ডাক্তার কিভাবে হওয়া যায় | ডাক্তারি পড়ার যোগ্যতা ও খরচ

ডাক্তার কিভাবে হয় – অনেকের স্বপ্ন থাকে ডাক্তার হওয়া। এবং তারা এই স্বপ্ন পূরণের আশায় কিভাবে ডাক্তার হতে হয় এই সম্পর্কে অনেকের কাছে জানতে চায়। কিন্তু সঠিক ইনফরমেশন না থাকার কারণে অনেক সময় তারা ভুল রাস্তায় চলে যায়।

এই জন্য আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা আপনাকে ডাক্তার কিভাবে হওয়া যায় এই সম্পর্কে বলবো। যেখান থেকে আপনি ডাক্তার কিভাবে হয়, ডাক্তারি পড়ার যোগ্যতা ও খরচ কত এই সম্পর্কে জানতে পারবেন।

যদি আপনি ভবিষ্যতে একজন ডাক্তার হতে চান তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করবে। এবং আপনি এখান থেকে ডাক্তার হওয়ার সমস্ত ইনফরমেশন পেয়ে যাবেন। তাই দেরি না করে একটি একটি করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।

ডাক্তার কিভাবে হওয়া যায়?

ডাক্তার হওয়ার জন্য আপনার কাছে MBBS ডিগ্রী থাকতে হবে। এটি 5 বছরে একটি কোর্স যেখানে চার বছর পড়ানো হয় এবং 1 বছর ইন্টারসিপ করতে হয়।

এই ডিগ্রী মেডিকেলে এন্ট্রি কার্ডের মত কাজ করে থাকে। এটি আপনার কাছে না থাকলে আপনি কোনমতেই মেডিকেলে প্রবেশ করতে পারবেন না।

ডাক্তারি পড়ার যোগ্যতা

দশম শ্রেণী পাশ করবার পর আপনাকে দ্বাদশ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য সাইন্স বেছে নিতে হবে। যার মধ্যে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি এবং বায়োলজি থাকা আবশ্যক।
দ্বাদশ শ্রেণীতে ৫০% এর বেশি মার্কস নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।
এমবিবিএস এর জন্য এপ্লাই করার সময় আপনার বয়স নূন্যতম 17 এবং অধিকতর 25 বছরের মধ্যে হতে হবে।
ইংরেজি ল্যাংগুয়েজ সম্পর্কে বিশেষ দক্ষতা থাকতে হবে। কারণ সমস্ত সাবজেক্ট ইংরেজিতেই হয়।

Medical Entrance Exam (প্রবেশ পরীক্ষা)

যদি আপনি ডক্টর হওয়ার জন্য মেডিকেল কলেজে প্রবেশ করতে চান তাহলে আপনাকে এন্ট্রান্স এক্সাম দিতে হবে।

যার প্রস্তুতি আপনাকে ক্লাস ইলেভেন থেকেই শুরু করতে হবে এবং এন্ট্রান্স এক্সাম এর ফরম ফিলাপ দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার আগেই শুরু হয়ে যায়। এন্ট্রান্স এক্সাম, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কিছুদিন পরেই সম্পন্ন হয়।

এইজন্য আপনাকে দুটি পরীক্ষা ভালো ভাবে দিয়ে, ভালো মার্কস এর সাথে পাস করতে হবে।

যদি আপনি এন্ট্রান্স এক্সামে পাস করে যান তাহলে উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরোনোর পর আপনি সেই রেজাল্ট নিয়ে যেকোন মেডিকেল কলেজে এডমিশন নিতে পারবেন।

আগে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য State Level Medical Entrance Exam , AIIMS Entrance Examination , NEET ইত্যাদি যেকোনো একটি এন্ট্রান্স এক্সাম দিতে হতো।

কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র NEET এক্সাম নেওয়া হয়। এই এক্সাম এর উপর ভিত্তি করে আপনি মেডিকেল কলেজে প্রবেশ করতে পারবেন। এইজন্য একাদশ শ্রেণীতে ওঠার সাথে সাথেই আপনার NEET এক্সাম এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

প্রবেশ পরীক্ষা পাস করার পর কি করবেন?

প্রবেশ পরীক্ষায় পাশ করার পর আপনার রেংকিং অনুযায়ী, এমবিবিএস করার জন্য সিলেক্টেড মেডিকেল কলেজে আবেদন করতে পারবেন।

সেখানে এডমিশন নেওয়ার পর আপনাকে সাড়ে চার বছর পড়াশোনা করতে হবে এবং এক বছর ইন্টার্নশিপ করতে হবে।

ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন হওয়ার পর মেডিকেল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (MCI) এর দ্বারা আপনাকে মেডিকেল ডিগ্রী দেওয়া হবে। যার পর, আপনি যে কোন হসপিটালে ডাক্তার হতে পারবেন।

যদি আপনি কোন জিনিসের উপর স্পেশালিস্ট হতে চান তাহলে আপনি এমবিবিএস করার পর পোস্ট গ্রাজুয়েশন করতে পারেন।

ডাক্তারি পড়ার খরচ

যদি আপনি ভালো Ranking নিয়ে এন্ট্রান্স এক্সাম পাস করতে পারেন তাহলে আপনি সরকারি কলেজে ভর্তি হবার সুযোগ পাবেন। নচেৎ আপনাকে কম Ranking এর জন্য বেসরকারি কলেজে ভর্তি হতে হবে।

যদি আপনি সরকারি কলেজ থেকে ডাক্তারি পারেন তাহলে বছরে কুড়ি থেকে ত্রিশ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। এবং যদি আপনি প্রাইভেট কলেজ থেকে ডাক্তারি পড়েন তাহলে সরকারি কলেজের দশগুণ অর্থাৎ, 5 লক্ষ থেকে ত্রিশ লক্ষ টাকা খরচ করতে হবে।

ডাক্তার হয়ে কত টাকা আয় করতে পারবেন?

এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করার পরে যে কোন হাসপাতালে প্রবেশ করলে, starting এ আপনাকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা salary দেওয়া হবে।

যদি আপনি পোস্ট গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করেন তাহলে আপনার স্টার্টিং স্যালারি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা হবে।

এবং আপনার দক্ষতা অনুযায়ী এই salary ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে।

ডাক্তার হতে কত টাকা লাগে?

সরকারি কলেজ থেকে পাশ করলে 10 থেকে 30 হাজার টাকা প্রতিবছর এবং বেসরকারি কলেজ থেকে পাশ করলে 5 থেকে 15 লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়।

ডাক্তারের সর্বোচ্চ ডিগ্রী কি?

MBBS পাস করার পর কিছু ডাক্তার MD (Doctor of Medicine) পাস করে থাকেন, এছাড়া কিছু ডাক্তারগন বিদেশ থেকে Phd ডিগ্রি অর্জন করেন। এই দুটি ডিগ্রী হল ডাক্তারের সর্বোচ্চ ডিগ্রী।

একজন ডাক্তারের মাসিক আয়

একজন ডাক্তারের মাসিক আয় ৫০,০০০ থেকে শুরু করে 15 লাখ পর্যন্ত।

উপসংহার

আশা করছি আজকের এই আর্টিকেল থেকে ডাক্তার কিভাবে হওয়া যায়, ডাক্তারি পড়ার খরচ ও যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝতে পেরেছেন। যদি এখনও এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আপনি কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা কমেন্টের মাধ্যমে আপনাকে সাহায্য করার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

আরও পড়ুন

Sanju

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment