পড়ার রুটিন বানানোর নিয়ম – পড়ার রুটিন তৈরি করা শিখুন

যারা সর্বদা ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করে, সেই সমস্ত স্টুডেন্ট বেশিরভাগ সময় পড়ার রুটিন তৈরি করে বা স্টাডি টাইম টেবিল তৈরি করে, পড়াশুনা করে।

যদি আপনিও পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে চান এবং যেকোন বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে চান এবং সঠিক বিষয় এর জন্য সঠিক সময় দিতে চান, তাহলে আপনাকেও পড়ার রুটিন বানাতে হবে।

কিন্তু অনেক ব্যক্তি জানেন না কিভাবে পড়ার রুটিন বানাতে হয় এবং পড়ার রুটিন বানিয়ে পড়াশোনা করার উপকারিতা গুলি কি কি।

এই জন্য সেই সমস্ত স্টুডেন্ট এর উদ্দেশ্যে আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা পড়ার রুটিন বানানোর নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করব। যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই পড়ার রুটিন তৈরি করতে পারবেন।

তাই যদি আপনিও পড়ার রুটিন তৈরি করতে চান তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে একবার পড়ে নিন।

পড়ার রুটিন তৈরি করার উপকারিতা

পড়ার রুটিন তৈরি করলে আপনি অনেক সুবিধা পাবেন। এবং নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে খুব সহজেই শিখে নিতে পারবেন। পড়ার রুটিন তৈরি করার উপকারিতা গুলি দেখে নিন।

  1. আপনি কম সময়ে এবং খুব সহজে একটি বিষয়ের উপর মন লাগাতে পারবেন
  2. আপনি সামাজিক শারীরিক এবং অধ্যায়ন জীবনকে আলাদাভাবে সময় দিতে পারবেন
  3. আপনি শান্ত থাকতে পারবেন
  4. আপনার মন দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকবে
  5. সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি হবে
  6. যেকোনো সম্পর্ক সময়ের সাথে পরিচালনা করতে পারবেন
  7. পড়াশোনায় উন্নতি লাভ করবেন।

পড়ার রুটিন বানানোর নিয়ম

পড়ার রুটিন বানানোর জন্য আপনি সব থেকে আগে একটি তালিকা তৈরি করুন। যার মধ্যে আপনি ঘুম থেকে উঠার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত যে কাজ গুলি করেন সেগুলি একটি একটি করে নথিভূক্ত করুন।

যেমন –

  • ব্যায়াম করা
  • সকালের খাবার খাওয়া
  • স্কুল যাওয়া
  • খেলাধুলা করা
  • প্রাইভেটে যাওয়া
  • ইত্যাদি।

এরপর আপনি যে যে বিষয়গুলি সম্পর্কে পড়াশোনা করেছেন সেই সমস্ত বিষয়গুলি একটি একটি করে লিখুন।

মানে সবকটি সাবজেক্ট একটির পর একটি লিখে ফেলুন।

এই দুটি তালিকা তৈরি হয়ে গেলে আপনি এবার এটা দেখুন যে, দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বাদ দিয়ে আপনার হাতে আর কত সময় আছে।

যেমন স্কুল, কলেজ জীবন আর ঘুম ছাড়া, আপনার হাতে আর কতটা সময় অবশিষ্ট আছে

এই অবশিষ্ট সময়ের হিসাবে আপনাকে পড়ার রুটিন তৈরি করতে হবে।

প্রথম তালিকা থেকে যে যে কাজগুলি আপনার ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় সেগুলিকে পুরোপুরিভাবে তালিকা থেকে বাদ দিন এবং পরবর্তী দিন থেকে এই সমস্ত কাজ গুলি আপনি না করার সিদ্ধান্ত নিন।

যেমন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া, বাইক চালিয়ে ঘুরতে যাওয়া, অকারনে মোবাইল ঘাটা ইত্যাদি।

যে সমস্ত কাজগুলি গুরুত্বপূর্ণ নয় সেগুলি না করলে আপনার হাতে আরও কিছু সময় চলে আসবে। আমি সেই সময়টাও পড়াশোনার রুটিন এর ভেতর যুক্ত করতে পারেন।

এরপর আপনি টাইম টেবিল তৈরি করা শুরু করুন।

যেমন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর কোন বিষয়টি পড়বেন, স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর কোন বিষয়টি করা উচিত এবং সন্ধ্যাবেলা রাতে ঘুমাতে যাবার আগে কোন বিষয়গুলি প্রশ্ন করবেন।

এইভাবে প্রত্যেকটি বিষয় দিনের কোন সময় পড়বেন তার সময় অনুযায়ী লিখুন। এবং এমন ভাবে টাইম লিখুন, যেন আপনি দিনে ৩-৪ টি বিষয় সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে পারেন।

এইভাবে টাইম টেবিল তৈরি করার পর আপনি একবার যাচাই করে নিন যে আপনি যে বিষয়গুলোতে দুর্বল সেগুলিকে বেশি সময় দিচ্ছেন তো। নাকি শুধুমাত্র সহজ বিষয় গুলিতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেছেন।

যে বিষয়গুলি আপনি খুব সহজে বুঝতে পারেন, সেগুলোতে কম সময় দিন এবং যেগুলি বুঝতে কষ্ট হয়, সেইসব বিষয়গুলো নিয়ে বেশি পড়াশোনা করুন।

এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে পড়াশোনা করবেন সেগুলো যেন খুব সহজে বুঝতে পারেন। মানে খুব সহজ বিষয় নিয়ে তখন পড়াশোনা করুন। তা না হলে অতিরিক্ত চাপের কারণে আপনার ঘুম পেয়ে যাবে। এবং তখন একদমই পড়া হবে না।

পড়ার রুটিন কিভাবে তৈরি করব?

অনেকেই পড়ার রুটিন কিভাবে তৈরি করতে হয় এই সম্পর্কে বুঝতে পারেনা। কিন্তু নিজস্ব পড়ার রুটিন সময় অনুযায়ী নিজেদেরকেই করতে হবে।

এখানে আমি একটি উদাহরণ হিসাবে পড়ার রুটিন তৈরি করছি। আপনারা এটি দেখে নিয়ে নিজেদের সময় এবং বিষয় হিসেবে রুটিন তৈরি করে নেবেন।

  • সকাল ৭ টা থেকে ৯ টা – Subject 1 & 2
  • ৯ টা থেকে ১০ টা – স্নান করা এবং খাওয়া-দাওয়া
  • ১০ টা থেকে ৪ টা – স্কুল বা কলেজে থাকা এবং দুপুরের খাবার খাওয়া
  • ৪ টা থেকে ৫ টা – খেলাধুলা বা ব্যায়াম করা
  • ৫ টা থেকে ৯ টা – Subject 3, 4, 5
  • ৯ টা থেকে ১০ টা – রাতের খাবার খাওয়া এবং পরিবারের সাথে সময় কাটানো
  • ১০ টা থেকে ১০.৩০ মিনিট – টিভি দেখা
  • ১০.৩০ থেকে সকাল ৬ টা – ঘুমানো

এরকমভাবে আপনি নিজের সময় অনুযায়ী একটি স্টাডি টাইম টেবিল তৈরি করে নেবেন।

রুটিন ফলো করার সময় যেগুলি করবেন

যদি আপনি রুটিন তৈরি করে ফেলেন তাহলে রুটিন ফলো করার সময় আপনাকে এই তিনটে জিনিস করতে হবে। এই তিনটে জিনিস যদি আপনি করতে পারেন তাহলে খুব সহজেই আপনি আপনার দিনের রুটিন গুলি সময় অনুযায়ী ফলো করতে পারবেন। এই তিনটি জিনিস সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

১. বিষয় পরিবর্তন করে পড়াশোনা করুন

কল করার সময় আপনি সর্বদা বিষয়বস্তু পরিবর্তন করে করে পড়তে থাকুন। কোন বিষয়ের কঠিন জিনিসটি পড়বার পর আবার সহজ জিনিস, আবার কঠিন আবার সহজ বিষয়।

এরকমভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পড়াশোনা করুন। এরকমভাবে পড়াশোনা করলে আপনার মনে পড়াশোনা সম্পর্কে বিরক্তভাব আসবেনা। এবং আপনি খুব সহজে সমস্ত বিষয়গুলি বুঝতে পারবেন।

২. শান্ত জায়গায় পড়াশোনা করুন

রুটিন ফলো করার সময় আপনি এমন জায়গায় পড়াশোনা করুন যেখানে আপনাকে কেউ বিরক্ত করবে না। দরকার হলে আপনি গেট বন্ধ করে ঘরের মধ্যে পড়াশোনা করতে পারেন।

যত নিরিবিলি জায়গায় রুটিনমাফিক পড়াশুনা করবেন তত বেশি আপনি বিষয়গুলি, কম সময়ের মধ্যে বুঝতে পারবেন।

৩. পড়াশোনার সময় মোবাইল দূরে রাখুন

পড়াশোনা করার সময় মোবাইল দূরে সরিয়ে রাখুন। কারণ মোবাইল হাতের কাছে থাকলে সর্বদা ঘটতে ইচ্ছা করবে। যার কারণে আপনি পড়াশোনায় মন লাগাতে পারবেন না।

পড়ার রুটিন কোথায় রাখবেন?

অনেকের মনে হয়ত এই প্রশ্নটা থেকে থাকবে যে “রুটিন তো বানিয়ে ফেলেছি কিন্তু এটাকে কোথায় রাখব?”

অনেক স্টুডেন্ট রুটিন বানানোর পর, রুটিনটি আলমারি বা ব্যাগের মধ্যে রেখে দেন। এবং যে কারণে তারা অনেক সময় রুটিনের কথা ভুলেই যায়। এবং রুটিন অনুযায়ী তারা পড়াশোনা করে না।

এই জন্য সর্বদা আপনাকে পড়ার রুটিন চোখের সামনে রাখতে হবে। আপনি যে টেবিলে পড়াশোনা করেন সেই টেবিলের ওপর রুটিনটা রেখে দিন। এবং এমন ভাবে রাখুন যেন রুটিনের সময়সীমা এবং বিষয়বস্তু গুলি, খুব সহজে আপনার চোখে পড়ে।

পরীক্ষার আগে পড়ার রুটিন কিভাবে তৈরি করবেন

পরীক্ষার আগে রুটিন তৈরি করার জন্য আপনাকে নতুন করে একটি স্টাডি টাইম টেবিল বানাতে হবে।

এবং এই তালিকায় আপনার অবশিষ্ট সময়ে, আপনি যে সমস্ত বিষয়গুলি সম্পর্কে সবথেকে বেশি দুর্বল সেগুলি সর্বপ্রথম রাখুন।

এবং এই বিষয়গুলি সম্পর্কে ভালোভাবে অধ্যায়ন করুন। এবং চার ভাগের এক ভাগ সময় বাকি বিষয়গুলোতে নিবেশ করুন।

সপ্তাহে ছয়দিন স্টাডি টাইম টেবিল অনুযায়ী পড়াশোনা করার পর, একটি দিন বাকি জিনিসগুলোকে পুনরায় রিভাইজ করুন।

এবং এক্ষেত্রে আপনি বুঝতে পারবেন সপ্তাহ শেষ হওয়ার পরও আপনি কোন জিনিষগুলিতে দুর্বল। এবং পরের সপ্তাহে এই জিনিসগুলোর উপর ভিত্তি করে টাইম টেবিল বানান। এবং পরীক্ষার আগে পর্যন্ত এইভাবে চালিয়ে যান।

আপনি এইভাবে পড়াশোনা করতে করতে বুঝতেই পারবেন না কখন সবকটি বিষয় সম্পর্কে আপনার ভালোভাবে জ্ঞান হয়ে গেছে। এবং সব বিষয়গুলো আপনার আয়ত্তে এসে গেছে।

উপসংহার

আশাকরি উপরের ইনফরমেশন থেকে পড়ার রুটিন বানানোর নিয়ম এবং কিভাবে পড়ার রুটিন তৈরি করতে হয় এই সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। আপনি যদি এইভাবে পড়াশোনা করতে চান তাহলে আজকেই একটি স্টাডি টাইম টেবিল বানিয়ে ফেলুন।

এবং এইভাবে পড়াশোনা চালিয়ে গেলে আপনি দেখবেন আপনি আগের থেকে অনেক ভালো ভাবে যেকোন বিষয় সম্পর্কে শিখতে ও জানতে পারছেন। এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে অধ্যয়ন করতে, আপনার সময়ও কম লাগছে।

আরও পড়ুন

শেয়ার করতে চান!
  •  
  •  
  •  
  •  

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment