দিনে কত ঘন্টা পড়া উচিত | কিভাবে পড়া উচিত

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন যে দিনে কত ঘন্টা পড়া উচিত। এবং এই জন্য এই বিষয়টি অনেকে ইন্টারনেটে খুঁজে থাকে। অনেক সময় এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর না পাওয়ার কারণে অনেক ছাত্র-ছাত্রীর মনেই এই প্রশ্নটি থেকেই যায়।

এই জন্য আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা এই সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করব। এখান থেকে আপনি, দিনে কত ঘন্টা পড়া উচিত এই প্রশ্নটির উত্তর পাওয়ার সাথে সাথে, কিভাবে পড়া উচিত এবং পড়াশোনা করার সঠিক সময় কোনটি এই সম্পর্কেও জানতে পারবেন।

যদি আপনি পড়াশোনা সম্পর্কিত এই তিনটি প্রশ্ন আপনার মন থেকে দূর করতে চান তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন। আশা করছি আর্টিকেলটি আপনাকে সাহায্য করতে পারবে।

দিনে কত ঘন্টা পড়া উচিত?

যেকোনো জিনিস মনোযোগ দিয়ে পড়লে খুবই কম সময় লাগে। যদি আপনি মনোযোগ দিয়ে কোন বিষয়ের উপর আয়ত্তে আনতে পারেন তাহলে আপনি এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই সমস্ত বিষয়গুলি পড়ে ফেলতে পারবেন।

আরজে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে না তাকে যদি 24 ঘন্টা সময় দেয়া হয় তাহলেও সে কিছু শিখতে পারবে না।

দিনে কয় ঘন্টা পড়া উচিত এর উত্তর আপনার কাছেই আছে। আপনি যদি ফোকাসের সাথে পড়াশোনা করেন তাহলে খুব তাড়াতাড়ি যে কোন বিষয় শিখতে পারবেন।

আর যদি পড়াশোনা করার সময় মন অন্য দিকে থাকে তাহলে আপনি 10 ঘন্টা পড়লেও নির্দিষ্ট বিষয়টা আপনার মাথায় ঢুকবে না।

সুতরাং এক কথায় বলতে গেলে,

1 ঘন্টা মনযোগ দিয়ে পড়া = 10 ঘন্টা অমনোযোগী হয়ে পড়া।

আপনি দিনে কত ঘন্টা পড়বেন এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার উপর।

যদি আপনি একটি বিষয়ের মধ্যে মন লাগাতে পারেন তাহলে আপনি 30 থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে ওই বিষয়টি আয়ত্ত করে নিতে পারবেন।

যদি আপনি সিরিয়াস ছাত্র হন তাহলে আপনি প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য আধঘণ্টা করে সময় লাগান।

এক ঘণ্টার মধ্যে দুটি বিষয় সম্পন্ন করে আধ ঘণ্টা বিরতি নেয়ার পর পরবর্তী কালে আবার অন্য বিষয়গুলো নিয়ে বসতে পারেন।

কিংবা সকালে এক ঘন্টা, সন্ধ্যায় এক ঘন্টা এবং রাতে এক ঘন্টা পড়ে সমস্ত বিষয়গুলি ভাগে ভাগে সম্পন্ন করে নিতে পারেন। আমি মনে করি 3 ঘন্টা সময় প্রত্যেকদিন পড়ার জন্য যথেষ্ট।

কিভাবে পড়া উচিত?

পড়তে বসার সময় আপনি প্রথমে আপনার মোবাইল এবং ল্যাপটপকে দূরে রাখুন। এবং সমস্ত মনোযোগ আপনার বইয়ের উপর লাগানোর চেষ্টা করুন।

যে বিষয়টি নিয়ে পড়েছেন সেই বিষয়টি বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনি যখন বইটি পড়বেন তখন আপনার বইটির প্রতি আগ্রহ জন্মাবে। এবং বুঝে পড়লে আপনি খুব সহজে নির্দিষ্ট বিষয়টি শিখে নিতে পারবেন।

কিভাবে পড়া উচিত – একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি বিষয়ের উপর ফোকাস করুন এবং যতক্ষণ না নির্দিষ্ট বিষয়টি আয়ত্তে আসে, অন্য কোন বিষয় হাতে নেবেন না।

এবং এই বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে বুঝে উঠলে পরবর্তী বিষয়টিতে যান। এরকমভাবে ধীরে ধীরে প্রত্যেকটি বিষয় মনোযোগের সাথে পড়তে থাকুন।

এবং দুইদিন পরে সেই বিষয়টি আবার খুলে দেখুন এবং পুনরায় বোঝার চেষ্টা করুন।

এভাবে রিভাইস করতে থাকলে আপনি নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে খুব তাড়াতাড়ি শিখে নেবেন এবং সেটি কখনোই ভুলবেন না।

পড়াশোনা করার সঠিক সময়

পড়াশোনা করার সঠিক সময় হলো একদম সকালে। অর্থাৎ ভোর পাঁচটা থেকে সাতটার মধ্যে। কারণ এই সময়ে মন চিন্তা মুক্ত থাকে এবং বেশি লোক ঘুম থেকে না ওঠার কারণে পরিবেশ শান্ত থাকে।

শান্ত পরিবেশে এবং চিন্তা মুক্ত হয়ে পড়াশোনা করলে সব থেকে তাড়াতাড়ি পড়াশোনা করা যায়। এইজন্য ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে পড়াশোনা করার চেষ্টা করুন।

উপসংহার

আশা করি আজকের এই আর্টিকেল থেকে দিনে কত ঘন্টা পড়া উচিত এবং কখন পড়া উচিত এই সম্পর্কে বিস্তারিত ইনফর্মেশন পেয়ে গেছেন। যদি আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনি আপনার বন্ধু বান্ধবের সাথে আর্টিকেলটি শেয়ার করতে পারেন। হতে পারে তারাও এই একই সমস্যার মধ্যে আবদ্ধ রয়েছে। আর যদি আর্টিকেলটি সম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আপনি কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

আরও পড়ুন

Sanju

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment