পড়াশোনা করলে ও না করলে কি হয়?

অনেকেই বুঝতে পারেনা যে পড়াশোনা করলে ও পড়াশোনা না করলে কি হয়। যে সকল ছাত্র ছাত্রীরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তাদের চিন্তা করার দরকার নেই। কারণ আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা এই প্রশ্নের উত্তর আপনাদের সামনে দেব।

যেখান থেকে আপনি পড়াশোনা করলে কি হয় এবং পড়াশোনা না করলে কি হবে – এই সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। তাই চলুন দেরী না করে জেনে নেওয়া যাক।

পড়াশোনা করলে কি হয়?

পড়াশোনা করলে অনেক উপকার হয়। তবে শুধুমাত্র যে স্কুল কলেজে গেলেই পড়াশোনা হয় তা নয়। আপনি স্কুল কলেজের পড়াশোনা শেষ করেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। কারণ পড়াশোনার কোন শেষ নেই।

পৃথিবীতে অনেক বড় মানুষ রয়েছে যারা স্কুল-কলেজে ফেল করে পৃথিবীর ধনী ব্যক্তি রূপে পরিচিত আছেন। এবং মানুষের মধ্যে তাদের একটি আলাদা ধরনের পরিচয় তৈরি হয়ে আছে।

পড়াশোনা করলে কি হয় এগুলি এখানে দেওয়া হলো। আপনি একটি একটি করে জিনিস গুলো দেখে নিন।

১. জ্ঞান বৃদ্ধি হয়

পড়াশোনা করলে সর্বপ্রথম যে উপকারটি হবে সেটি হলো আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হবে। আপনি যত বেশি পড়াশোনা করবেন তত আপনার জ্ঞান বাড়বে। এবং যেকোন বিষয়ের ওপর নিজেকে মানিয়ে চলতে হলে জ্ঞান অবশ্যই দরকার হয়।

পড়াশোনা করে আপনি কেন বিয়ে করলে জীবনে চলার পথে সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আপনি খুব সহজে সমস্যা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন। এইজন্য জীবনে চলতে হলে পড়াশোনা করা একান্ত জরুরী।

যদি আপনি কোন ডিগ্রী অর্জন করতে না পারেন তাহলে ক্ষতি নেই তবে বেসিক পড়াশোনা আপনাকে করতেই হবে।

২. পরিষ্কার ধারণা জন্মায়

ইনফর্মেশন এর অভাবে আমাদের মনে বিভিন্ন ধরনের নেগেটিভ এবং আবছা ধারণা জন্মায়। পড়াশোনা আপনার এই আপনার ধারনা দূর করে পরিষ্কার ধারণা দিতে সাহায্য করবে।

জীবনে চলার পথে অনেক সময় অনেক ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। তবে সেই সমস্যার কিভাবে সমাধান করতে হয় এটি আমরা পড়াশোনা করে শিখতে পারি।

তবে আমি যে শুধু স্কুল বা কলেজের পড়াশোনার কথা এখানে বলছি তা নয়।

যদি আপনি ব্যবসা করেন তাহলে আপনি ব্যবসার বই পড়তে পারেন। যদি আপনি ট্রেডিং করেন তাহলে আপনি ইনভেস্টমেন্টের বই পড়তে পারেন। এরকম বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে। আমি সমস্যার সমাধান করতে হলে আপনার সমস্যার উপর ভিত্তি করে যেকোনো বই বেছে নিয়ে ইনফরমেশন নিতে পারেন।

৩. বিনোদন

আজকালকার দিনের বিনোদনের জন্য আমরা মোবাইল, কম্পিউটার এবং টেলিভিশন ব্যবহার করে থাকি। যেটি আমাদের মস্তিষ্কের ওপর অনেক সময় শারীরিক সমস্যা তৈরি করে থাকে। কিন্তু আমরা এটা বুঝতেও পারিনা।

এইজন্য আপনি বিনোদন হিসেবে বিভিন্ন ধরনের গল্পের বই এবং গোয়েন্দা বই পড়তে পারেন। যেগুলি আপনাকে জ্ঞান বাড়ানোর সাথে সাথে, বিভিন্ন জিনিসের ওপর নতুন নতুন ধারণা দেবে। অর্থাৎ বিনোদনের ক্ষেত্রেও আপনি বইকে কাজে লাগাতে পারেন।

৪. অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি হয়

পৃথিবীতে কয়েক কোটি কোটি বই রয়েছে। এবং প্রত্যেকটি লেখক তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রত্যেকটি বইয়ের রচনা করেছেন।

একটি নির্দিষ্ট বইয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান লুকিয়ে থাকে। এবং যদি আপনি সে সমস্ত বইগুলি পড়ে নিতে পারেন তাহলে জীবনে চলার পথে আপনার বড় ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি হবে।

এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আপনি জীবনের একটি বড় পর্যায়ে বা বড় লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন। অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করার জন্য পড়াশোনা করা একান্তই জরুরি।

৫. স্মার্ট হওয়া যায়

নতুন নতুন কথাবার্তা শেখা, পোশাক পরিচ্ছন্নতা, কোথায় কেমন ব্যবহার করতে হয় এই সমস্ত কিছু আপনি বই থেকে শিখতে পারবেন। আর আপনি যত বেশি শিখবেন ততো বেশি স্মার্ট হবেন।

আজকের দিনে বিভিন্ন মানুষের সাথে চলাফেরা করা জন্য স্মার্ট হওয়া একান্ত জরুরী। এইজন্য আপনি পড়াশোনা করতে পারেন।

পড়াশোনা না করলে কি হয়?

পড়াশোনা করলে যে উপকার গুলো হয়, পড়াশোনা না করলে এর উল্টো গুলি হবে।

  1. পড়াশোনা না করলে আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হবে না
  2. নতুন নতুন জিনিস সম্পর্কে অভিজ্ঞতা তৈরি হবে না
  3. আপনি স্মার্ট হতে পারবেন না
  4. সমস্যার সঠিক সমাধান খুঁজে পাবেন না
  5. কোন বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে না
  6. ইত্যাদি।

বেশি পড়াশোনা করলে কি হয়?

যদি আপনি একটি বিষয়ের ওপর মনোযোগ দিতে পারেন তাহলে আপনাকে বেশি পড়াশোনা করার প্রয়োজন পড়বে না। যদি আপনি শুধুমাত্র শারীরিক কষ্ট দিয়ে পড়াশোনা করার চেষ্টা করেন তাহলে লাভ তো হবেই না, অন্যথায় এর উল্টো হবে।

অর্থাৎ আপনি বেশি পড়াশোনা করবেন কিন্তু সেই পড়াশোনা বেশিদিন মনে রাখতে পারবেন না। এইজন্য কম সময়ের মধ্যে মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করুন। এবং যেটুকু পরিচয় সেটাকে মাথায় এমনভাবে ঢুকিয়ে নিন যেন সেটা সারা জীবন মনে থাকে।

বেশি পড়াশোনা করলে আপনার মাথায় চাপ পড়বে ও এর কারণে আপনার মাথা ব্যথা করতে পারে এবং একভাবে বসে বা শুয়ে পড়ার কারণে আপনার শরীর ক্লান্ত হয়ে যাবে এবং পিঠ ব্যথা করবে।

কি করলে পড়াশোনা ভালো হয়?

মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে সব থেকে ভালো হয়। অনেকেই আছে শুধুমাত্র মানুষকে শোনানোর জন্য পড়াশোনা করে।

অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছে, যারা সারাদিন বই নিয়ে বসে থাকে কিন্তু মন থাকে অন্যদিকে।

এই জন্য যেটুকু পড়াশোনা করেছেন মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার চেষ্টা করুন। এবং পড়াশোনা করার সময় যে সকল জিনিস আপনাকে ডিস্টার্ব করে সেগুলি আপনি দূরে সরিয়ে দিন। যেমন মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি।

এবং একদম সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়াশোনা করার চেষ্টা করুন। কারণ এই সময় আপনার মস্তিষ্ক চিন্তা মুক্ত থাকে এবং ভালো পড়াশোনা হয়।

আর যদি তা না পারেন তাহলে শান্ত পরিবেশে পড়াশোনা করে চেষ্টা করুন তাহলে পড়াশোনা ভালো হবে।

উপসংহার

আশা করছি আজকের আর্টিকেল থেকে পড়াশোনা করলে কি হয় এবং পড়াশোনা না করলে কি হয় – এই দুটি প্রশ্নের স্পষ্ট ধারণা পেয়ে গেছেন। যদি এই দুটি প্রশ্নের উত্তর বুঝতে আপনার এখনো কোনো অসুবিধা হয় তাহলে আপনি কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা কমেন্টের মাধ্যমে আপনাকে পুনরায় সাহায্য করার চেষ্টা করব।

আরও পড়ুন

Sanju

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment