে থাকে। যার মাধ্যমে কম্পিউটার থেকে অনেক দূরে, প্রিন্টার সরিয়ে রেখে খুব সহজেই প্রিন্ট করা যায়।

প্রিন্টার এর ইতিহাস

কম্পিউটারের জনক চার্লস ব্যাবেজ, কম্পিউটার তৈরি করার পর কম্পিউটার থেকে কোন জিনিস, কাগজে বের করার জন্য printer এর ডিজাইন করেন।

পরবর্তীকালে ১৯৬৮ সালে, সেই ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে জাপানের EPSON নামক কোম্পানি প্রথম প্রিন্টআউট মেশিন তৈরি করেন। এবং এই প্রিন্টারটির নামকরণ করা হয় EP-101

এবং পরবর্তীকালে প্রিন্টারের স্পিড বাড়ানোর জন্য ১৯৮৪ সালে HP কোম্পানি, HP Laser Jet নামক প্রিন্টার তৈরি করে। এবং 2000 সালের পর থেকে কম্পিউটার ব্যবহারকারী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে, বড় বড় hardware কোম্পানি প্রিন্টার তৈরীর কাজে লেগে পরে।

প্রিন্টার কত প্রকার ও কি কি

প্রিন্টার এর ব্যবহার এবং টেকনোলজির ভিত্তিতে প্রিন্টার কে অনেক ভাগে ভাগ করা হয়। কিন্তু প্রিন্টারের যে মুখ্য দুটি ভাগ রয়েছে সেটি হল

১. Impact Printers
২. Non-Impact Printers

Impact Printers

এটি হলো পুরনো টেকনোলজি দ্বারা তৈরী প্রিন্টার। আজকের দিনে এর ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। এই ধরনের প্রিন্টারে একটি একটি করে অক্ষর প্রিন্ট হওয়ার জন্য সময় বেশি লাগে।

আগেকার দিনে টাইপরাইটার যেমন একটি একটি করে অক্ষর টাইপ করে প্রিন্ট করত, সেইরকম এই ধরনের প্রিন্টারে একটি একটি অক্ষর অনুযায়ী প্রিন্ট হয়। এবং একটি একটি করে অক্ষর প্রিন্ট হওয়ার কারণে প্রিন্ট হওয়ার সময়, বিকট আওয়াজ উৎপন্ন হয়।

এই ধরনের প্রিন্টার কে আবার দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো লাইন প্রিন্টার এবং অপরটি ক্যারেক্টার প্রিন্টার

লাইন প্রিন্টার একসাথে একটি লাইন প্রিন্ট করতে পারে এবং ক্যারেক্টার প্রিন্টার একই সময়ে একটি একটি করে ক্যারেক্টার প্রিন্ট করে।

Non-Impact Printers

এটি হল আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এক ধরনের প্রিন্টার। আজকের দিন যেসকল প্রিন্টার ব্যবহৃত হয় বেশির ভাগই Non-Impact Printers এর অন্তর্গত।

এই ধরনের প্রিন্টারে একই সাথে একটি গোটা পেজ প্রিন্ট করা যায়। এবং এই ধরনের প্রিন্টার পেজ অনুযায়ী প্রিন্ট করে। এই একটি একটি করে কোন ক্যারেক্টার বা লাইনকে ধরে কাজ করে না।

এই ধরনের প্রিন্টার, স্পষ্ট ভাবে প্রিন্ট আউট দেওয়ার কারণে কালার ইমেজ এবং ছবিগুলি এই প্রিন্টার এর সাহায্যে print করা হয়।

এই প্রিন্টারকে আবার দুটি ভাগে ভাগ করা যায় সেগুলি হল লেজার প্রিন্টার এবং Inkjet Printer

যেসকল প্রিন্টারে কালি ছাড়া পাউডার দিয়ে, প্রিন্ট করা হয়, এসকল প্রিন্টার কে লেজার প্রিন্টার বলে। এবং যে সকল প্রিন্টারের কালি ব্যবহার করা হয় সেই সকল প্রিন্টার কে Inkjet Printer বলে।

প্রিন্টার কি ধরনের ডিভাইস

প্রিন্টার কম্পিউটারে কোন ডকুমেন্টস কে, soft copy থেকে hard copy বা কাগজে ছাপানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। যেহেতু এই কাগজে, নির্দিষ্ট ডকুমেন্টটি বেরিয়ে আসছে এবং সেটি ইউজারকে আউটপুট প্রদান করছে, তাই এটি হলো একটি আউটপুট ডিভাইস

প্রিন্টার এর কাজ কি

প্রিন্টার কম্পিউটারের কোন ডকুমেন্টস বা ছবিকে soft copy থেকে hard copy বা কাগজে ছাপানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটারের যেকোন জিনিস প্রিন্ট করবার জন্য প্রিন্টার কাজে লাগে।

প্রিন্টার ব্যবহারের নিয়ম

  1. অরিজিনাল প্রিন্টার কালি ব্যবহার করুন
  2. দিনে একটি বার হলেও প্রিন্টার চালু করুন
  3. প্রত্যেকদিন একটি থেকে দুটি প্রিন্ট অবশ্যই নিন
  4. ধুলাবালির হাত থেকে প্রিন্টারটি সরিয়ে রাখুন
  5. সর্বদা কাপড় চাপা দিয়ে প্রিন্টারটি যত্নে রাখুন
  6. প্রিন্টারটি মাটিতে না বসিয়ে, চেয়ার বা টেবিলের উপর বসান।

উপসংহার

আশাকরি উপরের ইনফর্মেশন থেকে প্রিন্টার কি, প্রিন্টার এর প্রকারভেদ, প্রিন্টার এর ইতিহাস এবং প্রিন্টার ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। যদি এখনও প্রিন্টার সম্পর্কে আরও কিছু জানার থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

আরও পড়ুন

শেয়ার করতে চান!
  •  
  •  
  •  
  •  

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment