গ্রীন মার্কেটিং কাকে বলে – উদাহরণ ও গুরুত্ব

অনেক কোম্পানি আছে যারা প্রকৃতির কথা, মাথায় না রেখে পণ্য তৈরি করে। যার ফলে প্রকৃতি এবং মানুষের বিরাট ক্ষতি হয়। আবার কিছু কোম্পানি আছে যারা প্রকৃতির কথা মাথায় রেখে পণ্য তৈরি করে থাকে।

আজ আমরা এমনই একটি মার্কেটিং সম্পর্কে আলোচনা করব। যার নাম হল গ্রীন মার্কেটিং বা সবুজ বিপণন

আজকের দিনে এই মার্কেটিং এর কম্পিটিশন খুবই কম। খুব কম সংখ্যক কোম্পানি রয়েছে যারা এই ধরনের প্রোডাক্ট তৈরি করে থাকে।

তো চলুন আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা গ্রীন মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

গ্রীন মার্কেটিং কি?

পরিবেশ বান্ধব প্রোডাক্ট গুলি তৈরি করে সেগুলি গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর পক্তিয়াটি হলো গ্রীন মার্কেটিং।

এখানে সেই সকল পণ্যের মার্কেটিং করা হয় যেগুলি পরিবেশের ক্ষতি না করে, উল্টে পরিবেশের উপকারে আসে।

এখন পরিবেশের কথা মাথায় রেখে অনেকেই পরিবেশ বান্ধব প্রোডাক্ট কিনছেন। তাই সেই সমস্ত ব্যক্তির কাছে নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট গুলো পৌছে দেওয়ার কাজ করছে গ্রীন মার্কেটিং।

গ্রীন মার্কেটিং এর উদাহরণ

পলিথিন হলো একটি ভয়াবহ প্রোডাক্ট। পলিথিন ও প্লাস্টিক এর মত প্রোডাক্ট গুলি না পচে এবং না মাটিতে মিশে, পৃথিবীর জল এবং স্থলের প্রচুর ক্ষতি করছে।

এই জায়গায় পাটের তৈরি ব্যাগ হলো একটি পরিবেশ বান্ধব প্রোডাক্ট। যেগুলি আপনি পলিথিনের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারেন।

গ্রীন মার্কেটিং এর কাজ হচ্ছে পাটের তৈরি ব্যাগ গুলি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

গ্রীন মার্কেটিং কাকে বলে?

পরিবেশ বান্ধব প্রোডাক্ট গুলি তৈরি করে সেগুলি গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর পক্তিয়াটি বলা হয় গ্রীন মার্কেটিং।

গ্রীন মার্কেটিং পণ্য গুলি, পরিবেশগতভাবে নিরাপদ বলে মনে করা হয়।

এই ধরনের মার্কেটিং পণ্য পরিবর্তন, উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন, টেকসই প্যাকেজিং, সেইসাথে বিজ্ঞাপন পরিবর্তন সহ বিস্তৃত ক্রিয়াকলাপকে অন্তর্ভুক্ত করে থাকে।

গ্রীন মার্কেটিং এর গুরুত্ব

  • এটি প্লাস্টিক এবং প্লাস্টিক-ভিত্তিক পণ্যের ব্যবহার হ্রাস করে।
  • এটি প্রাকৃতিক পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় এবং রাসায়নিক পণ্যের ব্যবহার হ্রাস করে।
  • ভেষজ ওষুধ, প্রাকৃতিক চিকিৎসা এবং যোগব্যায়ামের চাহিদা তৈরি করে।
  • এটি প্রকৃতিকে সুস্থ করে তোলে।

গ্রীন মার্কেটিং এর সুবিধা

  1. প্রতিযোগিতা খুবই কম
  2. নতুন কোম্পানি বাজারে প্রবেশ করতে পারে
  3. সামাজিক বিষয়ে সচেতনতা বাড়ায়
  4. বেশি মুনাফা লাভ করার আশা থাকে
  5. কোম্পানিকে দীর্ঘ সময় ধরে মুনাফা অর্জন করতে সহায়তা করে।

গ্রীন মার্কেটিং এর অসুবিধা

  1. প্রাকৃতিক পরিবর্তন আনার জন্য খরচ বেশি
  2. সাধারণ পণ্যের তুলনায় ব্যয়বহুল
  3. ফলে, গ্রাহকরা অনেক সময় প্রাকৃতিক পণ্য গ্রহণ করেন না
  4. কোম্পানিগুলি পরিবেশগত বন্ধুত্ব সম্পর্কে মিথ্যা দাবি করতে পারে।

উপসংহার

আশা করছি আজকের এই আর্টিকেল থেকে গ্রীন মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝতে পেরেছেন। বর্তমানে এই ধরনের মার্কেটিং কম্পিটিশন খুবই কম। এই জন্য আপনিও চাইলে পরিবেশের কথা মাথায় রেখে, এই ধরনের মার্কেটিং করতে পারেন। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

Sanju

আমি সঞ্জু রাউত। আমার বাড়ি কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ। আমি অন্যকে ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তাই আমি এই ব্লগটি ওপেন করি, যার দ্বারা আমার সখ এবং অন্যকে সাহায্য দুটোই সম্ভব হয়।

Leave a Comment