ডিজিটাল কম্পিউটার কাকে বলে ও কত প্রকার

বর্তমান যুগ হলো কম্পিউটারের যুগ। আজকাল প্রতিটি ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আকার এবং কার্য ক্ষমতার ভিত্তিতে কম্পিউটারের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। আর সবথেকে বেশি যে ধরনের কম্পিউটার ব্যবহার করা হয় সেটি হলো ডিজিটাল কম্পিউটার।

আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা ডিজিটাল কম্পিউটার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। যদি আপনিও লিডার কম্পিউটার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন তাহলে আজকের এই আর্টিকেল থেকে ডিজিটাল কম্পিউটার কাকে বলে, ডিজিটাল কম্পিউটারের জনক কে এবং ডিজিটাল কম্পিউটার কত প্রকার ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর গুলো জেনে নিন।

ডিজিটাল কম্পিউটার কি?

ডিজিটাল কম্পিউটার হল এক ধরনের ডিজিটাল সিস্টেম। যে সিস্টেম এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার গণনামূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়।

যে সকল কম্পিউটার বাইনারি নাম্বার নিয়ে কাজ করে সেগুলো হলো ডিজিটাল কম্পিউটার।

বাইনারি নাম্বার বলতে এবং কে বোঝায়। ডিজিটাল কম্পিউটার শুধুমাত্র এই দুটি নাম্বার নিয়ে কাজ করে থাকে। এগুলি হলো মেশিন লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ। যেটি শুধুমাত্র কম্পিউটার বুঝতে পারে।

একটি ডিজিটাল কম্পিউটার তিনটি ধাপে কাজ করে। ইনপুট, প্রসেসিং এবং আউটপুট।

নিজের কম্পিউটার প্রথমে ইউজার এর থেকে ইনপুট গ্রহণ করে সেটিকে প্রসেসিং করে, আউটপুট দেয়।

এই সকল কম্পিউটার গুলি এনালগ কম্পিউটারগুলোর থেকে বেশি পরিমাণ ডাটা সঞ্চয় করতে পারে। এবং খুব সহজে সেই সমস্ত ডাটা গুলি ভবিষ্যতে পাওয়া যায়।

এটিও জেনে নিন -  ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস কাকে বলে?

ডিজিটাল কম্পিউটার দ্রুত এবং নির্ভুল ভাবে কাজ করার জন্য, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িতে বাড়িতে, ডিজিটাল কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

ডিজিটাল কম্পিউটার কাকে বলে?

যে সকল কম্পিউটার বাইনারি নাম্বার সিস্টেম ব্যবহার করে গণনামূলক কাজ করে সেই সকল কম্পিউটার গুলিকে বলা হয় ডিজিটাল কম্পিউটার।

বর্তমান যুগে ডিজিটাল কম্পিউটারের প্রচলন সবথেকে বেশি। এবং কাজের ভিত্তিতে এই ধরনের কম্পিউটারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। যেগুলি আমরা নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

ডিজিটাল কম্পিউটার বলতে কি বুঝায়?

আমরা আগেই বলেছি যে ডিজিটাল কম্পিউটার শুধুমাত্র বায়োনারি নাম্বার নিয়ে কাজ করে থাকে।ডিজিটাল কম্পিউটার কে যে ডাটাগুলি দেওয়া হয় সেগুলি প্রথমে সে বাইনারি নাম্বার এ কনভার্ট করে নেয়।

এরপর সেগুলিকে প্রসেসিং করে ইউজারের সামনে পুনরায় high level ল্যাংগুয়েজ এ কনভার্ট করে, আউটপুট দেয়।

আজকের এই আধুনিক যুগে যে সকল কম্পিউটার গুলি ব্যবহার করা হয় সেগুলির মধ্যে বেশিরভাগ ডিজিটাল কম্পিউটারের অন্তর্ভুক্ত।

ডিজিটাল কম্পিউটার এর উদাহরণ

ডেক্সটপ, মোবাইল, ল্যাপটপ এবং স্মার্ট ফোন এই সবকিছু ডিজিটাল কম্পিউটার এর উদাহরণ।

কারণ, এই সকল ডিভাইসগুলি বাইনারী সিস্টেমে ইনপুট গ্রহণ করে কাজ করে থাকে।

ডিজিটাল কম্পিউটারের জনক কে?

ডিজিটাল কম্পিউটারের জনক হলেন জন ভন নিউম্যান। যিনি হাঙ্গেরীয় বংশদূত ও একজন মার্কিন গণিতবিদ ছিলেন।

ডিজিটাল কম্পিউটার কত প্রকার?

আকার এবং কার্য ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে ডিজিটাল কম্পিউটার কে সাধারণত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলি হল

১) সুপার কম্পিউটার

এই ধরনের কম্পিউটার গুলির মধ্যে একের বেশি প্রসেসর অন্তর্ভুক্ত করা থাকে। যার মাধ্যমে একই সময়ে একাধিক কাজ করা সম্ভব হয়।

একটি সুপার কম্পিউটার প্রতি সেকেন্ডে কয়েক লক্ষ নির্দেশ নিয়ে কাজ করতে পারে। এবং এই ধরনের কম্পিউটার একইসাথে একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করে থাকে।

বিশেষ করেই বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিজ্ঞানীরা এই ধরনের কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে।

এটিও জেনে নিন -  কম্পিউটার এর সুবিধা ও অসুবিধা (উপকারিতা ও অপকারিতা)

বিভিন্ন ধরনের গবেষণা, রসায়ন, মহাকাশ বিজ্ঞান, পেট্রোলিয়াম শিল্প, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে এই ধরনের কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

২) মিনি কম্পিউটার

এই ধরনের কম্পিউটার এগুলি মাল্টিপ্রসেসিং এর জন্য সবথেকে বেশি ব্যবহার করা হয়। এবং সাধারণ কম্পিউটার থেকে এ ধরনের কম্পিউটার গুলি একটু ছোট।

বিভিন্ন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তিগত গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে মিনি কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের কম্পিউটারে একাধিক ইনপুট আউটপুট ডিভাইস থাকে।

৩) মাইক্রো কম্পিউটার

বর্তমান দিনে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করার জন্য যে সকল কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে এগুলি সব মাইক্রোকম্পিউটার এর মধ্যে পড়ে।

ল্যাপটপ, মোবাইল, ট্যাবলেট এ সমস্ত কিছু মাইক্রো কম্পিউটার এর উদাহরণ।

এ সমস্ত ডিভাইসগুলি একজন ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করার কারণে এগুলোকে পার্সোনাল কম্পিউটার ও বলা হয়।

৪) মেইনফ্রেম কম্পিউটার

সাধারণ কম্পিউটার তুলনায় এই ধরনের কম্পিউটারে উচ্চ গতি এবং ক্ষমতা সম্পন্ন প্রসেসর লাগানো থাকে।

এ ধরনের কম্পিউটারের প্রচুর পরিমাণে স্টোরেজ স্পেস এবং হাইগ্রেড প্রসেসর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এই ধরনের কম্পিউটার প্রচুর পরিমাণে ডাটা ধারণ করার ক্ষমতা এবং জটিল কাজগুলি খুব সহজে সমাধান করার জন্য বড় বড় ক্ষেত্রে এগুলোকে ব্যবহার করা হয়।

বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পরিসংখ্যান ও আদমশুমারির জন্য এই কম্পিউটার গুলি কাজে লাগে। তবে এটি সুপার কম্পিউটার থেকে কম ক্ষমতা সম্পন্ন।

ডিজিটাল কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য

  1. এনালগ কম্পিউটার থেকে ডিজিটাল কম্পিউটারের কাজ করার গতি বেশি।
  2. কর্মক্ষমতা এবং প্রসেসিং স্পিড বেশি।
  3. বেশিরভাগ সময় নির্ভুল ভাবে যে কোন কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
  4. বড় মেমোরি স্লট থাকার কারণে এই ধরনের কম্পিউটার বেশি পরিমাণ ডাটা সংগ্রহ করতে পারে।
  5. এই ধরনের কম্পিউটার ব্যবহার করা খুবই সহজ।
  6. বিদ্যুৎ খরচ কম হয়।
  7. এই ধরনের কম্পিউটার খুব কম মূল্যে পাওয়া যায়।
  8. কাজ করার জন্য বেশি যোগ্য ব্যক্তির দরকার নেই।
  9. বিভিন্ন ধরনের ইনপুট এবং আউটপুট ডিভাইস থাকে।
  10. কিবোর্ড এবং মাউস এর মাধ্যমে খুব সহজে ইনপুট দেওয়া যায়।
  11. মনিটর স্কিন এর মাধ্যমে খুব সহজে আউটপুট দেখা যায়।
এটিও জেনে নিন -  স্পেশাল কি (key) কাকে বলে ও এর উদাহরণ

ডিজিটাল কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা

  • যেকোনো ব্যক্তি এ ধরনের কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে
  • অন্যান্য কম্পিউটারের তুলনায় দাম অনেক কম
  • বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম ইনস্টল করি এই ধরনের কম্পিউটার নিয়ে কাজ করা যায়
  • নির্ভুলভাবে যেকোনো তথ্য খুব সহজে পাওয়া যায়
  • বিদ্যুৎ খরচ কম
  • একসাথে একাধিক কাজ করতে পারবেন
    ডাটা সঞ্চয় করে সেগুলি পরবর্তীকালে ব্যবহার করতে পারবেন
  • খুব সহজে অ্যাক্সেস করা যায়
  • ইত্যাদি।

ডিজিটাল কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে?

ডিজিটাল কম্পিউটার চারটি পদ্ধতিতে কাজ করে থাকে। নিচে এগুলি বিশদভাবে আলোচনা করা হলো।

১) ইনপুট

প্রথমে কোন ব্যবহারকারী কম্পিউটারকে দিয়ে যে কাজটি করতে চাইছেন তার ইনপুটটি দিয়ে থাকে। কম্পিউটার ব্যবহারকারীর ইনপুটগুলি বায়োনারি ফর্মে গ্রহণ করে।

২) স্টোরেজ

এবং এরপর সেই ইনপুট গুলি, প্রক্রিয়াকরণ করার জন্য স্টোরেজ ডিভাইসের মধ্যে স্টোর বা সঞ্চয় করে।

৩) প্রসেসিং

এরপর নির্দিষ্ট ইনপুট গুলি প্রসেসিং করার জন্য স্তরেজ ডিভাইস থেকে ডাটা গুলি গ্রহণ করে প্রসেস করে।

৪) আউটপুট

প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর, বাইনারি ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে হাই লেভেল ল্যাংগুয়েজ পরিবর্তন করে, ইউজারকে আউটপুট দেয়।

উপসংহার

আশা করি আজকের ইনফর্মেশন থেকে ডিজিটাল কম্পিউটার কি এবং ডিজিটাল কম্পিউটারের জনক কে এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। যদি এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে আমরা এখনো কিছু জানার থাকে তাহলে আপনি কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

আরও জানুন

Sanju

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment